জুন / ১৬ / ২০২১ ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন


গণউপদ্রব আইন ও ছাগলের শাস্তি!

কখনো ভাবিনি শেষপর্যন্ত ছাগল নিয়ে লিখতে হবে। বিষয়ের তো অভাব নেই। বাংলাদেশ হচ্ছে বিষয় জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে অতীব উৎপাদনশীল একটি দেশ। প্রতিদিন জন্ম হচ্ছে নতুন নতুন বিষয়ের। তাই বলে শেষপর্যন্ত ছাগল! এটা একটা বিষয়, যা নিয়ে লিখতে হবে? কথায় বলে- পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়। তবে এখানে ছাগল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস খেয়ে ফেলেছে। আর সেটা হলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফুলের বাগান। ক্ষুব্ধ ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছেন এই বাগান খাদক ছাগলকে। কিন্তু ছাগলের মালিক বগুড়ার আদমদীঘির এক নারী সাহারা বেগম অত্যন্ত দরিদ্র। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা শারমিন যে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন, তা দেয়ার সামর্থ্য তার নেই। বারবার খবর দেয়ার পরও দরিদ্র এই নারী ছাগল নিতে না আসায় এক ব্যক্তির জিম্মায় দেয়া হয় ছাগলকে। এই ছাগল রক্ষক আবার ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড জমা দিয়ে ছাগলটিকে অন্যত্র বিক্রি করে কিছু পয়সা কামিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। বাগানের ফুল গাছ খেকো ছাগলের ওপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি শুরু হওয়ার পর গণউপদ্রব আইনের ব্যবহার ও ইউএনওর ক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। ইউএনও জানান, ফুলের বাগান খেয়ে ফেলা ছাগলকে সতর্ক করে কোনো লাভ হয়নি। তাই ছাগলের মালিককে সতর্ক করতে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে এ ধরনের অপরাধের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ছাগলের অপরাধের বিচারের বিষয়ে বিতর্ক ওঠার পর নিজেই ২ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে গরিব মালিক সাহারা বেগমকে ছাগল ফেরত দিয়েছেন। কিন্তু ছাগলের ওপর অর্থদণ্ড বহাল আছে এখন পর্যন্ত।

অর্থদণ্ড শাস্তিপ্রাপ্ত এই ছাগলের মুক্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করেছেন আদমদীঘির উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম। গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, অর্থ দেয়ার সামর্থ্য ছাগলের গরিব মালিকের ছিল না। তিনিও এই ছাগলের মালিকের পক্ষে অর্থদণ্ড দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু ইউএনও নিজেই অর্থ দিয়ে মালিককে ছাগল ফেরত দিয়েছেন। এক্ষেত্রে শেষপর্যন্ত প্রকৃত শাস্তিটা কার হলো সেটা বোঝা গেল না।

সমস্যাটি এখানে মিটে গেলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে অন্য জায়গায়। ২০১৭ সালের ১২ মে হাইকোর্টের দেয়া এক রায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানোকে বেআইনি বলে উল্লেখ করেছিলেন। সেক্ষেত্রে ফুলগাছ খাওয়ার অভিযোগে ছাগলকে শাস্তি দেয়ার জন্য ইউএনওর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো কতটুকু আইনসম্মত হয়েছে সেই প্রশ্ন উঠছে। ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখলাম, জনউপদ্রব আইন বলে যে আইনে ছাগলকে শাস্তি দেয়া হয়েছে, এ ধরনের কোনো আইন নেই। তবে ১৮৬০ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৮ ধারায় জনউপদ্রব সৃষ্টির জন্য শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। ক্ষুব্ধ ইউএনও সম্ভবত ফৌজদারি কার্যবিধির এই ধারাটি ব্যবহার করেছেন, তবে ছাগলের ক্ষেত্রে এই ধারার ব্যবহার যৌক্তিক কিনা সে প্রশ্ন উঠছে। এছাড়া নিরীহ ছাগল যখন এই দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছে, তখন তার পক্ষে আইনি লড়াই দেয়ার মতো কেউ ছিল না। তাই সুয়োমোটো ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এই রায় আইনসম্মত হয়েছে কিনা সেই প্রশ্ন কেউ তুলতেই পারে। কারণ বিচার এর অন্যতম শর্ত হচ্ছে, অপর পক্ষের যুক্তিও শুনতে হবে। এখানে রায় হয়েছে একপক্ষীয়। ছাগল বা ছাগলের মালিকের পক্ষে বলার কেউ ছিল না। কিছুদিন আগে অবসরে যাওয়া এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ধরনের বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানোর এখতিয়ার ইউএনওর নেই। তার মতে, এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য ছাগলের পক্ষে কেউ চাইলে আপিল করার উদ্দেশ্যে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। এছাড়া একটি নিরীহ ছাগলকে ৫ দিন আটকে রাখার জন্য পশু অধিকার নিয়ে কাজ করা কোনো সংগঠন বেআইনি আটকের মামলাও করতে পারে। তিনি এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের একটি আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, কোনো পাগলা কুকুর যদি কোনো লোককে কামড় দেয়, তাহলে জনউপদ্রব ধারায় তার শাস্তি হতে পারে। কিন্তু কুকুরটিকে অবশ্যই পাগল হতে হবে এবং যথেষ্ট ভালোভাবে যে কামড় দিয়েছে, সেটা প্রমাণ করতে হবে। কোনো সাধারণ কুকুর হলে হবে না। শুধুমাত্র পাগলা কুকুর কামড়ালেই সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনউপদ্রব সৃষ্টিকারী কিছু কুকুরকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানের কুকুরপ্রেমীরা ফুলবাড়িয়ায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন। এই সরকারি কর্মকর্তার মতে, কুকুরের ক্ষেত্রে যেটা প্রযোজ্য, ছাগলের ক্ষেত্রে সেটা প্রযোজ্য হবে না। ছাগলের ওপর এ ধরনের আইনের প্রয়োগ ও তাকে আটকে রাখা প্রাণীর ওপর নির্যাতন হিসেবেই গণ্য হবে।

যাই হোক, ইদানীং পুরনো আইনের নতুন নতুন ব্যবহারে উদ্বিগ্ন অনেকেই। সম্প্রতি ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম পাঁচ দিন জেল খেটে মুক্তি পেয়েছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এটাই প্রথম মামলা। আবার ইউএনওর দ্বারা ১৮৬০ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৮ ধারায় দণ্ডিত হয়ে গেল একটি ছাগল। ফলে পুরনো আইনের এই নতুন ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। ছোটবেলায় দেখতাম, গরু, ছাগল ধানক্ষেত, ফুলের বাগান খেয়ে ফেললে খোঁয়াড়ে দেয়া হতো। সেখানে গিয়ে নির্ধারিত দণ্ড জমা দিয়ে গরু-ছাগল ফেরত পাওয়া যেত। কিন্তু খোঁয়াড় জিনিসটা এখন চালু আছে কিনা তা অবশ্য জানা সম্ভব হয়নি। ঢাকার পুরনো এক বাসিন্দা বলেছেন, ষাটের দশকে রাজধানীর কলাবাগান এলাকার খোঁয়াড় থেকে নির্ধারিত দণ্ড দিয়ে তিনি একবার তার হারিয়ে যাওয়া গরু ফেরত পেয়েছিলেন। গ্রামগঞ্জে অনেকে স্থানীয় প্রশাসন থেকে খোঁয়াড় লিজ নিতেন। বিনা কারণে শত্রুতাবশত পাশের বাড়ির গরু, ছাগলকে খোঁয়াড়ে দিয়ে দিতেন। এভাবে প্রতিবেশীকে ঘায়েল করে অনেকেই মানসিক শান্তি পাওয়ার চেষ্টা করতেন। তবে বাংলাদেশে যেখানে বিচারকের অভাবে লাখো মামলা বিচারাধীন, বিচারের প্রত্যাশায় বিচারপ্রার্থীরা যেখানে আদালতের দোরগোড়ায় মাথা কুটে মরছে, সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ছাগলের তাৎক্ষণিক বিচারে প্রশংসা পেতে পারেন আদমদীঘির ইউএনও। কারণ এর মধ্য দিয়ে দ্রুত বিচার কাজ সম্পাদনে ইউএনওর একটি আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিচার কাজ নিয়ে একটা গল্প না বললেই নয়। এক মামলায় বিচারক অভিযুক্তের দিকে তাকিয়ে বললেন, ছিঃ, এই বয়সে আপনিও মেয়েদের বিরক্ত করেন। এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। অশীতিপর এই বৃদ্ধ বললেন, হুজুর আমার কথাটা একটু শুনুন। বিচারক বললেন, কিছুই শোনার নেই। আপনি ২০-২২ বছরের যুবক নন যে, আপনার অপরাধ লঘু করে দেখা হবে। বৃদ্ধ কাতর স্বরে বললেন, হুজুর এটা ৬০ বছর আগের মামলা। তারিখের পর তারিখ পরে। বিচার আর হয় না। আজ এতদিন পরে মামলা আদালতে উঠল ও মামলার কাজ শুরু হলো। ৬০ বছর আগে যাকে বিরক্ত করেছিলাম, তিনি ওইখানে নাতি-নাতনি নিয়ে বসে আছেন। এরপর আদালত কি রায় দিল, সেটা অবশ্য জানা সম্ভব হয়নি।

কিন্তু বিরক্ত করার জন্য শাস্তি যদি জনউপদ্রব ধারায় হয়, তাহলে লাখ লাখ মামলায় পর্যুদস্ত হবে আদালত। এক বিমানযাত্রী তার পাশে এক সুন্দরী সহযাত্রী পেয়ে আলাপ শুরু করার সুযোগ খুঁজছিলেন। একপর্যায়ে ভদ্রমহিলাকে বললেন, আপনার পারফিউমের ঘ্রাণ অত্যন্ত চমৎকার। এটার নাম কি? আমি আমার স্ত্রীর জন্য এটা কিনতে চাই। জবাবে ভদ্রমহিলা বললেন, ভুলেও এ কাজটি করবেন না। তাহলে কোনো এক ইডিয়ট আগামীতে আপনার স্ত্রীকে এরকম একটি প্রশ্ন করে বিরক্ত করার সুযোগ পেয়ে যাবে। এরপর ভদ্রলোক আর আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ পাননি।

স্বামী-স্ত্রীর প্রসঙ্গ যখন আসলই তখন এই গল্পটা না বললেই নয়। মাতাল হয়ে ঘরে ফিরে এক ভদ্রলোক নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর জন্য ল্যাপটপ নিয়ে টাইপ করতে বসে গেলেন। স্ত্রী ঘরে ঢুকেই স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি কি আজ ড্রিংক করেছো? স্বামীর প্রশ্ন, কেন? তাহলে ব্রিফকেসের উপর হাতের আঙুল দিয়ে টাইপের মতো করে কি করছো? এরপরই শুরু হয়ে গেল মাতাল স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া। স্ত্রী চিৎকার করে বললেন, তোমার সঙ্গে বিয়ে না হয়ে যদি একটি রাক্ষসের সঙ্গে বিয়ে হতো, তাতেও আমার এত ঝামেলা পোহাতে হতো না। স্বামী তাৎক্ষণিক জবাব দিল, আরে পাগলি, এটাও জানো না। আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে হয় না। পরের দিন স্বামী বেরিয়েছে বাসা থেকে। ফেরার নাম নেই। স্ত্রী ফোন করে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথায়? স্বামী বললেন, ঈদের আগের দিন একটা গয়নার দোকানে গিয়েছিলাম মনে আছে? স্ত্রী বললেন, মনে আছে। ভাবছেন, সম্ভবত রাগ ভাঙাতে সোনার দোকানে গিয়েছেন গয়না কিনতে। স্বামী বললেন, তোমার মনে আছে সেদিন টাকা ছিল না। আমি বলেছিলাম পরে একদিন কিনে দেব। স্ত্রী ভীষণ খুশি হয়ে বললেন, মনে আছে। হ্যাঁ বলো? স্বামী বললেন, সেই সোনার দোকানের পাশে না একটা নাপিতের দোকান আছে। সেখানে চুল কাটছি, ফিরতে দেরি হবে। এই বলে ফোনটা রেখে দিল। পরের দিন কী হলো তা জানা গেল অবশ্য সন্তানের মুখে। ছেলে স্কুলে গেল অনেক দেরিতে। ক্ষুব্ধ শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন, তোমার স্কুলে আসতে দেরি হলো কেন? ছাত্র বলল, মা-বাবা ঝগড়া করছিল। শিক্ষকের প্রশ্ন মা-বাবার ঝগড়ার সঙ্গে তোমার স্কুলে আসার সম্পর্ক কি? তুমি এসব বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে স্কুলে চলে আসতে পারতে। ছাত্রের জবাব, আমার স্কুলের জুতা জোড়ার একটা ছিল মার হাতে, আরেকটা বাবার হাতে। খালি পায়ে তো আর স্কুল আসতে পারি না।

শেষ করব আইন বিষয়ে একটি গল্প নয়, বাস্তব ঘটনা বলে। ১৯৯১ সালে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেশে ফিরে গ্রেপ্তার হলেন। ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে একপর্যায়ে শেষ পর্যন্ত তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা দায়ের হয়। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং ফিরে আসার পরপরই ওই পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার হন। তার জামিনের শুনানি চলছিল উচ্চ আদালতে প্রায় ১৮ দিন ধরে। প্রতিদিন রিপোর্টার হিসেবে আমাকে যেতে হতো এই মামলা কভার করার জন্য। এক মধ্য দুপুরে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে ব্যারিস্টার আমির উল ইসলামের শুনানি শুনতে শুনতে ক্লান্ত বিচারকরা বারবার ঘুমিয়ে পড়ছিলেন। একপর্যায়ে ব্যারিস্টার আমির উল ইসলাম চিৎকার করে বললেন, মাই লর্ড, আদালত কোনো শিশুর দোলনা নয় যে, আমি ঘুমপাড়ানিয়া গান গাইছি, আর আপনারা ঘুমাতে থাকবেন। বিব্রত বিচারকরা আবার গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগলেন তার শুনানি।

ঘুমের প্রসঙ্গ যখন আসলই ঘুম দিয়েই শেষ হোক। এক মোটা বউ ঘুমের মধ্যে পাশ ফিরে জড়িয়ে ধরলেন স্বামীকে। হঠাৎ মনে হলো, এটাতো তার স্বামী না অন্য কেউ। জোরে চেপে ধরে চোর চোর বলে চিৎকার করতে লাগল। স্বামী জেগে উঠে দেখল, বউটা চেপে ধরে আছে একজনকে। বউ চিৎকার করে বলল, চোর ধরেছি। তাড়াতাড়ি থানায় গিয়ে খবর দাও। স্বামী এদিক-ওদিক জুতা খুঁজছে বাইরে যাওয়ার জন্য। জুতা আর খুঁজে পায় না। এদিকে মোটা বউয়ের চাপে চোরের প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত। চোর স্বামীকে বলে উঠল, ভাই প্রয়োজনে আমার জুতাটা নিয়ে যান। তাড়াতাড়ি থানায় যান-প্রাণতো চলেই গেল।