জুলাই / ২৫ / ২০২১ ০৬:২৭ অপরাহ্ন

মাহবুবুল হক

এপ্রিল / ১৭ / ২০২১
১১:১৪ অপরাহ্ন

আপডেট : জুলাই / ২৫ / ২০২১
০৬:২৭ অপরাহ্ন

শামসুজ্জামান খান: সংস্কৃতি ও বিদ্বৎ জগতের মহিরুহ



86

Shares

১৪ এপ্রিল ২০২১ ছিল পহেলা বৈশাখ ও প্রথম রমজান। করোনা মহামারি সামলাতে সরকার কঠোরভাবে ঘরে আটকানোর নির্দেশ পালনের আহ্বান জানিয়ে ছিল মানুষকে। নববর্ষ পালনকে সীমিত করা হয়েছিল অন্তর্জাল মাধ্যমে ভার্চুয়াল রীতি-পদ্ধতিতে। করোনা মহামারির ব্যাপকতার আশঙ্কায় মানুষ ছিল সন্ত্রস্ত। এমনি দিনে দুপুর দুটোয় বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও বিদ্বৎ জগৎ থেকে চিরকালের মতো চলে গেলেন পুরোধা বুদ্ধিজীবী শামসুজ্জামান খান।

আমাদের সবার প্রিয় শামসুজ্জামান খানকে আমি দীর্ঘকাল ধরে জামান ভাই বলে জানি। তার সঙ্গে প্রথম পরিচয় ১৯৬৯ সালের দিকে। পরম সুহৃদ, বিশিষ্ট লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক তার সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মাহবুব জামানের বাসায়। তার পর থেকে দীর্ঘ পাঁচ দশক কাল ধরে নানা সভায়, নানা অনুষ্ঠানে, নানা কাজে, বাংলা একাডেমিতে, বিদেশযাত্রায় জামান ভাইকে আমি পেয়েছি অগ্রজপ্রতিম পরম শুভানুধ্যায়ী হিসেবে। সদা মৃদুভাষী, পরম সজ্জন, গভীর রসবোধসম্পন্ন ও অত্যন্ত হৃদয়বান তিনি। তার আন্তরিকতা, সৌজন্য ও প্রীতিতে আমি মুগ্ধ ও ধন্য।

১৯৮০-এর দশকে জামান ভাই বাংলা একাডেমিতে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন তার বহুমুখী কর্মতৎপরতার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল বাংলাদেশে ফোকলোর চর্চাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আন্তরিক প্রচেষ্টা। সে সময়ে তিনি বাংলা একাডেমিতে পর পর তিনটি আন্তর্জাতিক মানের ফোকলোর কর্মশালার অয়োজন করেছিলেন। তখন তিনিই আমাকে যুক্ত করেছিলেন ফোকলোর চর্চায়।

সে ১৯৮৭ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ফোকলোর কর্মশালার আমি অংশ নিয়েছিলাম। ফিনল্যান্ডের ফোকলোরবিদ লোরি হোংকো, মার্কিন ফোকলোরবিদ হেনরি গ্লাসি, ভারতীয় ফোকলোরবিদ জওহরলাল হান্ডু ও পাকিস্তানি ফোকলোরবিদ আকসি মুফতি কর্মশালায় আধুনিক ফোকলোর চর্চা ও পদ্ধতির নানা দিক তুলে ধরেছিলেন। সে কর্মশালায় আমাদের দেশের ফোকলোর বিশেষজ্ঞ ও আলোচক হিসেবে যারা যোগ দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন আতোয়ার রহমান, মনিরুজ্জামান, ওয়াকিল আহমদ, আশরাফ সিদ্দিকী, আবদুল হাফিজ প্রমুখ। তখন দেখেছি কর্মশালাকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্যে সারাক্ষণ কী ব্যস্ত থেকেছেন জামান ভাই। লোরি হোংকো, হেনরি গ্লাসি, জওহরলাল হান্ডু প্রমুখের সঙ্গে যেমন বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন, তেমনি আমাদের সঙ্গেও প্রাণবন্ত সময় কাটিয়েছেন। কাজপাগল অথচ আমোদপ্রিয় মানুষ হিসেবে জামান ভাইয়ের পরিচয় সেই প্রথম আমি পাই।

ওই কর্মশালার সূত্রেই সে বছর লোকসাহিত্য সংগ্রাহক আশুতোষ চৌধুরীর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ফোকলোর সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছিল চট্টগ্রাম শহরের সেন্ট প্লাসিডস স্কুল মিলনায়তনে। তাতে আমি প্রবন্ধ উপস্থাপন করি। মার্কিন ফোকলোরবিদ হেনরি গ্লাসি, পাকিস্তানি ফোকলোরবিদ আকসি মুফতি, জামান ভাই, চট্টলতত্ত্ববিদ আবদুল হক চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় জাদুঘরের প্রধান শামসুর হোসাইন আলোচনায় অংশ নেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের উদ্যোগে কলাভবনের গ্যালারিতেও আর একটি সেমিনার আয়োজন করেছিলেন জাদুঘরের কিউরেটর শামসুল হোসাইন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের কার্যক্রম উন্নয়নে ফোর্ড ফাউন্ডেশনকে যুক্ত করার কাজেও জামান ভাই উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছিলেন। ফোর্ড ফাউন্ডেশনের তহবিল দিয়ে জাদুঘরের গ্যালারি উন্নয়ন, কনজারভেশন ল্যাবরেটরি ও গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, ভাস্কর্য ক্যাটালগ প্রকাশ ইত্যাদি উন্নয়ন কাজ হয়েছিল।

জামান ভাই মনেপ্রাণে যে একজন সৃজনশীল সংগঠক সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। সে সম্পর্কে আমার আগের অভিজ্ঞতা আরো দৃঢ় হয় ২০০০ সালে। জামান ভাই তখন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক। জাতীয় জাদুঘরে প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের বিশাল কর্মসূচি নেয়া হয়। তাতে ‘দেশে দেশে বর্ণমালা’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করতে শামসুল হোসাইন ও আমাকে চট্টগ্রাম থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

সে বছর দেশে দেশে বর্ণমালা প্রদর্শনীটি দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শকের ভিড়। জাদুঘর চত্বর লোকে লোকারণ্য। জাতীয় জাদুঘরে কোনো প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে আর কখনো এত লোক সমাগম হয়েছিল বলে মনে হয় না। পরের বছরও জামান ভাই আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মহান একুশ উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘরে আবার প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য। সেবার প্রদর্শনীতে যুক্ত হয়েছিল বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাবৈচিত্র্য। সে বছর প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীকে সে প্রদর্শনীর বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব জামান ভাই দিয়েছিলেন আমার ওপর। প্রদর্শনীতে সে বছরও বিপুল দর্শকের সমাগম হয়েছিল।

জামান ভাই বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হওয়ার পর একাডেমিতে বাংলা বিদ্যা চর্চার সুবাতাস বইয়ে দিয়েছেন। তার উদ্যোগে একাডেমি থেকে প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ ও বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধান প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি যেসব কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলা একাডেমির হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনায় সচেষ্ট ছিলেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে : বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে লোকসাহিত্যের উপাদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রকাশনা; আঞ্চলিক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্মেলন; আন্তর্জাতিক ফোকলোর সম্মেলন; ভাষা আন্দোলন জাদুঘর, জাতীয় সাহিত্য জাদুঘর ও জাতীয় লেখক জাদুঘর প্রতিষ্ঠা; বাংলা একাডেমি আর্কাইভস স্থাপন; বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস রচনা; খ্যাতনামা সাহিত্য-সংস্কৃতিসেবীদের রচনা সংগ্রহ ও প্রকাশ; আঞ্চলিক ও জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশ; লোকজ সংস্কৃতি জরিপ; লোকসংস্কৃতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ; মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস প্রণয়ন ও প্রকাশনা ইত্যাদি। এছাড়া নবপর্যায়ে ‘উত্তরাধিকার’ পত্রিকা ও বাংলা একাডেমি বুলেটিন প্রকাশ করার ব্যবস্থা করে নতুন প্রজন্মের লেখক-পাঠকদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছিলেন তিনি।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হওয়ার পর সারাদেশে একাডেমির সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মতৎপরতাকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কখনো ফোকলোর বিষয়ক সেমিনার, কখনো ফোকলোর উপাদান সংগ্রহ, কখনো আঞ্চলিক সাহিত্য সম্মেলনÑ সারা বছর কর্মসূচি নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন জেলায় জেলায়।

জামান ভাই দীর্ঘকাল ধরে সভা-সমাবেশে সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ে আলোকপাত করে আসছেন। তার লেখায় ও আলোচনায় বাঙালি জাতিসত্তা, বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিশেষ গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে সাংস্কৃতিকভাবে সচেতন করা, তাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও বৈশ্বিক চেতনা জাগিয়ে তোলা, অপসংস্কৃতি ও ধর্মান্ধতা সম্পর্কে সচেতন করা, অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী মানস গঠনে উজ্জীবিত করা ইত্যাদিকে তিনি ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন।

১৯৮০-এর দশকেই জামান ভাইয়ের নজরে পড়েছিল বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চার সীমাবদ্ধতার বিভিন্ন দিক। তিনি লক্ষ করেছিলেন, বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চা ও গবেষণার ধারা এক ধরনের দেশজ বৈশিষ্ট্য আচ্ছন্ন। তা আন্তর্জাতিক ফোকলোর চর্চার ধারা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশে ফোকলোর চর্চা যথাযথ গতি না পাওয়ার কারণ নিয়েও তিনি তখন ভেবেছিলেন। তার মনে হয়েছিল, জাতীয় সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় নির্মাণে ফোকলোরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে শিক্ষা-পরিকল্পক, সংস্কৃতির নীতি-নির্ধারক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ণধার প্রমুখের সম্যক ধারণার অভাব রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফোকলোর পঠন-পাঠন ও ফোকলোর বিষয়ক গবেষণাকে তেমন গুরুত্ব না দেয়ায় তিনি গভীর মর্মপীড়া অনুভব করেন। দেশে দক্ষ লোকসংস্কৃতি-গবেষক গড়ে না ওঠার জন্য একেই তিনি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক বিশ্বের ফোকলোর চর্চার ধারার সঙ্গে বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চাকে সম্পর্কিত করার ক্ষেত্রে জামান ভাইয়ের অবদান অসামান্য। বলতে গেলে এ ক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। বর্তমান বিশ্বের প্রথম কাতারের ফোকলোরবিদদের নিয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের কর্মশালার আয়োজন করে তিনি বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চার উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন। তার বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চা তাত্ত্বিক ও পদ্ধতিগত দিক থেকে বৈশ্বিক চিন্তাধারার সঙ্গে যোগসূত্র রচনায় অনেকখানি এগিয়ে গেছে।

জামান ভাই বিশ্ব ফোকলোর অঙ্গনে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ফোকলোর চর্চার বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তার বিশেষ অবদান ইংরেজি ভাষায় দুই খণ্ডে ‘ফোকলোর ইন বাংলাদেশ’ (প্রথম খণ্ড ১৯৮৭, দ্বিতীয় খণ্ড ১৯৯২) সম্পাদনা। বাংলাদেশের পাঠক সমাজ ও ফোকলোর গবেষকদের ফোকলোর-মনস্ক ও ফোকলোর-সচেতন করার কথা ভেবে তিনি সম্পাদনা করেছেন ‘বাংলাদেশের লোকঐতিহ্য’ (১৯৮৬) গ্রন্থটি। এই গ্রন্থে সংকলিত বিশিষ্ট লেখক ও গবেষকদের লেখা প্রতিনিধিত্বশীল ৩৪টি মূল্যবান প্রবন্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির মোটামুটি পরিচয় তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চার সীমাবদ্ধতার কথা মনে রেখে জামান ভাই নিজেও ফোকলোর বিষয়ক নানা লেখায় মনোনিবেশ করেছেন। এরই ফসল তার প্রবন্ধ সংকলন ‘আধুনিক ফোকলোর চিন্তা’ (২০০১)। এই গ্রন্থে সংকলিত ‘বাংলাদেশের ফোকলোর : ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আধুনিকতার নতুন দিগন্ত’, ‘বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চা : আন্তর্জাতিক সংযোগ’, ‘ফোকলোর চর্চার বিশ্ব প্রেক্ষাপট : সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশক’, ‘ইউরোপে সাম্প্রতিক ফোকলোর চর্চা’, ‘বিশ ও একুশ শতকের ফোকলোর চর্চা’ ইত্যাদি প্রবন্ধে তিনি আধুনিক ফোকলোর চর্চার তাত্ত্বিক ও পদ্ধতিগত বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন এবং বৈশ্বিক চিন্তা-চেতনার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে বাংলাদেশে ফোকলোর চর্চা ও গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এ গ্রন্থে সন্নিবেশিত কিছু প্রবন্ধ এবং কিছুকাল পরে প্রকাশিত তার ‘ফোকলোর চর্চা’ (২০০৬) গ্রন্থের বিভিন্ন প্রবন্ধ আধুনিক ফোকলোর চর্চার নতুন আলোয় বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান সম্পর্কে সম্যকভাবে বোঝার পক্ষে সহায়ক।

শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে দীর্ঘ কর্মজীবনে জামান ভাই গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আদর্শকে সমুন্নত রেখে চলেছেন। চিন্তা ও কর্মে নিরন্তর লালন করে চলেছেন অসাম্প্র্রদায়িক মানবতাবাদী চেতনাকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বুদ্ধিবৃত্তির চর্চায় তিনি সব সময় নিজেকে হালনাগাদ ঋদ্ধ করায় প্রয়াসী। বাংলাদেশের সংস্কৃতির অঙ্গনে পাঁচ দশক কাল ধরে তিনি বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির চর্চায় নিবিষ্টভাবে যুক্ত। এ ক্ষেত্রে তিনি একাধারে কর্মী, সংগঠক ও রূপকল্পক। প্রায় তিন দশক তিনি লোকসংস্কৃতি চর্চা করছেন। এ ধারায় তিনি আধুনিক ফোকলোর চর্চার অন্যতম পুরোধা হিসেবে মান্য।

আমাদের জাতীয় জীবনের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে একজন অগ্রগণ্য বুদ্ধিজীবী জামান ভাই। সংস্কৃতির শক্তিতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে নবপ্রেরণায় এগিয়ে নেয়ার কাজে তিনি ছিলেন সদাতৎপর। আশির কাছাকাছি বয়সেও এ ক্ষেত্রে এক অদম্য পথযাত্রী ছিলেন তিনি। বলতে গেলে তিনি ছিলেন এ দেশের সাংস্কৃতিক জগতের বিশাল মহিরুহ।

মর্মান্তিক দুঃখের বিষয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের এই মহান পুরোধা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনার ভাষা আমাদের জানা নেই।

করোনা মহামারির চরম প্রতিবন্ধকতার মধ্যে তাকে শেষ বিদায় জানানোর সুযোগ হলো না তার অসংখ্য সহকর্মী, আত্মীয়বর্গ ও শুভানুধায়ীসহ সাংস্কৃতিক জগতের অগণিত সহযোদ্ধার। তবে বাংলা বিদ্যাচর্চা ও বাঙালি সংস্কৃতির ঋদ্ধ অনুরাগীদের হৃদয়ে সর্বদাই থাকবে তার মর্যাদার আসন। তার কর্ম-অবদানকে স্মরণ করি বিনম্র শ্রদ্ধায়।

মাহবুবুল হক

এপ্রিল / ১৭ / ২০২১
১১:১৪ অপরাহ্ন

আপডেট : জুলাই / ২৫ / ২০২১
০৬:২৭ অপরাহ্ন

সাহিত্য