জুন / ২৬ / ২০২২ ০৭:২১ পূর্বাহ্ন

ক্রীড়া ডেস্ক

জুন / ০৫ / ২০২২
০৫:০৬ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৭:২১ পূর্বাহ্ন

‘স্টুপিড প্রশ্ন’ : চারে ব্যাট করা প্রসঙ্গে তামিম



39

Shares

হঠাৎ করেই আলোচনাটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স তামিম ইকবালকে ওপেনিং থেকে চার নম্বরে নামিয়ে খেলানোর চিন্তা করছেন। এ নিয়েই এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে তোলপাড়। সত্যিই কী তামিম ইকবালকে ব্যাটিং অর্ডারে চার নম্বরে নামিয়ে দেয়া হবে? নাকি তার আসল জায়গা ওপেনিংয়েই বহাল রাখা হবে- এটাই এখন টক অব দ্য ক্রিকেট।

তবে প্রশ্ন-কৌতূহল সবকিছু ডালপালা ছড়ানোর আগেই ছেঁটে দিলেন তামিম ইকবাল। চার নম্বরে ব্যাট করার কোনো কারণই দেখেন না বাংলাদেশের সফলতম ওপেনার। বরং চার নম্বরে ব্যাট করার প্রশ্ন নিয়েই তিনি তুললেন পাল্টা প্রশ্ন।

১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে ৪২৫ ইনিংসের কেবল একটিতে তামিম ওপেন করেননি, সেটিও বিশেষ পরিস্থিতির কারণে। তার মিডল অর্ডারে ব্যাট করার কোনো আলোচনাই এমনিতে ছিল না দেশের ক্রিকেটে।

ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তামিম ইকবালের মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা নিচে নেমে খেলতে পারেন কিনা। সিডন্স তখন আরও গভীরে গিয়ে বলেন, তামিমের মধ্যে সফল চার নম্বর ব্যাটসম্যানের ছাপ তিনি দেখতে পান।

আজ গুলশানে রবির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নাম ঘোষণা উপলক্ষে তামিম ইকবালের একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানেই ব্যাটিং অর্ডারের এই আলোচনা নিয়ে মিডিয়ার মুখোমুখি হলেন তামিম। কিন্তু বিষয়টা নিয়ে যে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক এতটাই বিরক্ত, তা তিনি নিজের কথায় বুঝিয়ে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে তামিমকে জিজ্ঞেস করা হয় চার নম্বরে ব্যাট করা নিয়ে। তামিম তখন প্রশ্ন তোলেন প্রশ্নকর্তার বোধ ও উদ্দেশ্য নিয়ে। তিনি বলেন, আপনার কাছে কি মনে হয়, আমার চার নম্বরে ব্যট করা ভালো নাকি ওপেন করা? আমার কাছে মনে হয়, প্রশ্নটা যে ব্যক্তি করেছে… জানি না তার মাথার মধ্যে কী আছে না আছে… আই হ্যাভ নো আইডিয়া...। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, প্রশ্নটা স্টুপিড ছিল। আমার চার নম্বরে ব্যাট করা নিয়ে…আমি তো কোনো কারণই খুঁজে পাই না, কেন চার নম্বরে ব্যাট করতে হবে। ১৭ বছর ধরে ওপেন করে আসছি এবং বেশ ভালোই করছি।

ছেলেবেলা থেকে সব পর্যায়ের ক্রিকেটে তামিম বরাবরই ছিলেন ওপেনার। তাকে হুট করে মিডল অর্ডারে খেলানো নিয়ে প্রশ্ন ওঠা একটু বিস্ময়করই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের পর প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলেছিলেন, ব্যাটিং ধস থামাতে ব্যাটিং অর্ডারে কিছু ওলট-পালট করার প্রয়োজন হলে করতে হবে। তবে সেখানে তামিমের নাম তিনি উল্লেখ করেননি। তাকে নিচে খেলানোর তেমন কোনো বাস্তবতাও আপাতত নেই।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো ‘পেয়ার’ তিনি পেয়েছেন বটে। তবে আগের টেস্টেই করেছিলেন সেঞ্চুরি। কোভিড বিরতি শেষে খেলা শুরু হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত ৭ টেস্ট খেলে তার রান ৪৮ গড় ৫৭৬।

সিডন্সের কাছে প্রশ্ন হওয়ার পর তার উত্তরটা ছিল অবশ্য বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে কৌতূহল জাগানিয়া। সিডন্স বলেছিলেন, বেশির ভাগ দেশেই সিনিয়র ক্রিকেটাররা লম্বা সময় ওপেন করলে সুযোগটা পায় (একটু নিচে নামার)। একটু নিচে নামতে পারলে তামিমেরও ভালো লাগবে বলে ধারণা আমার। তবে আগে তো আরেকজন ওপেনার খুঁজে বের করতে হবে!

তিনি বলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করেনি বা ‘এ’ দলে কিংবা টাইগার্সে পারফর্ম করছে না, এমন কাউকে আমরা স্রেফ ওপরে ঠেলে দিতে পারি না। এটাই চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য। তামিমকে চারে নামাতে হলে আরেকজন ভালো ওপেনার লাগবে। আমার মতে, চার নম্বরে সে ‘ফ্যান্টাস্টিক’ হতে পারে। 

জেমি সিডন্সের সঙ্গে ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে আলাপই হয়নি জানিয়ে তামিম বলেন, ‘এটা নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনা হয়নি।’ ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন নিয়ে যদি কিছু বলেও থাকেন, সেটি ড্রেসিংরুমের আড্ডায় হয়তো বলে থাকতে পারে। ‘ড্রেসিংরুমে আমরা অনেক রকম মজা করি। লম্বা সময় ফিল্ডিংয়ের পর ওপেনারদের নামতে হয়। তখন হয়তো মজা করে কাউকে বলে থাকতে পারি যে, ইস! যদি পরে ব্যাট করতাম, তাহলে রেস্ট পাওয়া যেত। এটা স্রেফ মজা করে বলা, সিরিয়াস কিছু না।’

এদিকে, তৃতীয় বারের মতো টেস্ট নেতৃত্বে ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। মুমিনুল হক স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল বলে এই অলরাউন্ডারের ওপর আবারও দায়িত্ব চেপেছে। যেহেতু এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের সাফল্য খুব বেশি নয়। তাই সাফল্য পেতে হলে অধিনায়ক সাকিবকে সময় দিতে হবে বলে মনে করেন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

গত দুইবার সাকিবের নেতৃত্বে মোট ১৪ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। তাতে জয় ছিল তিনটিতে, হার ১১টি। মুমিনুলের নেতৃত্বে খেলা ১৭ টেস্টেও জয় তিনটি, ড্র দুটি ও হার ১১টি। তবে মুমিনুলের হাত ধরে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম জয়টি এসেছে ।

তামিম বলেছেন, ‘আমি ওর অধিনায়কত্বে দুইবার খেলেছি। আসলে বিষয়টা রকেট সাইন্স না। আমরা সবাই জানি ওর দারুণ ক্রিকেট মতিষ্ক। আর টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব করাও সহজ নয়। এই একটা ফরম্যাট, যেখানে ফল আমাদের পক্ষে কম আছে। আমি অধিনায়কত্ব পেয়ে বলেছিলাম, আমাকে সময় দিতে হবে। এ মুহূর্তে সাকিবের ব্যাপারেও একই কথা বলবো। তাকে যথেষ্ট সময় দিতে হবে।’

তামিম মনে করেন সাকিবের নেতৃত্বে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ ভালো দল হয়ে উঠবে, ‘এই একটা ফরম্যাটেই আমরা খুব শক্ত দল হয়ে উঠতে পারিনি। তার অধিনায়কত্ব এবং আমাদের সবার সাপোর্ট থাকলে টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের ভালো ফল আসবে।’

অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর জিম্বাবুয়ে সিরিজে সাকিবকে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন তামিম? বামহাতি ওপেনার বলেছেন, ‘জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট নেই। আমি যতদূর জানি ওখানে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি আছে। এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই, কে যাচ্ছে আর কে যাচ্ছে না। অধিনায়কত্ব নিয়ে আপনি যেটা বললেন পুরোটাই বোর্ডের হাতে। কাকে দিবে, কাকে তারা রাইট মনে করবে। এখানে আমাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।’

সবমিলিয়ে সাকিব তৃতীয়বার টেস্ট দলের নেতৃত্ব পেলেন। প্রথমবার ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রথম টেস্টে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা চোটে পড়লে তিনি দায়িত্ব পান। ওই দফায় সাকিব ১৩ মাস দায়িত্ব পালন করেন টেস্ট দলের। সেবার ৯ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে বাঁহাতি অলরাউন্ডার জেতেন একটিতে। এরপর ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট ম্যাচ হারলে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। দ্বিতীয় দফায় সাকিব দায়িত্ব পান ২০১৭ সালের ডিসেম্বর। সেবার টেস্টের পাশাপাশি তার কাঁধে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বভারও তুলে দেওয়া হয়। এই সময় তার অধিনায়কত্বে পাঁচ টেস্টে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ, হেরে যায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি।

ক্রীড়া ডেস্ক

জুন / ০৫ / ২০২২
০৫:০৬ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৭:২১ পূর্বাহ্ন

খেলা