নভেম্বর / ২৯ / ২০২১ ০৯:০৯ অপরাহ্ন

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

অক্টোবর / ১৬ / ২০২১
১২:১৭ অপরাহ্ন

আপডেট : নভেম্বর / ২৯ / ২০২১
০৯:০৯ অপরাহ্ন

রাত পোহালেই হেমন্তকাল কমছে না গরমের তীব্রতা



55

Shares

রাত পোহালেই হেমন্তকাল তবুও কমছে না গরমের তীব্রতা। যেখানে সকালের শিশির বিন্দুর মুক্তা দানার সোনালী ধানের শীষে আদ্র বাতাসে খেলা করার কথা, সেখানে সকালের সূর্য জানান দিচ্ছে গরমের তীব্রতা। গ্রীষ্ম, বর্ষা-শরৎের শেষ তবুও কাটছে না গরমের রেষ।

দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। ভ্যাপসা গরম কিছুতে কমছে না। ফলে নাজুক হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। দিনে যেমন রোদের প্রতাপ, রাতে তেমন গরম হাওয়া। গেলো কয়েক দিন ধরে অফিসগামী মানুষ, শ্রমিক, স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং অল্প বয়সের শিশুরা,মাঠের রাখাল গরম ও তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশে শরৎকাল শুরু হয় আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে আর শেষ হয় অক্টোবরের মাঝামাঝিতে। এই ঋতুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল আবহাওয়ায় হালকা ঠাণ্ডা থাকে। কিন্তু লক্ষ্য করার বিষয় হল এই বছর শরতের বৈশিষ্ট্যের ছিটেফোটাও নেই এদেশের আবহাওয়ায়। হালকা ঠাণ্ডার পরিবর্তে দেখা মিলছে তীব্র গরমের।

আবহাওয়ার এ পরিবর্তন দেখে এক কথায় বলা চলে শরৎকালে চলছে গ্রীষ্মের তাপদাহ। আর এ তাপদাহের সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে কর্মজীবী মানুষের উপর।

প্রচণ্ড তাপদাহে বিধ্বস্ত মানুষের জনজীবন। গরমের তীব্রতা যেন কয়েকগুণ বেড়ে অসহনী পর্যায়ে চলে গেছে। তাই সব মিলিয়ে বলা চলে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থাওষ্ঠাগত প্রাণীকুল। এছাড়া সূর্যের প্রখর তাপে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেক মানুষ।

গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মানুষজন একটু প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে কেউবা যাত্রী ছাউনিতে, কেউ গাছের নিচে, কেউবা বাঁশ তলায় বসে ও শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। খবর নিয়ে জানা যায় গতকাল গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন স্পটগুলোতে তীব্র গরমের মাঝে ও পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। কিন্তু পর্যটকরা স্বাচ্ছ্যন্দ মনে উৎফুল্ল ভাবে তাদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেননি, স্বাভাবিক চলাফেরা ও আনন্দ উপভোগে ব্যাহত হয়েছে। গরমের তীব্রতায় অনেক মোটরসাইকেল আরোহীদের সাইকেলের টায়ারের টিউব বাস্ট হয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। শুক্রবার দিন হওয়ায় অনেক মোটর সাইকেলের দোকানে কর্মরত ছেলেমেয়েদের উপস্থিতি কম ছিল, তাই আরো একটু বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

বহুকাল আগে থেকেই বাংলাদেশকে ষড়ঋতুর দেশ বলা হলেও এখন বাস্তবে সেই ঋতুগুলোকে অার আলাদা করে উপলব্ধি করা যায় না। এক সময় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত ঋতুর আবির্ভাব ঘটতো। কিন্তু বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি অার জলবায়ুর পরিবর্তনে নিশ্চিত করেই বলা যায়, এদেশের ঋতু বৈচিত্র্য পাল্টে গেছে।

পাল্টে গেছে বলেই গ্রীষ্ম, বর্ষা আর শীতের বাইরে এখন অন্য কোনো ঋতুকে আলাদা করে চেনা যায় না বললেই চলে। দেশের জলবায়ুতে এমন বড় পরিবর্তনের সর্বশেষ উদাহরণ বর্ষাকাল (আষাঢ়-শ্রাবণ)। এবছর বর্ষারও দেখা নেই। হাওর অঞ্চলে যা-ও বা কয়েকদিনের জন্য বর্ষা এসেছিল; কিন্তু সারাদেশে তার কোনো প্রভাব ছিল না। এই ঋতুর বড় বৈশিষ্ট্য হলো বৃষ্টিপাত। কিন্তু এই আষাঢ়-শ্রাবণে ঋতুর চরিত্র অনুযায়ী বৃষ্টিপাত ছিল না।

এই তীব্র তাপদাহ থেকে কবে মুক্তি মিলবে তা বলতে পারছে না কেউই। এমনকি আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতিদিনই বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়ে গেলেও দিনশেষে সেই বৃষ্টি অধরাই থাকছে। তাদের কথা ঠিকঠাক মিলছে না।

আবহাওয়াবিদরাও বলছেন, গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরমের কারণ মূলত বর্ষা ঋতুর চরিত্র বদলে যাওয়া। আর বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরম বেশি অনুভব হচ্ছে। যে কারণেই হোক না কেন, প্রকৃতির এ বৈরি আচরণের বড় শিকার হচ্ছে মানুষ। যদিও এর পেছনে সবচেয়ে বড় দায়ও এই মানুষেরই। কেননা বছরের পর বছর আর যুগের পর যুগ ধরে মানুষ এই প্রকৃতিকে ধ্বংসের খেলায় মেতেছে। যার ফল বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়া।

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

অক্টোবর / ১৬ / ২০২১
১২:১৭ অপরাহ্ন

আপডেট : নভেম্বর / ২৯ / ২০২১
০৯:০৯ অপরাহ্ন

সিলেট