সেপ্টেম্বর / ২৬ / ২০২১ ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি

জুলাই / ২৫ / ২০২১
০৭:৪৭ অপরাহ্ন

আপডেট : সেপ্টেম্বর / ২৬ / ২০২১
০৪:১৫ পূর্বাহ্ন

গোলাপগঞ্জে ভূমিদস্যুদের কবলে খেলার মাঠ

প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন



131

Shares

সিলেটের গোলাপ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের শতবর্ষের পুরনো হাতালী মাঠ দখলের পাঁয়তারা করছেন এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। ভুল তথ্য দিয়ে ভূমি রেকর্ডে ইউনিয়নের হাতালী খেলার মাঠকে নিজ পিতার নামে নথিভূক্ত করিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ নিয়ে প্রতিবাদে মূখর বাঘা ইউনিয়নবাসী।

রবিবার খেলার মাঠের নাম পরিবর্তন করে রেকর্ড সংশোধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন বাঘা ইউনিয়নের ‘বাঁচাও হাতালী মাঠ’ ও ‘হাতালী সংরক্ষণ কমিটি বাঘা’। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সিলেট জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণাধীন হাতালী খেলার মাঠ চলমান জরিপে কথিত শিল্পপতি গোলাম রব্বানী চৌধুরী তার বাবা গোলাম মোস্তফা চৌধুরী খেলার মাঠ নামে নথিভূক্ত করে নেয়। ভূমি দখলের উদ্দেশ্যে জরিপ কর্মকর্তাদের সাথে অবৈধ যোগাসাজসে এমনটি করা হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
কৃতি খেলোয়াড় শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও আব্দুল আলিম শাহর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জুবের আহমদ, মনসুর আহমদ, আব্দুর রশিদ, হেলাল আহমদ, সেবুল আহমদ, কবির আহমদ, ইমাম উদ্দিন, আব্দুর রহমান, হাফিজ রাজু, বাচ্ছু মিয়া, তাওহীদুর রহমান শাহ, রাজু আহমদ, লিলু আহমদ প্রমুখ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল আলীম শাহ বলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক খতিয়ানের অন্তর্ভূক্ত প্রায় ৭.৬০ একর ভূমি নিয়ে শতবর্ষ পুরনো এ হাতালী মাঠ। একটি ভূমিখেকো চক্র দীর্ঘদিন থেকেই মাঠটি দখলের পাঁতারা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ভূমি জরীপ কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসে মাঠের নাম পাল্টে এক কথিত শিল্পপতির পিতার নামে করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা মনে করি এটা মাঠ দখলের প্রথম ধাপ। যদি এখান থেকে উতরে যেতে পারেন, তবে কদিন পর তারা পুরো মাঠটিকে নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি বলে দখল করে নেবেন। তিনি বলেন, এমনিতেই আমাদের অঞ্চলের খেলার মাঠগুলো একে একে হারিয়ে যাচ্ছে। ইউনিয়নের চার থেকে পাঁচটি গ্রামের ছেলেপেলেদের জন্য সরকারী এই মাঠটিই একমাত্র খেলার মাঠ। তাই আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যেন মাঠটি তার স্বনামে নথিভূক্ত করা হয় এবং ভূমি দখলের এই চক্রান্তের সাথে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
তবে এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছে গোলাপগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবিদা সুলতানা। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, আমি মাত্র কয়েকদিন হলো এখানে যোগদান করেছি, তাই এ বিষয়ে অবগত নই। তবে আমি ব্যাপারটি খতিয়ে দেখবো।
আর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, এরকম কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসে নি। তবে সরকারী খতিয়ানের জায়গা যদি কোনো ব্যাক্তির নামে চলে যায় কিংবা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো জমির রেকর্ডে কোনো ব্যক্তির নাম অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায় সেক্ষেত্রে তা সংশোধনে উপজেলা ভূমি অফিসে একটি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। তারা যাচাই বাছাই করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। আমি এ ব্যাপারে খোঁজ নেব।
তবে এলাকাবাসীর দাবি দ্রæততম সময়ের মধ্যেই যেন মাঠটির পূর্বের নাম পুনর্বহাল করা হয়। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন তারা।

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি

জুলাই / ২৫ / ২০২১
০৭:৪৭ অপরাহ্ন

আপডেট : সেপ্টেম্বর / ২৬ / ২০২১
০৪:১৫ পূর্বাহ্ন

সিলেট