অক্টোবর / ১৭ / ২০২১ ০৩:১১ পূর্বাহ্ন

শেখ জাহান রনি, মাধবপুর

অক্টোবর / ১২ / ২০২১
০৫:৩৮ অপরাহ্ন

আপডেট : অক্টোবর / ১৭ / ২০২১
০৩:১১ পূর্বাহ্ন

মাধবপুর পৌরসভা ২৪ বছর ধরে চলছে ভাড়া ভবনে



59

Shares

ষাষ্ঠর্ধে আলী আকবর মাধবপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডর বাসিদা। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার নাগরিক হিসেবে প্রতি বছর পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ ও পানি বিল পরিশোধ করে আসছে। ৩২শ ভোটার পূর্ব মাধবপুর ১নং ওয়ার্ডটিতে রয়েছে প্রায় ৮ হাজার লোকজন। প্রাইভেট গ্রাহক হিসেবে সব  ধরনের পৌর কর পরিশোধ করে আসা আলী আকবর, আলী ইমাম খা, আহম্মদ আলীর স্ত্রী রাকিয়া বেগমসহ অনেকেরই আক্ষেপ হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভা গ্রেড উন্নতি হলেও নাগরিক সুবিধার  উন্নয়ন হয়নি। ১ম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শ্রেণীর বলে অভিযোগ  করেন ওই ওয়ার্ডের লোকজন। প্রধান সড়ক ব্যতিত পূর্ব মাধবপুর ওয়ার্ডর সকল রাস্তাই কাচা, ৯০% কর আদায় করা হলেও সরবরাহ হচ্ছেনা সুপেয় খাবার পানি, ডাম্পিং পয়েন্ট ও ময়লা পরিস্কার লোক না থাকায় যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা, রাস্তায় সড়ক বাতি না থাকায় সন্ধ্যায় অন্ধকার নামার সাথে সাথে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে উৎকন্ঠা প্রকাশ করেন পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আবজল মিয়া। তিনি আক্ষেপ করে বলেন আমরা ১নং ওয়ার্ডবাসী অজাপাড়ায় বসবাস করি। খোজ নিয়ে জানাযায়, ১৯৯৭ সালের ২রা আগষ্ট প্রতিষ্ঠিত এ পৌরসভাটি পর্যায়ক্রম ৩য় শ্রেণী থেকে গত ২০১২ সালে ‘১ম’ শ্রেণীতে উন্নতি হয়। প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটারের পৌরসভার ভিতরে সর্বমোট রাস্তা রয়েছে ৫৬.৯ কি.মি। এর মধ্যে প্রধান প্রধান সড়ক ও ব্রিজ নির্মান হলেও পর এলাকার ভিতরে এখনো কাঁচা রয়েছে ১৬.৬০ কি.মি.। পৌরসভার ২ এবং ৯নং ওয়ার্ড তেমন উন্নয়ন হয়নি বলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল হাকিম ও দুলাল খাঁ এর সাথে কথা বলে জানাযায়। পৌরবাসিরা সমহারে গৃহ ও ভূমির উপর কর, স্মরক সম্পত্তি হস্তান্তর, ইমারত নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ, ব্যবসা ও কলিং, জন্ম, বিবাহ ও দত্তক গ্রহন, যানবাহন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, হাটবাজার, সার্টিফিকেট, ফরম ইত্যাদির উপর বিগত বছর গুলার চেয়ে চলতি বছরে কর বাড়লেও বাড়নি নাগরিক সুবিধা। করের চাপ পৃষ্ট হওয়ার উপক্রম পৌরবাসিদের। ২৪ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত পৌরসভা আজও নির্মাণ করতে পারেনি নিজস্ব পৌরভবন। ২০১৭ সালের শেষের দিকে ভবন নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে চৌমুহনী ইউনিয়নের আতাউস সামাদ বাবু নামে এক যুবক স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে সচিবসহ ৭জনকে বিবাদী করে পৌরভবন নির্মাণের বিরাধীতা করে হাইকোর্টে ২২৯২/১৮ নং রীট পিটিশন দায়ের করে। দায়েরকৃত রীট পিটিশন নিঃষ্পত্তি না হওয়ায় আজো ভবন নির্মান সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের কোর্ট বিল্ডিংয়ে মাসে ১শ টাকায় ভাড়ায় চলছে ১ম শ্রেণীর পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম। বৃষ্টির পানিতে মাধবপুর বাজারসহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড সৃৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। রয়েছ পৌর এলাকায় নকশাবিহীন বিল্ডিং তৈরীর অভিযাগ। ১৬ হাজার ২৪ জন ভোটারের পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডই চলছে এ কার্যক্রম।

এ বিষয় পর সচিব মোঃ আমিনুুল ইসলাম জানান, আমরা অনুমাদনবিহীন বিল্ডিং তৈরীর বিরুদ্ধে তৎপর রয়েছি। প্রকৌশলী বিভাগসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলদের মাধ্যমে খরব রাখার চেষ্টা করি। কোথাও এ রকম হলে পৌর আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধ ব্যবস্তা নিব। পৌর শহরের অভাত্তরে সম্প্রতি সরকারী খাস ভূমি উদ্ধার হলেও পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় আবার বেহ্যত হতে চলছে। পৌর বাসিন্দার দীর্ঘদিনের দেখানো স্বপ্ন পৌর টার্মিনাল, পৌর কিচেন মার্কেট, পৌর সুপার মার্কেটের জায়গা নির্ধারিত থাকলেও আজো বাস্তবায়ন হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষ বিগত কয়েক বছর যাবৎ পৌর মার্কেট ও টার্মিনাল নির্মাণ বাৎসরিক বাজেটের বরাদ্দ রাখলেও অদৃশ্য কারণে আজো আলোরমুখ দেখেনি। পৌরশহরের ভিতরে বিল্ডিং কোড না মনে বহুতল ভবন তৈরী করায় রাস্তা সংকুচিত হয়েছে।এছাড়াও বিল্ডিং এর উপচে পড়া পানি রাস্তার উপর পড়ায় নাগরিকের স্বাভাবিক যাতায়াত বিঘ্নিত হচ্ছে।

পৌরশহরের আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা পৃথক না হওয়ায় সমান তাল চলছে বহুতল ভবনের কাজ। যা ভবিষ্যতে পৌরসভার নাগরিকদের স্বাভাবিক বসবাসের বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাজী ওসমান খাঁনসহ বেশ কয়েকজন সচেনত নাগরিক।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মানিক বলেন আমি ৮ মাস হল নির্বাচিত হয়ে দ্বায়িত্ব গ্রহন করছি। প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ওয়ার্ড ভিত্তিক সকল জনগনের মতামত নিয়ে সকল বাধা অতিক্রম করে পৌরভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ভবন নির্মাণের জন্য ৪৪ লাখ টাকা ব্যাংক একাউন্টে জমা আছে। পৌর এলাকার বাহিরের এক যুবক বৃহৎ উন্নয়ন কাজটি বাধাগ্রস্ত করার জন্য উদ্দেশ্য মুলখভাবে গত মেয়রের আমলে হাইকোর্ট রীট দায়ের করে। ওয়ার্ড ভিত্তিক উন্নয়ন কাজ ধারাবাহিকভাবে চলছে বলে তিনি দাবি করেন। 


শেখ জাহান রনি, মাধবপুর

অক্টোবর / ১২ / ২০২১
০৫:৩৮ অপরাহ্ন

আপডেট : অক্টোবর / ১৭ / ২০২১
০৩:১১ পূর্বাহ্ন

হবিগঞ্জ