মে / ০৭ / ২০২১ ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

মোহাম্মদ আফজল

মে / ০৩ / ২০২১
০৪:৫৬ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ০৭ / ২০২১
১০:২৮ পূর্বাহ্ন

স্বপ্ন তার বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা

ক্রিকেটের তিন সংস্করণে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চান নাসুম


147

Shares

২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি২০ সিরিজের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় দলে প্রথমবার ডাক পান নাসুম আহমেদ। যদিও সেবার কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি এই বা হাতি স্পিনারের। যদিও এর আগে বাংলাদেশের হয়ে ২০১২ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছিলেন তিনি। এরপর আরও একবার বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান ২০১৭ সালে ইমার্জিং এশিয়া কাপে, সেখানেও বল হাতে দারুণ পারফর্ম করেছিলেন এই স্পিনার। কিন্তু ছোটবেলা থেকে যে স্বপ্ন নিয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলেন সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, সেই স্বপ্ন পূরণ হয় সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সফরে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় নাসুম আহমেদের। 

অবশেষে দীর্ঘ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল। বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম ম্যাচ খেললেন নাসুম আহমেদ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজের প্রথম টি২০ দিয়েই তার এই যাত্রা শুরু। প্রথম ম্যাচেই বল হাতে দারুণ বল করে নজর কাড়েন সবার। ৩০ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট, যদিও উইকেট সংখ্যাটা তিন হতে পারত আর রানের সংখ্যাটাও আরও কম হতে পারত। যদি না শরিফুল কনওয়ের ক্যাচ নিয়ে বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ না করতেন। দ্বিতীয় ম্যাচেও ২৫ রান দিয়েছিলেন উইকেট শূন্য, উইকেট না পেলেও দারুণ ইকোনমিকাল বোলিং করে নজর কাড়েন সবার। নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে নাসুম কথা বলেছেন সংক্ষিপ্ত এই সাক্ষাৎকারে। 

প্রশ্নঃ নিউজিল্যান্ড সফর থেকে কি শিখলেন?

নাসুম আহমেদঃ আসলে অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় ছিলাম শুরু থেকেই ম্যাচ খেলব। এরকমই অপেক্ষায় ছিলাম। তিন চার দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর আমরা ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে অনুশীলন করার সুযোগ পাই। আমি ছিলাম তামিম ভাই (তামিম ইকবাল), মিঠুন ভাইদের গ্রুপে, তাদের সাথে ছিলেন রুবেল ভাই আল আমীন ভাই। পাঁচ জনের এই গ্রুপের সাথে ছিলেন আমাদের দলের ট্রেইনার নিকোলাস লি, এছাড়াও আমাদের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ছিলেন আমাদের সাথে। প্রথম যে দিন নেটে বল করার সুযোগ পাই, প্রথম বলেই আমি মিঠুন ভাইকে বিট করি। কোচ দেখে বলেছিলেন খুব ভাল শেইপে আছি। এখান থেকেই আমার ধারণা হয় যে এই কন্ডিশনে কিভাবে বল করতে হবে। আমি সেটা দলের অনেকের সাথে আলাপ করি, সুমিত ভাইকে বলেছিলাম। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের উইকেট নিয়ে আমার কোচ ইমন (একে এম মাহমুদ ইমন) ভাইয়ের সাথেও কথা বলেছি। এখানে ভাল বোলিং করতে হলে, প্রচুর বল ঘুরাতে হবে, এক জায়গায় বল করা যাবে না; প্রথম দিনেই আমি তা বুঝতে পারি। তারাও আমাকে এই কথাই বলেছিলেন। কুইন্সটাউন যাওয়ার পর আমাদের স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেটরি সাথে দেখা হয়, সেখানেই উনার সাথে প্রথম দেখা। তিনি আমাকে দেখলেন, আমার শুরু থেকেই নিজস্ব একটা বোলিং শেইপ ছিল ক্রিকেট খেলা শুরুর সময় এই শেইপে বল করার কথা বলেন তিনি। তিনি যেভাবে বল করার কথা বলেছিলেন সেটা আমি শুরু থেকেই পারতাম, কিন্তু আমাদের দেশের উইকেট এবং কন্ডিশনে কারণে আমাদেরকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বল করতে হয়। মাঝে মধ্যে সাইডআর্ম করি, এক ধরনের বল কখনো করি না আমরা। এটা আমি কোচকে বুঝাই মোর্শেদ ভাইয়ের মাধ্যমে। আমি চাইলে নিউজিল্যান্ড কন্ডিশনে জোড়ের উপর বল করতে পারব এবং চাইলে আস্তেও বল করতে পারব। সব বলই এখানে করা যাবে কিন্তু আমাদের দেশে এভাবে সীমিত ওভারের খেলায় এসব বল করলে সমস্যা হবে, একমাত্র টেস্ট ক্রিকেটে এভাবে বল করা যাবে। তখন কোচও আমার কথা শুনে একমত হন। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে এক জায়গায় বল করা যাবে না, একেক সময় একেক রকম বল করতে হবে। তখন কোচও আমাকে বলেন, 'নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানকে এক জায়গায় বল করলে, ব্যাটসম্যানরা খুব সহজে বোলারকে রিড করে ফেলবে। তাই জায়গা পরিবর্তন করে বল করতে থাকবে, শুধু সাইডআর্ম বল করবে না।' কোচ বলেছিলেন এভাবে বল করতে থাকলে সফল হব। জালাল স্যার (জালাল ইউনুস) যখনই ভেটরির সাথে আমাকে দেখতেন, সব সময় বলতেন, কোচের কাছ থেকে নতুন কিছু শেখার জন্য। 

প্রশ্নঃ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে উঠেছে প্রথম। নিজের পারফরম্যান্সে কতটুকু সন্তুষ্ট?

নাসুম আহমেদঃ প্রথম টি২০তে আমি খেলব বলেও মনে হয়নি, কারণ খেলার সম্ভাবনা থাকলে হয়তো সিনিয়র কেউ হয়তো বলতেন। এশার নামাজ পড়ে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি একাদশ দেওয়া হয়েছে, সেখানে আমার নাম দেখে আমি উত্তেজিত হয়ে বিছানায় পড়ি। আমার কাছে মনে হয়েছে যে আমি আসমান থেকে পড়ছি। এসময় রুমের দরজা কে যেন নক দিচ্ছিল, দরজা খুলে দেখি রমজান ভাই আর সোহেল ভাই। আমি একাদশে আছি জেনে এসেছেন আমাকে দেখতে, আমি তাদের সাথে একসাথে খেতে যেতাম, আমরা একসাথেই খাওয়া দাওয়া করতাম। আমার অনেক কিছুই তাদের সাথে শেয়ার করতাম, সুখ দুঃখ। ওয়ানডেতে সুযোগ না পাওয়াতে মনটা খারাপ ছিল, তাই টি২০তে একাদশে নাম দেখেই তারা আমার রুমে ছুটে এসেছিলেন। প্রথম ম্যাচ যখন খেলতে নামব, তখন শুনলাম প্রথম ওভার বল আমিই করব। প্রথম ওভার বল করব শুনলেই আমার অন্যরকম একটা ভাল করার ভাললাগা কাজ করে। নিজের সেরাটা দেওয়ার আলাদা একটা উত্তেজনা কাজ করে। তখন আমি স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেটরিকে বলি, 'মাঠের এক সাইড ছিল বড় আর আরেক সাইড ছিল ছোট, আমি মাঠের ছোট দিক থেকে বল করতে চাই, তাহলে পরের ওভারে বড় সাইডটা অন্যজন পাবে।' কোচ তখন বলছিলেন, 'ছোট সাইড থেকে বল শুরু করলে তোমাকে তো তুলে ছয় মারবে।' আসলে আমি তখন দলের চিন্তা করেছিলাম নিজের কি হবে সেটা ভাবিনি। পরের ওভারে অধিনায়ক বড় সাইডে অন্য বোলার ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। গাপটিলকে যখন বল করি প্রথম তিন বলে, তিনি সুবিধা করতে পারেননি। চতুর্থ বলে তিনি বের হয়ে এসে মোকাবেলা করেন, তখন ক্যাচ মিড উইকেটে যায় কিন্তু এই সময় মিড উইকেটের ফিল্ডার সার্কেলে তুলে আনা হয়। ফলে একটা রান পান। পঞ্চম বলে আমি অ্যালেনকে আমার আসল অস্র ব্যবহার করি, যেটাকে লেগ স্পিনাররা ফ্লিপার বলে। তখন সে ব্যাট আনতে আনতেই বোল্ড হয়ে যায়। আমি তখন বিস্মিত হয়েছিলাম উইকেট পেয়ে। আমি তখন চতুর্থদিকে রিয়াদ ভাইকে খুঁজছিলাম। দ্বিতীয় উইকেট যখন গাপটিলকে আউট করলাম, আমি দেখলাম যে তিনি একটু বেশি নড়াচড়া করছেন। এটা দেখে আমি একটু সময় নিয়ে বল ডেলিভারি দেই, তখন দেখি তিনি উইকেট ছেড়ে বের হয়ে আসছেন। তখন আমি বলটা বাইরে করেছিলাম, বলে কিছু টার্নও ছিল, তিনি তখন ব্যাট চালিয়েছিলেন মিড অফে ক্যাচ হয়ে যায়। ম্যাচে রিয়াদ ভাই (মাহমুদউল্লাহ) যেভাবে বলছেন আমি সেভাবেই বল করার চেষ্টা করেছি এবং সফল হয়েছি। ম্যাচে তিনি আমাকে দিয়ে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন এবং সফল ও হয়েছেন। 

আর নিজের পারফর্মেন্সে সন্তুষ্ট বলতে, নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন এবং আমার প্রথম সিরিজ হিসেবে আলহামদুলিল্লাহ। ভালোর তো কোনো শেষ নাই। তবে আরেকটু ভালো হলে আরও খুশি হতাম, যদি আমার অভিষেক ম্যাচটা জিততে পারতাম তাহলে আরও ভালো লাগত। সিরিজে যদি অন্তত একটা ম্যাচ জিততাম তাহলে আরও বেশি খুশি হতাম। 

প্রশ্নঃ ক্যাচ মিস নিয়ে আপনার কমেন্টে তোলপাড়। এ নিয়ে কি বলবেন?

নাসুম আহমেদঃ আসলে এই বিষয়টা খুব খারাপ লাগছে। আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ফিল্ডিং মিস নিয়ে, ক্যাচ মিস নিয়ে। প্রশ্নটা এরকমই ছিল। আমি বুঝাতে চেয়েছিলাম যে নিউজিল্যান্ডের যে কন্ডিশন সেখানে ফিল্ডিং করা অনেক কঠিন, সেখানে প্রচুর বাতাস থাকে। তার সাথে মানিয়ে নেওয়া আমাদের জন্য সহজ নয়। আমি এও বলেছিলাম যে আমরা যদি সেখানে সিরিজের আগে লম্বা সময়ের একটা ক্যাম্প করতে পারতাম তাহলে আমরা এই সমস্যায় পড়তাম না। আমরাও তাদের আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে পারতাম। কিন্তু শুধু ‘আকাশ পরিষ্কার’ এটা শিরোনাম দিয়ে নিউজ করা হয়েছিল। আমি তো আরো বলেছিলাম যে, নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশে এসে সর্বশেষ দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল, কিন্তু সে কথাটা খবরে আসেনি। শুধু ‘আকাশ পরিষ্কার’ এটা দিয়েই রিপোর্ট করা হয়েছিল। আমি হয়তো ঠিকভাবে বুঝিয়ে বলতে পারিনি, আমি সংক্ষেপে বিষয়টা বুঝাতে চেয়েছিলাম তাই হয়তো তখন সব কথা বলতে পারিনি। নিউজিল্যান্ড যখন বাংলাদেশে আসে তখন এখানে খেলতে তারা হিমশিম খায়, আমরাও তাদের দেশে গেলে হিমশিম খাই। আমাদের দেশের কন্ডিশন আর তাদের দেশের কন্ডিশন এক না। 

প্রশ্নঃ স্বপ্ন তো পূরণ হলো। এবার ভবিষ্যত লক্ষ্যের কথা বলুন?

নাসুম আহমেদঃ খেলেছি ঠিক আছে, কিন্তু এখনো স্বপ্ন পূরণ বাকি আছে। যেসময় দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারব, আমার ভালো পারফর্মেন্সের কারণে যখন আমার দল জিতবে, আমি যখন দেশের জয়ে অবদান রাখব তখন আমার স্বপ্ন পূরণ হবে। তখন মনে করব যে দেশের জন্য আমি কিছু একটা করতে পারছি। ভবিষ্যত লক্ষ্য বলতে সামনে টি২০ বিশ্বকাপ, যদিও সেটা অনেক দূরে। তার আগে দুইটি সিরিজ আছে, শ্রীলঙ্কা আসবে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে, তারপরে জিম্বাবুয়ে সিরিজ আছে আমার লক্ষ্য এই দুই সিরিজে দলে জায়গা করে নেওয়া এবং খেলার সুযোগ পেলে দেশের জন্য ভালো কিছু করা। আমার স্বপ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা, টি২০ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলা আমার স্বপ্ন। এজন্য যত ধরনের পরিশ্রম করা লাগে, আমি করতে প্রস্তুত এবং দলে টিকে থাকার জন্য যত ধরনের পরিশ্রম করা লাগে তা আমি করতে রাজি। আমি দলে ডাক পাওয়ার আগেই বলেছি যে আমি দলে টিকে থাকার জন্য আসছি হারিয়ে যাওয়ার জন্য নয়। জাতীয় দলে খেলার জন্য আমার ক্ষুধা ছিল, লোভ ছিল, সেই লোভ এবং ক্ষুধা এখনো কমেনি। আমার টাকা পয়সার লোভ নাই, আমি দেশের জন্য কিছু একটা করতে চাই সেটাই আমার বড় লোভ। সাকিব ভাই, তামিম ভাই, মুশফিক ভাই, রিয়াদ ভাইরা যেভাবে দেশের জন্য অবদান রেখে যাচ্ছেন, আরও যারা অবদান রাখছেন, আমিও সেভাবে অবদান রাখতে চাই। আমার অভিষেক ম্যাচের আগে আমি আমার আব্বাকে ফোন করে বলেছিলাম, ‘আব্বা আমি বাংলাদেশের হয়ে কাল মাঠে নামব, আমার জন্য দোয়া করবেন।’ আমি পারফর্ম করলেই তো আমার নাম নাসুম হবে, আর আমি যদি পারফর্ম করি আর দল না জিতে তাহলে এই পারফর্মেন্সে আমি খুশি না। আমি পারফর্ম করলে যদি দল জিতে তাহলে আমি নাসুম ঠিক আছি।

আমার ভবিষ্যত লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটে ক্রিকেট খেলা। শুধু টি২০ এবং ওয়ানডে নয়, ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই দেশের খেলতে চাই এটাই আমার মূল লক্ষ্য। একটা প্লেয়ারের স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপে খেলা আমার সেটা আছে, আমার মূল স্বপ্ন হচ্ছে দেশের তিন ক্রিকেটের তিন সংস্করণে খেলা। 

প্রশ্নঃ কোচ, অধিনায়কের কাছ থেকে বাড়তি কোন অনুপ্রেরণা পেয়েছেন নিশ্চয়?

নাসুম আহমেদঃ এ কথা বলতে হলে, মুশফিক ভাই এবং রিয়াদ ভাইয়ের কথা বলতে হবে। তামিম ভাইয়ের সাথে তেমন বেশি কথা বলার সুযোগ হয়নি। মুশফিক ভাইয়ের সাথে বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপের এই এক ঘটনা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন, কিন্তু মুশফিক ভাইয়ের সাথে আমার বন্ডিংটা অনেক ভালো, এখনো সেটা আছে। কিন্তু ঐ ঘটনার পর অনেকে বাজে মন্তব্য করেছেন কিন্তু এসব আমার খুব খারাপ লাগে। এসব বাজে মন্তব্য দেখে আমি সেদিন ফেসবুকে পোস্ট দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। মুশফিক ভাইকে নিয়ে কেউ খারাপ মন্তব্য করলে আমার নিজের খারাপ লাগে, তিনি দেশের জন্য যা করেছেন তা অনেকেও করতে পারেনি। মুশফিক ভাই টেকনিক্যালি অনেক কিছু করেন, যেমন আমরা যখন নিউজিল্যান্ডে খেলতে ডানেডিন যাই, সেখানে প্রথম ওয়ানডে খেলার আগে আমরা একদিন প্র্যাক্টিস করি। সেসময় মুশফিক ভাই আমার ব্যাপার নিকোলাস লিকে বলেছিলেন বিশেষভাবে ট্রেইনিং করানোর জন্য। সিনিয়রদেরকে একটা বিষয় বললে তারা সহজে বুঝে নিতে পারেন কিন্তু আমি নতুন আমার জন্য তা কঠিন হবে। ইশারা ইঙ্গিত হয়তো কিছু বললে তারা বুঝে ফেলেন, কিন্তু আমি তো তা বুঝতে পারব না। সে বিষয়টা মুশফিক ভাই লিকে বুঝান এবং তাকে বলেছিলেন, ‘আমাকে যেন তিনি হাতে ধরে শিখিয়ে দেন, যাতে আমার বুঝতে সহজ হয়। আমাদের মতো তাকে লিখে দিলে হবে না, শুধু বললেই হবে না, সে বুঝবে না। তাকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে।’ লিও আমাকে সব সময় আলাদাভাবে টেককেয়ার করেছিলেন। সুইমিং থেকে শুরু করে সব কিছুতেই তিনি অনেক সময় দিয়েছেন। সেটা সম্ভব হয়েছে তিনি বলে দেওয়াতে। মুশফিক ভাই আমাকে সব সময় বলে দিতেন কোথায় কি করতে হবে, কখন কি করতে হবে। 

আর রিয়াদ ভাইয়ের অনুপ্রেরণায়ই আমি জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছি। তিনি আমাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তুই কি জাতীয় দলে খেলতে চাস না?’ আমি বলেছিলাম, অবশ্যই খেলতে চাই। তখন থেকেই জাতীয় দলে খেলার জন্য উদগ্রীব হয়ে যাই। রিয়াদ ভাইয়ের কাছ থেকেই জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়ার খবর পাই। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে টি২০ দলে ডাক পেয়েছিলাম সেই খবর প্রথম আমাকে রিয়াদ ভাই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিয়েছিলেন। 

প্রশ্নঃ জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াটাকে উৎসর্গ করবেন নিশ্চয় আপনার মমতাময়ী মাকে?

নাসুম আহমেদঃ অবশ্যই আমার বাবা-মাকে উৎসর্গ করব। পাশাপাশি আমি আরও পাঁচ জন মানুষকে উৎসর্গ করতে চাই। যেমন শেহনাজ ভাই (শামীম আহমেদ), হাসান ভাই (মারুফ হাসান), ইমন ভাই (একে এম মাহমুদ), রাজিন ভাই (রাজিন সালেহ) এবং মশিউর রহমান টুটুল ভাইকে। আমার ক্রিকেটার হয়ে উঠার পিছনে প্রথম অবদান শেনাজ ভাইয়ের, তিনিই আমাকে প্রথম ক্রিকেটে নিয়ে এসেছিলেন। তার হাত ধরেই আমি মারুফ হাসান ভাইয়ের কাছে আসি, তিনিই আমাকে প্রথমে ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলার কাজ করেন। ইমন ভাই আমার সবকিছুই দেখভাল করেছেন, ইমন ভাইয়ের অবদান বলে শেষ করার মত নয়। রাজিন ভাই ক্রিকেটের বাইরেও তিনি আমার ফ্যামিলির পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকবার। এবং মশিউর রহমান টুটুল ভাই আমার মাঝে ক্রিকেটটা পুনর্জীবন দিয়েছেন। মা-বাবার পাশাপাশি এই পাঁচজন মানুষকে আমি উৎসর্গ করলাম। তাদের সাথে আমি আরও একটি নাম যোগ করতে চাই, আমার এক বড় বোন; নাম হাজেরা বেগম। তিনিও আমার জীবনের লাকি পারসন। আমি তাকেও উৎসর্গ করতে চাই।

প্রশ্নঃ অবসর সময়টা কিভাবে কাটে?

নাসুম আহমেদঃ অবসর সময়ে বাসায় থাকতে ভাল লাগে, কোনো কাজ না থাকলে বাসায় থাকি। তিলাওয়াত করি, আমার পাখি আছে, বিড়াল আছে এবং আমার একটা কার আছে এসব নিয়ে থাকি। 

প্রশ্নঃ ক্রিকেটের বাইরে প্রিয় শখ কি?

নাসুম আহমেদঃ কার চালানো আমার শখ, সময় পেলে কার ড্রাইভ করি।

প্রশ্নঃ নিজেকে ফিট রাখতে নিশ্চয় কিছু কাজ করছেন এখন?

নাসুম আহমেদঃ নিজেকে ফিট রাখার জন্য আমি মনে করি যত বেশি দৌড়াব তত বেশি নিজেকে ফিট রাখতে পারব। চিনি যত কম খাব তত ওজন কম রাখতে পারব। নিজেকে ফিট রাখার জন্য আমি বেশি রানিং করি এবং চিনি কম খাই।

প্রশ্নঃ ক্রিকেটে আপনার আদর্শ কে?

নাসুম আহমেদঃ ক্রিকেটে আমার আদর্শ এনামুল হক জুনিয়র ভাই।

প্রশ্নঃ ক্রিকেটে আদর্শ অন্য কেউ নয় কেন? 

নাসুম আহমেদঃ আসলে মা কূলে যেভাবে বাবা মাকে দেখে বড় হয়েছি, একইভাবে ক্রিকেটেও আমি এনামুল হক জুনিয়র ভাইকে দেখে বড় হয়েছি। সিলেট আমি তাকে খুব কাছ থেকে দেখে বড় হয়েছি। তিনিই আমার ক্রিকেটের আইডল। 

প্রশ্নকর্তাঃ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য। 

নাসুম আহমেদঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।


খেলা