জুন / ২৬ / ২০২২ ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন

সুমন আহমেদ, জৈন্তাপুর

মে / ১৭ / ২০২২
০১:৪২ পূর্বাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন

জৈন্তাপুরে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি


আকষ্মিক বন্যায় প্লাবিত জৈন্তাপুরের ইমরান আহমদ সরকারি মহিলা কলেজ

85

Shares

জৈন্তাপুরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে। অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সারী ও বড় নয়াগাং নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বিপৎসীমার দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

সোমবার (১৬ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন নিজপাট, জৈন্তাপুর, চারিকাটা, দরবস্ত, ফতেপুর ও চিকনাগুল ইউনিয়নের নিচু এলাকার মানুষ। বিশেষ করে নিজপাট জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বেশীরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার অধিবাসীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷ বন্যায় আটকে পড়া লোকজনকে গৃহপালিত পশু নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে৷ প্রবল স্রোতে অনেক রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যাওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়। বিশেষ করে উপজেলা সদরের ইমরান আহমদ সরকারি মহিলা কলেজ, জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী ডিগ্রী কলেজ, ব্রিগেডিয়ার মজুমদার বিদ্যানিকেতন, ক্যাপ্টেন রশিদ স্কুল এন্ড কলেজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

উপজেলা সদরের সাথে বিভিন্ন গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নৌকা দিয়ে হাঁট বাজারে যাতায়াত করছে নিম্নাঞ্চলের মানুষ। নদী ভাঙনে হুমকীর মুখে গ্রামের কাচাঁ রাস্তা ও নদী তীরবর্তী এলাকার বসতবাড়ী। সারী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ১০০ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রভাহিত হচ্ছে। 

তবে রবিবার সকাল থেকে নদীর পানি কিছুটা কমতে দেখা গেলেও সোমবার ভোর থেকে পূনরায় দ্রুতগতিতে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলার নিজপাট এবং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি রয়েছে। বেশির ভাগ কাচাঁ রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন গ্রামসহ উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নদ-নদীর পানি এখন বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে পাহাড় ও নদীর তীরবর্তি লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশংকা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

এদিকে সোমবার বিকেলে নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও হাওরের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এবারের বন্যায় উপজেরার মধ্যে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কৃষি পরিবারের মানুষ। 

খামারিরা গবাদি পশুর খাদ্য নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন। পানিবন্দি মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়ে ১৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও  আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছেনা।

সোমবার ভোর থেকে বন্যা প্লাবিত এলাকায় পরিদর্শন করেছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. বশির উদ্দিন, অফিসার ইনর্চাজ গোলাম দস্তগীর আহমদ, নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সামজিক, রাজনৈকিতক ও প্রশাসকিন নেতৃবৃন্দ।

সুমন আহমেদ, জৈন্তাপুর

মে / ১৭ / ২০২২
০১:৪২ পূর্বাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন

সিলেট