অক্টোবর / ১৭ / ২০২১ ০৪:১০ পূর্বাহ্ন

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

অক্টোবর / ১৩ / ২০২১
১০:৫২ অপরাহ্ন

আপডেট : অক্টোবর / ১৭ / ২০২১
০৪:১০ পূর্বাহ্ন

গোয়াইনঘাটে বর্তমান সময়ে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম বাপ্পী



149

Shares

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের হাদারপার (নয়াবাড়ি) গ্রামের সমসাদ মিয়ার ছেলে মোঃ বাপ্পি এক আতঙ্কের নাম। সম্প্রতি সময়ে নানা-ঘটনায় গোয়াইনঘাটে সন্ত্রাসী হিসেবে বাপ্পি তার পরিচয় তুলে ধরেছে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান,চলতি বছর পবিত্র ঈদুল আযহার দিন সন্ধায় সালুটিকর - গোয়াইনঘাট সড়কের বঙ্গবীর পয়েন্টে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে বাপ্পি একই ইউনিয়নের খাইরাই গ্রামের সাজ্জাদুর রহমানের ছেলে মফিজুর রহমানে ধারালো ছুরি দিয়ে গাড়ে আঘাত করে। ছুরির আঘাতে মফিজুর রহমান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এতে মফিজুর রহমানের  প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। অপর দিকে গত দুইমাস আগে হাদারপার আনফরের ভাঙ্গায় পর্যটকবাহী নৌকার ঝেরে বাপ্পি হাদারপার বাজার জামেমসজিদের সামনে উপরগ্রামের মৃত কুতুব আলীর ছেলে আব্দুল মুতলিবের পেটে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে এতে মুতলিবের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ওই ছুরি বর্তমানে হাদারপার গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বি নুরুল ইসলামের কাছে জমা রয়েছে। এছাড়াও হাদারপার বাজার এলাকায় এপর্যন্ত অহরহ ন্যাক্কার জনক ঘটনা সে প্রতিনিয়ত ঘটাচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এইসব ঘটনা নিয়মিত ঘটালেও তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাপ্পি স্থানীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে হাদারপার বাজারে মোটরসাইকেলের একটি অবৈধ স্টোপেজে স্থাপন করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছিলো। সর্বশেষ গত ৯ অক্টোবর (শনিবার) সকালে উপরগ্রামের মৃত ডাক্তার জহিরুল ইসলামের ছেলে ডাঃ রাকিবুল ইসলাম হাদারপার বাজারে তার মালিকানাধীন ফার্মেসিতে বসেছিলেন। এসময় বিছনাকান্দি পর্যটন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে আসা কয়েকজন পর্যটক ডাঃ রাকিবুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করেন কোন বাহন দিয়ে হাদারপার বাজার থেকে বিছনাকান্দি পর্যটন কেন্দ্রে যাবো। রাকিবুল ইসলাম পর্যটকদের নৌকা যোগে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এতেই পাশে থাকা বাপ্পি  চওড়া হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে রাকিবুল ইসলাম ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। হাদারপার বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে মেইন সড়কের ফিজা এন্ড কোম্পানির সামনে রাকিবুল ইসলাম পৌঁছার পর পেছন থেকে প্রানে মারার উদ্দেশ্যে বাপ্পি  খাশিয়া দা দিয়ে সজোরে কয়েকটি
আঘাত করে। এতে রাকিবুল ইসলাম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা রাকিবুল ইসলামকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট এম,এ,জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।পাশাপাশি বাপ্পির কাছ থেকে দা উদ্ধার করে ইউপি সদস্য জলাল উদ্দিনের কাছে জমা রাখা হয়েছে।

রাকিবুল ইসলামের ছোট ভাই সজিবুল ইসলাম বাদী হয়ে  সিলেট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ম আদালতে একটি  মামলা দায়ের করেছেন। বিজ্ঞ বিচারক বিষয়টি আমলে নিয়ে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা রুজু করার জন্য গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে বাপ্পি দ্রুত বিদেশে পালিয়ে যাওয়ায় জন্য প্রানপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সজিবুল ইসলাম বলেন, বাপ্পিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মুলুক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য জোরদাবী জানাচ্ছি।

গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ পরিমল চন্দ্র দেব বলেন, হাদারপার বাজারের ফার্মেসী ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম বাড়ীতে যাওয়ায় পথে বাপ্পি নামের এক যুবক দা দিয়ে আঘাত করে। এ সংক্রান্ত একটি মামলা রুজু করার জন্য কোর্ট থেকে নির্দেশ করা হয়েছে। আজকে মধ্যে মামলাটি রুজু করে আসামিকে গ্রেফতার করা হবে।

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

অক্টোবর / ১৩ / ২০২১
১০:৫২ অপরাহ্ন

আপডেট : অক্টোবর / ১৭ / ২০২১
০৪:১০ পূর্বাহ্ন

সিলেট