জুন / ২৬ / ২০২২ ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

জুন / ২২ / ২০২২
০৫:৫৫ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৯:১৩ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জে এখনো পানিবন্দি ১০ লাখ মানুষ

খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট



22

Shares

উজানের ঢল ও বৃষ্টি কমে আসায় সুনামগঞ্জ শহর থেকে নামছে বন্যার পানি। তবে এখনো প্লাবিত রয়েছে সুনামগঞ্জ সদরসহ ১২টি উপজেলা। পানিবন্দি রয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। ক্রমাগত বাড়ছে তাদের দুর্ভোগ। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট।

বাসভাসিরা জানান, বন্যায় সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে এখন খাবারের জন্য কিছু পাচ্ছি না। বন্যার পানিতে সব টিউবওয়েল তলিয়ে গেছে। তাই খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জের বনানীপাড়া এলাকার রিকশাচালক ইয়াসিন মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, হঠাৎ সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যায় ঘরে গলা পানি উঠেছে। থাকার জায়গা নেই। খাবারও নেই। সন্তানদের নিয়ে শহরের পবন কমিউনিটি সেন্টারে আশ্রয় নিয়েছি। বন্যার পানিতে ঘর তলিয়ে যাওয়া গত পাঁচ দিন ধরে না খেয়ে আছি। কেউ কোনও খবর নেয় না। পেটের খিদায় হাঁটতে পারছিলাম না। 

তিনি বলেন, পানিতে ঘর-দুয়ার সবকিছু তলিয়ে নিয়ে গেছে। খাবার তো দূরের কথা, থাকারও জায়গা নেই। ঘরের আসবাবপত্রসহ সবকিছু পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পাঁচ সন্তান নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে থেকেও ঘর নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। স্বামী অসুস্থ অবস্থায় আশ্রয়কেন্দ্রে পড়ে রয়েছেন। অভাবের সংসারে স্বামীকে চিকিৎসাও করাতে পারছি না। এখন স্বামী-সন্তানসহ সবাইকে নিয়ে যেন দুনিয়া অন্ধকার হয়ে রয়েছে। আল্লাহ জানে, কখন কী হয়।

একই কথা বললেন শহরের সামিয়া বেগম, বিনা বেগম, মৌসুমিসহ শতাধিক নারী। সামিয়া বলেন, ঘরে এখনও কোমর পানি। পরিবারের পুরুষরা দিনমজুরের কাজ করেন। বন্যার কারণে তারা কাজ করতে পারছেন না। সবাই এখন না খেয়ে আছি। শুনলাম আর্মিরাও ত্রাণ দেয়। এই খবর শুনে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় গেলাম। গিয়ে দেখি ত্রাণের পরিবর্তে খিচুড়ি দেওয়া হচ্ছে। একজন ব্যক্তি একটি খিচুড়ির প্যাকেট পায়। এখন এক প্যাকেট খিচুড়ি তো একজনের হবে না। সংসারে স্বামী-সন্তানসহ ছয় জন লোক এক প্যাকেট খিচুড়ি খেয়ে কীভাবে বাঁচবো। সরকারে কাছে দাবি জানাই, দ্রুত যেন সুনামগঞ্জে সকল অসহায় পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়।

জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় আমরা ৩ লাখ ৫০ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট বিতরণ করেছি। এছাড়া মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে পানি বিতরণ কার্যক্রম চলমান রেখেছি।

এদিকে জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যা কবলিত মানুষ। চারিদিকে এখন বানবাসী মানুষের আর্তনাদ। বন্যার পানিতে ডুবে এবং ভেসে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে৷

বুধবার প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খালেদ চৌধুরী। তিনি জানান, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পানির প্রবল স্রোতে পড়ে ও ডুবে নারী পুরুষ ও শিশুসহ ৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

জানা যায়, বন্যা পরিস্থিতিতে উপজেলার সদরপুর এলাকায় প্রবলস্রোতে নৌকা ডুবিতে দু’জন নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে দরগাপাশা এলাকাতেও নৌকা ডুবে এক দিনমজুর ও পাগলা এলাকায় পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সবমিলিয়ে ভয়াবহ এই বন্যায় এখন পর্যন্ত ৪ জনের প্রাণহানি ঘটনা ঘটেছে।

পাহাড়ি ঢল আর বন্যায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শান্তিগঞ্জ উপজেলা। উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় পাঁচ দিন বিদ্যুৎ নেই। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ি  ঢলের পানি কমলেও দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের। এখনো আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষের গাদাগাদি অব্যাহত আছে। মানুষে-পশুতে মিলেমিশে যেন একাকার। উঁচু জায়গা ও মহাড়কেও মানুষের সমাগম৷ তবে ইতিমধ্যেই আশ্রকেন্দ্র ও পানিবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দেয়া হচ্ছে পরিকল্পনামন্ত্রী ও প্রশাসনের ত্রাণ।

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

জুন / ২২ / ২০২২
০৫:৫৫ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৯:১৩ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জ