মে / ১৭ / ২০২২ ০১:০২ অপরাহ্ন

মোহাম্মদ আফজল

জানুয়ারী / ১৯ / ২০২২
১১:৪৫ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৭ / ২০২২
০১:০২ অপরাহ্ন

সিলেট লীগে বোলারদের একদিন



57

Shares

সিলেট প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগে বুধবার (১৯ জানুয়ারি) বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন চারদলের বোলার। সিলেট দুই মাঠে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচে চার ইনিংসে ৩৮ উইকেটের পতন ঘটিয়েছেন চার দলের বোলাররা। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইয়ং প্যাগাসাস ক্লাব ও বঙ্গবীর অগ্রগামীর দেখায় দুই দলেই অলআউট হয়েছে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। আর ব্যাটসম্যানদের ভুল শটে আউট হতে বাধ্য করেছেন দুই দলের বোলাররা। দুই দলের অলআউটের ম্যাচে ৪১ রানে জয় পেয়েছে বঙ্গবীর অগ্রগামী ক্রীড়া চক্র। দিনের অন্য ম্যাচে উইকেট পড়েছে ১৮টি, প্রথম ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান সংগ্রহ করে বীর বিক্রম ইয়ামিন ক্রীড়া চক্র। সাব্বির  নাজমুল, সুমন শফির বোলিং কারিশমায় ইয়ুথ সেন্টারকে ১৮৬ রানে ঘুরিয়ে দিয়ে সেই ম্যাচ ইয়ামিন ক্রীড়া চক্র জিতে ২৩ রানে।

অগ্রগামীর ৪১ রানের জয়ে বল হাতে ৩৩ রানে ৪ উইকেট শিকার করে মূল ভূমিকা পালন করেছেন অপস্পিনার বাহার হোসাইন। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম দুইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নাজমুল, সুমন, সাব্বির ও শফির বোলিং কারিশমায় ২৩ রানে ইয়ুত সেন্টারকে হারিয়েছে বীর বিক্রম ইয়ামিন ক্রীড়া চক্র। 

টানা দুই ম্যাচ হারের পর ৯ জানুয়ারি অনির্বাণ ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে জয় ফিরেছিল বঙ্গবীর অগ্রগামী ক্রীড়া চক্র। সেই হারের পর এখনো পর্যন্ত লীগে জয়ে ফিরতে পারেনি অনির্বাণ ক্রীড়া চক্র, তারা হেরেছে টানা তিন ম্যাচ। বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে বঙ্গবীর অগ্রগামীর, অনির্বাণকে হারানোর পর থেকেই জয়রথ ছুটছেই তাদের। বুধবার (১৯ জানুয়ারি) সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ইয়ং প্যাগাসাসকে ৪১ রানে হারিয়ে লীগে টানা তৃতীয় জয় পেয়েছে অগ্রগামী।

বুধবার অসুস্থতার কারণে ইয়ং প্যাগাসাসের বিপক্ষে খেলতে পারেননি বঙ্গবীর অগ্রগামীর নিয়মিত অধিনায়ক সায়েম আলম রিজভী, তার অনুপস্থিতি অগ্রগামীর হয়ে টস করতে নামেন এজাজ আহমেদ। সিলেটের এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। দলীয় ৩০ রানে দুই ওপেনার শেনাজ আহমেদ ও মুজাক্কির  সাজঘরে ফিরলে তার এই সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত। শুরুতেই অগ্রগামীর দুই ওপেনারকে সাজঘরে পাঠান ইয়ং প্যাগাসাসের বোলার শ্রাবণ। তবে চতুর্থ উইকেটে ৪৪ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক সেই ধাক্কা সামাল দেন তাওহিদুল ইসলাম ফেরদৌস ও নওশাদ আকবর নবাব। ইনিংসের ২৩তম ওভারে দলীয় ১০৮ রানে ফেরদৌসকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন প্যাগাসাসের বোলার রাহিম। সাজঘরে ফেরার আগে দলকে ৫৩ বলে ৫৬ রানের দারুণ একটি ইনিংস উপহার দেন ফেরদৌস। বঙ্গবীর অগ্রগামীর উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ৫৬ রানের ইনিংসটি সাজান ৮ বাউন্ডারি এবং ১ ছক্কায়।

ব্যাট হাতে আজ ছন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন রান খরায় থাকা নবাব, ফেরদৌসের সাথে ৪২ রানের জুটি গড়ার পাশাপাশি পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক এজাজ আহমেদের সাথে গড়েছেন আরও ৪২ রানের জুটি। দলীয় ১৫০ রানে অধিনায়ক এজাজ আউট হলে ভাঙে এই জুটি, সেই অগ্রগামীর ব্যাটিংয়েও ছন্দপতন ঘটে। ইনিংসের ৩২তম ওভারে শ্রাবণের ক্যাচে পরিণত করে এজাজকে সাজঘরে পাঠান পলাশ। এরপর আর বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি বঙ্গবীর অগ্রগামীর ইনিংস, ১৫০ রানে ৫ উইকেট হারানো অগ্রগামী গুটিয়ে যায় আরও ২১ রান যোগ করে। ৩৬.৩ ওভারে অগ্রগামী অলআউট ১৭১ রানে। দলের অধিনায়ক এজাজ আহমেদ ২ ছক্কায় ২৭ বলে করেন ২৩ রান। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫ রান আসে নবাবের ব্যাট থেকে। ইয়ং প্যাগাসাসের হয়ে পলাশ ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ২টি করে উইকেট লাভ করেন পারভেজ, শ্রাবণ ও রাহিম।

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ১৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ৩১ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসের ১১তম ওভারে এসে সেই জুটি ভাঙেন বাহার হোসাইন, ব্যক্তিগত ১২ রানে প্যাগাসাসের ওপেনার উমেদকে ফেরান এই অপস্পিনার। এর পরের ওভারে কামিলের বলে এলবিডব্লিউ ফাঁদে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরেন তিনে খেলতে নামা লাবিব। ১৫তম ওভারের চতুর্থ বলে চারে খেলতে নামা পলাশকে ফেরান পেসার জয়নুল। ওভারের পঞ্চম বলে ওপেনার রামিমকে ফিরিয়ে ইয়ং প্যাগাসাস শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন জয়নুল। ফলে ৪০ রানে ৪ উইকেট হারায় ইয়ং প্যাগাসাস।

দলীয় ৪৪ এবং ৫৮ রানে আরও দুটি উইকেট হারায় ইয়ং প্যাগাসাস। ইনিংসের ১৯তম ওভারে শরীফকে ফিরিয়ে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন বাহার হোসাইন। ইনিংসের ২৫তম ওভারে আবারও ব্রেকথ্রো এনে দেন বাহার, এবার তার শিকার ইমরান। ফলে ৫৮ রানেই ৬ উইকেট হারায় ইয়ং প্যাগাসাস।

সপ্তম উইকেটে ৪৪ রানের জুটি গড়ে ইয়ং প্যাগাসাসকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন শ্রাবণ ও বুলবুল। ইনিংসের ৩৩তম ওভারে বুলবুলকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাহার, সেই সাথে ম্যাচে নিজের চতুর্থ উইকেট শিকার করেন অগ্রগামীর এই অপস্পিনার। দলীয় ১০২ রানে সপ্তম উইকেট হারানোর পর ইয়ং প্যাগাসাস ৪৩ ওভারে গুটিয়ে যায় ১৩০ রানে। শেষ দিকে ৪ ওভার বোলিং করে ১২ রানে ২ উইকেট শিকার করেন বিয়ানীবাজারের বা হাতি স্পিনার জাহেদ আহমেদ। বাহার হোসাইন ৯ ওভারে ১ মেইডেন সহ ৩৩ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ২টি উইকেট পেয়েছেন পেস বোলার জয়নুল ইসলাম। ৩৩ রানে ৪ উইকেট শিকার করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন বাহার হোসাইন। খেলা শেষে বাহারের হাতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার তুলে দেন সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী সদস্য মোস্তফা ফরিদুল হোসেন কোরেশী।

দিনের অন্য ম্যাচে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম দুইয়েও বোলাররা দাপট দেখিয়েছে। বীর বিক্রম ইয়ামিন বোলারদের দাপুটে বোলিংয়ে ২৩ রানে হারিয়েছে ইয়ুথ সেন্টার ক্লাবকে।

প্রথমে ব্যাট করে ইমরানের ফিফটিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান সংগ্রহ করে বীর বিক্রম ইয়ামিন ক্রীড়া চক্র। দলের ইমরান সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন। ইমরান ৬০ রানের ইনিংস খেলার পথে চতুর্থ উইকেটে নাজিমকে নিয়ে গড়েন ৮৬ রানের জুটি। দলীয় ১৫৮ রানে ইমরান ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন ইয়ুথ সেন্টারের আমিনুল। দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন নাজিম। এছাড়া শফি ১৭ রান ও মাসুম ১৪ রান করলে ২০৯ রানের সংগ্রহ পায় বীর বিক্রম ইয়ামিন। ইয়ুথ সেন্টারের হয়ে ২টি উইকেট শিকার করেন সমীর। এছাড়া একটি করে উইকেট শিকার করেন রতন, মান্না, শুহাদুল, আমিনুল ও ফাহাদ।

জবাবে খেলতে নেমে নাজমুল, সাব্বির, সুমন ও শফির বোলিং তোপে ৪৮.২ ওভারে ১৮৬ রানে গুটিয়ে যায় ইয়ুথ সেন্টার ক্লাব। বীর বিক্রম ইয়ামিনের হয়ে নাজমুল ৪১ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ২টি করে উইকেট শিকার করেন সাব্বির, সুমন ও শফি। ইয়ুথ সেন্টারের হয়ে সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন ওপেনার মাজেদ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রান আসে রায়হানের ব্যাট থেকে।  ব্যাট হাতে ৬০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন বীর বিক্রম ইয়ামিনের ওপেনার ইমরান।

মোহাম্মদ আফজল

জানুয়ারী / ১৯ / ২০২২
১১:৪৫ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৭ / ২০২২
০১:০২ অপরাহ্ন

খেলা