জুন / ২৬ / ২০২২ ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

সোহেল রানা, কোম্পানিগঞ্জ প্রতিনিধি

মে / ১৭ / ২০২২
১১:৩৮ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৭:২০ পূর্বাহ্ন

কোম্পানীগঞ্জে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ



73

Shares

পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে কোম্পানীগঞ্জ  উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের পর্যটন ও পাথর সমৃদ্ধ অঞ্চল কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বেশীরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়ে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিলেট- ভোলাগঞ্জ মহাসড়ক থেকে  উপজেলা পরিষদ ও থানা বাজারের রাস্তা পানির নিচে রয়েছে। এছাড়া কোম্পানীগঞ্জ সদরের সাথে সংযোগ থাকা বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকার অনেক রাস্তা পানির নিচে রয়েছে। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জের ধলাই ও পিয়াইন নদীর পানি। পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ  ও থানা বাজার পানিতে তলিয়ে যাতায়াতের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়ক সমূহের উপর দিয়ে কোথাও কোথাও দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। 

বসতবাড়িতে পানি উঠায় পানিবন্দি হয়ে অনেকে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন।বসত বাড়ির পাশাপাশি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পানি উঠে গেছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকের পুকুর ডুবে মাছ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ধলাই এবং পিয়াইন নদী দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সোমবার থেকে কোম্পানীগঞ্জ নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে রাতে হঠাৎ করে উঁচুস্থান ও বিভিন্ন অফিস, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যায়।   মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউপি, পূর্ব ইসলামপুর ইউপি, তেলিখাল ইউপি, উত্তর রনিখাই  ইউপি ও ইছাকলস ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়ে পড়েছে।  

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোম্পানীগঞ্জ পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে নিচতলায় পানি উঠে গেসে। টেবিলের উপরে গাদাগাদি করে লোকজন অবস্থান করেছেন। উল্লেখ্য উপজেলার মোট ৩৪ টি আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যাদুর্গত মানুষজন আশ্রয় নিয়েছে। তবে পুরো উপজেলায় আনুমানিক প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, পুরো উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে ২ মে. টন করে মোট ১২ মেট্রিক টন চাল ও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবারের ত্রাণ ৬ টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। 

১নং ইসলামপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান হাজী জিয়াদ আলী জানান, বন্যায় আমার ইউনিয়নের রাস্তা- ঘাট, বাড়ি- ঘর, ফসিল জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু তলিয়ে গেছে। সরকারিভাবে মাত্র ২ মেট্রিক টন চাল ও ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পেয়েছি যা খুবই কম৷ আবার বেশি পরিমাণে বরাদ্দ দিলে বন্যাকবলিত মানুষের কিছুটা হলেও দুর্ভোগ কমত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, লুসিকান্ত হাজং জানান, কোম্পানীগঞ্জে বন্যার পানি অবনতি হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু  হয়েছে। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে । এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। ত্রাণের সাথে পানি বিশুদ্বকরণ ট্যাবলেট দেওয়া হচ্ছে, পানি পানে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে ।

সোহেল রানা, কোম্পানিগঞ্জ প্রতিনিধি

মে / ১৭ / ২০২২
১১:৩৮ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৭:২০ পূর্বাহ্ন

সিলেট