জুলাই / ২৫ / ২০২১ ০৯:৫২ অপরাহ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি

জুলাই / ০৩ / ২০২১
০৮:০৪ অপরাহ্ন

আপডেট : জুলাই / ২৫ / ২০২১
০৯:৫২ অপরাহ্ন

জাফলংয়ে বনের রাজা জহিরুলের যত অপকর্ম (ভিডিওসহ)


জহিরুল ইসলাম রাজু

2727

Shares

সিলেট জেলার সারি রেঞ্জের জাফলং বন বিটের কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম রাজু। চলনে বলনে ও কথাবার্তায় মনে হয় তিনি জাফলং বনের রাজা। বন এলাকায় চলাফেরা করেন নিজস্ব বাহিনী নিয়ে। বনভূমির পাথর উত্তোলন, জায়গা ভাড়া ও অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নিতে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সিন্ডিকেট। আর এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিমাসে আয় করেন লক্ষ লক্ষ টাকা। নারী-পুরুষ নিয়ে প্রায় শতাধিক লোকের সমন্বয়ে গঠিত এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জাফলং বন বিটের কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম রাজু এলাকার নিরীহ মানুষের উপর দিয়েছেন শত শত মিথ্যা মামলা। এমন অভিযোগ করেছেন জাফলং এর শান্তিনগর, নলজুরী, মোহাম্মদপুর, রহমতপুরের কয়েকশত অধিবাসী। 

আরো পড়ুন’: বুধবার থেকে সিলেটের যেসব এলাকায় ৮ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকবে না

বন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম রাজু ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর জাফলং বিট এ যোগদানের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ভালো সাজতে তামাবিল ও মোহাম্মদপুরের কিছু জায়গা উদ্ধার করেন। কিছু অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করেন। এরপর শুরু হয় তার অবৈধ ভাড়া বাণিজ্য। তিনি সোনাটিলা মৌজায় প্রায় পনের/বিশ একর জমি প্রতি শতক বার্ষিক পনেরো হাজার টাকা হিসেবে পাথর ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া প্রদান করেন। মোহাম্মদপুরের কাছে তিনি কয়েকটি স্টোন ক্রাশার বসানোর সুযোগ দেন। কানাইজুরি এলাকার গড়ে উঠা স্টোন ক্রাশার থেকে প্রতিমাসে ভাড়া নেন লক্ষাধিক টাকা।No description available.

ওই কর্মকর্তা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বনের জমি ও টিলা থেকে পাথর উত্তোলন, বনের জায়গা দখল ও ভাড়া দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তার এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তিনি মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রতিবাদকারীদের হয়রানি করেন। এসব অপকর্ম করতে তিনি ঐ এলাকায় কয়েকজন নারী-পুরুষ নিয়ে একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন। নজরুল ও জিয়া নামের স্থানীয় দুই যুবক তার এই সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে কাজ করেন। তার এই অপকর্ম ঢেকে রাখতে তিনি সাংবাদিক, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের ম্যানেজ করতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেন এই রকম স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও ক্লিপ আমাদের হাতে এসেছে।  গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের শান্তিনগর, সোনাটিলা, মোহাম্মদপুর, রহমতপুর, কানাইজুরী, তামাবিল এলাকায় রয়েছে বন বিভাগের কয়েক হাজার একর জমি। সিলেট-তামাবিল-জাফলং সড়কের দুই পাশে অনেক জমি বেদখল হয়ে যায়। বন বিভাগের এসকল জমিতে গড়ে উঠে স্টোন ক্রাশার মেশিন ও পাথর কয়লার ডাম্পিং ইয়ার্ড। No description available.

বিট কর্মকর্তা তার বাহিনীর মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকার বিনিময়ে রাতের আঁধারে বনের গাছে কেটে তামাবিল রাস্তা থেকে প্রায় পাঁচশ’ গজ ভেতরে পাথর রাখার ডাম্পিং ইয়ার্ড তৈরি করে দেন। কানাইজুরি, নলজুরি এলাকায় বনভ‚মি উজাড় করে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করে তার নিজস্ব বাহিনী। এসব পাথরের প্রতিগাড়ি ও ট্রলি থেকে তিনি ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করেন। সংরক্ষিত বন এলাকায় অনেকগুলো বসতি গড়ে উঠেছে। এদেরকে উচ্ছেদ না করে তিনি প্রতিটি স্থাপনা/বাড়ি থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেউ মাসোহারা না দিলে তাকে মিথ্যা মামলার আসামি করা হয়। লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে তাদের উপর হামলা করা হয়। শুধু তাই নয় হামলার শিকার অসহায় পরিবারকে দু-একদিন পর গাছ কাটার মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। বিট কর্মকর্তার ভয়ে কেউ মুখ খোলতে সাহস পায় না। জাফলংয়ের বেশিরভাগ মানুষই বন বিভাগের দায়েরকৃত ২৫/৩০টি মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বিট কর্মকর্তা জহিরুল এসব অপকর্মের মাধ্যমে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তিনি নিজ এলাকায় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। কিছুদিন পূর্বে আট লক্ষ টাকা দামে কিনেছেন একটি প্রাইভেট কার। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বিশেষ প্রতিনিধি

জুলাই / ০৩ / ২০২১
০৮:০৪ অপরাহ্ন

আপডেট : জুলাই / ২৫ / ২০২১
০৯:৫২ অপরাহ্ন

সিলেট