জুন / ২৬ / ২০২২ ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

মে / ১৮ / ২০২২
১২:১১ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত: বেড়েছে দুর্ভোগ

নগরীতে বন্যার পানি সামান্য বৃদ্ধি


বন্যার পানিতে নিমজ্জিত সিলেট নগরীর সড়কে এখন নৌকা চলছে!

64

Shares

সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। সীমান্তবর্তী কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেলেও সিলেট পয়েন্টে বেড়েছে। এতে করে সিলেটের ছয় উপজেলাসহ নগরীর বেশির ভাগ মানুষ এখন পানিবন্দি। আজ বুধবার সকাল ছয়টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার এবং সুরমা পয়েন্টেও বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি না নামায় সিলেট নগরসহ ১৩টি উপজেলার বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বন্যা কবলিত বেশীরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুতহীনতা দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

No description available.

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত আছে। আজ আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও সিলেটের নদ-নদীর পানি আগের মতোই আছে। দু-একটি স্থানে নদীর পানি কিছুটা কমলেও জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। প্লাবিত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। তা ছাড়া বানভাসি মানুষজন গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।


বুধবার জকিগঞ্জে নতুন করে কুশিয়ারা নদীর বড়চালিয়া, সুপ্রাকান্তি ও রারাই গ্রামে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। জেলার কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট থানা সদরসহ বিভিন্ন হাট বাজারে এখনও হাঁটু থেকে কোমর পানি বিরাজ করায় অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। জৈন্তাপুরে দরবস্ত ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব উপজেলার বাড়িঘর, রাস্তঘাটও বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ২০০৪ সালের পর নদীর পানি কখনো এতোটা বাড়েনি। ১৮ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বড় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। আর আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছেন, ২৩ জুন পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে।

এদিকে সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাইয়িদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। গতকাল বুধবার সিলেটে ৩১ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তাছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বৃষ্টিও কমছে না। তাই পাহাড়ি ঢল নামছে এবং আমাদের দেশেও পানি বাড়ছে।

এদিকে সুরমা নদীর পানি সামান্য বাড়ায় সিলেট শহরের বন্যা পরিস্থিতিরও কিছুটা অবনতি ঘটেছে। যে সকল বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকেছে, রাস্তাঘাট তলিয়েছে কিংবা অফিস ও দোকানপাটে পানি ঢুকেছে সেগুলোর খুব একটা হেরফের ঘটেনি। নগরীর বন্যা কবলিত বেশীরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে । অনেকবাসা বাড়ির বিদ্যুতের মিটার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে পিডিবি। গত দুই দিন যাবত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় এসব এলাকার বাসিন্দারা পানি বন্দি অবস্থায় থাকলেও সুপেয় পানির অভাবে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। যারা এখনো বাসা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমাননি তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটছে।

 সিলেট মহানগর এলাকায় ১০টি আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যার্তরা আশ্রয় নিয়েছেন। আরো ৬টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ।

কেন্দ্র গুলো হলো-১৫ নম্বর ওয়ার্ডে কিশোরী মোহন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরাবাজার, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে চালিবন্দর রামকৃষ্ন উচ্চ বিদ্যালয়, চালিবন্দর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল হামিদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাছিমপুর, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে বোরহান উদ্দিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উমরশাহ তেরোরতন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে মির্জাজাঙ্গাল স্কুল, মনিপুরী রাজবাড়ি আশ্রয় কেন্দ্র ও মাছুদিঘীর পাড়, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ঘাসিটুলা স্কুল, ইউসেফ স্কুল, কানিশাইল স্কুল, জালালাবাদ স্কুল, বেতের বাজার কাউন্সিলর কার্যালয়ালয়ের পাশের ৪তলা ভবন, এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে হবিনন্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সিলেট।   ১২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে (প্রতিটি প্যাকেটে চিড়া ৫০০ গ্রাম ও গুড় ২৫০ গ্রাম)। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে বন্যার্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বলে সিসিক সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, সিলেটে বন্যা কবলিতদের জন্য ১৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মুজিবর রহমান। এ সকল আশ্রয়কেন্দ্রে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউএনওদের সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার নির্দেশনা দেওয়া আছে।

জেলা প্রশাসক জানান, বন্যা কবলিতদের জন্য আরেকদফায় ১০০ টন চাল ও ৩০০০ প্যাকেট শুকানো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১২৯ টন চাল ও ১০০০ শুকানো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

মে / ১৮ / ২০২২
১২:১১ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

সিলেট