অক্টোবর / ১৭ / ২০২১ ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

সেপ্টেম্বর / ২৫ / ২০২১
০৯:০৫ অপরাহ্ন

আপডেট : অক্টোবর / ১৭ / ২০২১
০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

অবশেষে ১৫ বছর পর সিলেটে চালু হলো শেখ হাসিনা শিশু পার্ক



81

Shares

১৫ বছরের জং ছুটলো, চালু হলো শেখ হাসিনা শিশু পার্ক। সিলেটে সরকারি উদ্যোগে প্রথম শিশু পার্কটির নির্ম্যাণ কাজ শুরু হয়েছিলো ১৫ বছর আগে। তবে কোন নামে হবে এই নিয়ে মতভেদে কেটে গেছে ১৫ বছর। দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে নির্মিত পার্কটি এতোদিনেও চালু করা যায়নি। এতে পার্কে বসানো রাইডে জং ধরেছে। বিকল হয়েছে কিছু। আর চুরি হয়েছে বৈদ্যুতিক সাব স্টেশনের যন্ত্রপাতি।

অবশেষে ১৫ বছর পর শনিবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’। শনিবার দুপুর থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে এটি খুলে দেওয়া হয়। এসময় সিটি করপোরেশনের একাধিক কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকদিন চালু থাকবে পার্কটি। এসময়ে কোনো সমস্যা দেখা না দিলে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

এদিকে, শনিবার চালুর পর বিকেলে অনেকেই ভিড় করেন নতুন এই পার্কে। টিকিক কেটে পার্কের বিভিন্ন রাইড ঘুরে দেখেন তারা। বিশেষত শিশু-কিশোরদের ভিড় ছিলো পার্কে।

সিসিকের জনসংযোগ শাখা জানায়, পরীক্ষামূলক চালু থাকা অবস্থায় পার্কে যারা ঢুকবেন, তাদেরকে ‘পরীক্ষামূলক’ রাইড চালুর তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষামূলক এ যাত্রায় কোনো রাইডে সমস্যা পাওয়া গেলে সেটির সমাধান করা হবে।

সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

শেখ হাসিনা শিশু পার্কে বসানো রাইডগুলোর মধ্যে রয়েছে- রোলার কোস্টার, ম্যাজিক প্যারাস্যুট, মনোরেল, ভিজিটিং ট্রেন, রেলগাড়ি, পাইরেট শিপ, স্নিপার, সিসরাইড, বোট, টুইস্টার, বাম্পার কার, ফ্রুট ফ্লাইং চেয়ার, নাগরদোলা, ফ্যারসেল, জাম্পিং ফ্রগ প্রভৃতি।

জানা গেছে, ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ এম সাইফুর রহমানের উদ্যোগে এই পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তখন মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন স্থাপনসহ পার্কের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়। সাইফুর রহমানের নামে পার্কটির নাম রাখার সিদ্ধান্ত হয় সে সময়। কিন্তু বিএনপি সরকার বিদায় নেওয়ার পর পার্কটির কাজে স্থবিরতা নেমে আসে।

বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ আছে, সাইফুর রহমানের নাম থাকায় সিসিকের তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র পার্কটি চালু করতে উদ্যোগ নেননি।

মধ্যখানে প্রায় ৮ বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে পার্কটি। এরপর ২০১৩ সালে বিএনপি নেতা ও সাইফুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরে পার্কটি চালুর উদ্যোগ নেন। চীন থেকে আনা হয় বিভিন্ন ধরনের রাইড। ২০১৭ সালে শুরু হয় রাইড বসানো, বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের কাজ।

কিন্তু নামকরণ জটিলতায় আটকে যায় পার্ক চালুর বিষয়টি। মেয়র আরিফ পার্কটি সাইফুর রহমানের নামে করতে একটি প্রস্তাবনা পাঠান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু মন্ত্রণালয় তাতে সাড়া দেয়নি।

এরপর ‘সিলেট ন্যাচারাল পার্ক’, ‘দক্ষিণ সুরমা পার্ক’ নামে পার্কটি করতে চায় সিসিক। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এটি শেখ হাসিনার নামে করার প্রস্তাব তুলেন। সরকারের মন্ত্রণালয়ও এতে সায় দেয়।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিসিকের ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়। এ বাজেটে ওই পার্কটির জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা জানান মেয়র আরিফ। সবমিলিয়ে এ পার্কটিতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

সেপ্টেম্বর / ২৫ / ২০২১
০৯:০৫ অপরাহ্ন

আপডেট : অক্টোবর / ১৭ / ২০২১
০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

সিলেট