জুন / ১৬ / ২০২১ ০৪:২২ পূর্বাহ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

মে / ০৬ / ২০২১
১১:২২ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ১৬ / ২০২১
০৪:২২ পূর্বাহ্ন

ভাইরাল হওয়া ‘নয়া দামান’ গান নিয়ে বিতর্ক কেন?

প্রকৃত গীতিকার নিয়ে মতভেদ


সিলেটের উদীয়মান শিল্পী তসিবা।

138

Shares

সিলেট অঞ্চলের বিয়ের গান ‘আইলো রে নয়া দামান’ নিয়ে ফেইসবুকে ঝড় চলছে। সিলেট অঞ্চলের এই লোকগীতিটি আমেরিকা প্রবাসী তরুণ সুরকার 'মুজা' নতুন রূপে উপস্থাপন করেন। সিলেটের দুই তরুণ শিল্পী মুজা ও তসিবা বেগমের কণ্ঠে গানটি মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। মুজার সুর করা গান ভাইরাল হলেও, গানটির আসল সুরকার এবং গীতিকার কে - তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

এর মধ্যে গানটির গীতিকার ও সুরকার হিসেবে লোককবি দিব্যময়ী দাশের নাম সামনে এনেছে তার পরিবার। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে আসা ‘কঠিন’ বলে জানিয়েছেন লোকসংগীত গবেষকরা।

গানের তালে এক তরুণীর বিয়ের নাচ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিন চিকিৎসকের নাচের ভিডিও সম্প্রতি ‘ভাইরাল’ হয়েছে ফেইসবুকে।

তবে কোথাও গানের গীতিকার কিংবা সুরকারের নাম উল্লেখ ছিল না। ফলে গানের গীতিকার ও সুরকার কে, প্রথম কোথায় গাওয়া হয়েছিল-তা নিয়ে শ্রোতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে সংগীতশিল্পী কাবেরী দাশ এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, ১৯৬৫ সালের দিকে তার ঠাকুরমা লোককবি দিব্যময়ী দাশ গানটি রচনা করেন।

রচনার পর বিভিন্ন গ্রামের আসরে তা পরিবেশন করে সঙ্গী ও শ্রোতাদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে কাবেরীর ভাষ্য।

একুশে পদকপ্রাপ্ত দুই লোকসংগীতশিল্পী রাম কানাই দাশ ও সুষমা দাশের মা দিব্যময়ী দাশ; তিনি লোককবি রসিকলাল দাশের স্ত্রী। মুখে মুখে কীর্তন, বিয়ের গান রচনা করতেন সিলেটের মেয়ে দিব্যময়ী।

জীবদ্দশায় বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকাসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাম কানাই দাশ এ গানের গীতিকার ও সুরকার হিসেবে মা দিব্যময়ীর নাম উল্লেখ করে গেছেন।  

লোকসংগীত গবেষক সুমন কুমার দাশ রচিত ‘রাম কানাই দাশের নন্দনভূবন’ বইয়েও রাম কানাই দাশের বয়ানে গানটির গীতিকার হিসেবে দিব্যময়ী দাশের নাম এসেছে।

নয়া দামান গানের নেপথ্যে


বইয়ে রাম কানাই দাশ বলছেন, ‘আইলা রে নয়া জামাই’ ছাড়াও ‘তোরা শুনছনি গো রাই/কাইল যে আইছে নুয়া জামাই/বলদ নাকি গাই’ শিরোনামে আরেকটি বিয়ের গানও রচনা করেছেন তার মা।

প্রয়াত শিল্পী রাম কানাই দাশের মেয়ে কাবেরী দাশ বলেন, “আমরা তখন সিলেটের টিলাগড়ে থাকতাম। শিল্পী ইয়ারুন্নেসা খানম মায়ের কাছে গান শিখতে আসতেন। ১৯৭২-৭৩ সালের দিকে গানটি মায়ের কাছ থেকে নিয়ে প্রথমবারের মতো সিলেট বেতারে পরিবেশন করেছিলেন ইয়ারুন্নেসা।”

সিলেট বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তারিক বলেন, “১৯৭২-৭৩ সালে সিলেট বেতারে গানটি প্রচারের কথা শুনলেও তা নিয়ে আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। তবে আশির দশকের গানটি আরেকবার রেকর্ডিং হয়েছিল। সেখানে গীতিকারের নাম ‘অজ্ঞাত’ লেখা ছিল; সুরকার হিসেবে আলী আকবরের নাম আছে।”

বিষয়টি নিয়ে কাবেরী দাশ বলছেন, “দিব্যময়ী দাশ বেতারের এনলিস্টেড গীতিকার ছিলেন না বলে তার নামটি ‘অজ্ঞাত’ বলে উল্লেখ করা ছিল। কিন্তু গানটি উনিই লিখেছেন। বেতারে পরিবেশনের আগে গ্রামের আসরে গেয়েছেন, তার সঙ্গী-সাথীরা তা শিখেছেন। পরে গানের কথা বদলালে সেটা দিব্যময়ীর দোষ না।”

সিলেট বেতারে পরিবেশনের সময় গানের ‘বাজায় বাঁশি জয় রাধা বলিয়া’ থেকে বেতার কর্তৃপক্ষ ‘রাধা’ শব্দটি ফেলে দিয়েছিলে বলে জানান কাবেরী; পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি শব্দ ফেলে দেওয়া হয়েছিল এমনটি বাবার মুখে শুনেছিলেন বলে জানান তিনি।

দিব্যময়ীর লেখা ‘নয়া জামাই’ থেকেই বিভিন্ন সময়ে তা বদলে তা ‘নয়া দামান’ হয়েছে বলে দাবি কাবেরীর।

দিব্যময়ীর লেখা ও তার ভণিতা পদসহ মূল গানটিই ২০০৫ সালের বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত লোকগানের একক অ্যালবাম ‘অসময়ে ধরলাম পাড়ি’-তে রেকর্ড করেন তার ছেলে রাম কানাই দাশ। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি গানের গীতিকার হিসেবে মায়ের নাম বলে এলেও নিজের অ্যালবামে তা উল্লেখ করেননি।

সেই অ্যালবামে ‘আইলো রে নুয়া জামাই’ গানের গীতিকার ও সুরকার হিসেবে কারও নাম নেই জানিয়ে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা জাহিদুল হক দিপু বলেন, অ্যালবামে ও ইউটিউবে চ্যানেলে গানটিকে ‘সংগৃহীত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

সিদ্ধান্তে আসা ‘কঠিন’

লোকসংগীত গবেষক সুমন কুমার দাশ তার বইয়ে রাম কানাই দাশের বয়ানে এ গানের গীতিকার হিসেবে দিব্যময়ী দাশের নাম উল্লেখ করলেও এখন তিনি বলছেন, ২০১৩ সালে রাম কানাই দাশ তাকে বিষয়টি জানালেও পরবর্তীতে আরও অনুসন্ধান করেছেন তিনি।

সুমন কুমার দাশ গণমাধ্যমকে জানান, সিলেট অঞ্চলে মুসলিম বিয়েতে ‘আইলো রে নয়া দামান’ ও হিন্দু বিয়েতে ‘আইলো রে নয়া জামাই’ শিরোনামে দুটি উৎসমুখ দিব্যময়ীর গানটি প্রকাশের আগে থেকেই বিয়ের গীত হিসেবে প্রচলিত ছিল।

“পরে সেখান থেকে ষোল ধরনের অন্তরা পাওয়া যাচ্ছে। লোকগীতি লোকের মুখে মুখে প্রচারিত হয়। প্রচারিত হওয়ার সময় কথার পরিবর্তন হয়ে যায়। ফলে গানটা যে দিব্যময়ী দাশ লিখেন নাই, সেটাও জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না; আবার গানটা যে উনারই লেখা, সেটাও বলা যাচ্ছে না।”

“গানটি আগে থেকেই কিছু কিছু এলাকায় যেমন শোনা গেছে তেমনি এমন সংগীত পরিবারের কথাও উড়ে দেওয়া যায় না। ফলে বিষয়টি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে আসা কঠিন,” বলেন এই গবেষক।

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

মে / ০৬ / ২০২১
১১:২২ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ১৬ / ২০২১
০৪:২২ পূর্বাহ্ন

বিনোদন