মে / ১৭ / ২০২২ ০১:৪১ অপরাহ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

জানুয়ারী / ১৯ / ২০২২
০৭:২০ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৭ / ২০২২
০১:৪১ অপরাহ্ন

এবার আন্দোলনের ‘চিত্র’ তুলে ধরে শাবি প্রশাসনের বক্তব্য প্রদান



55

Shares

টানা ছয়দিন ধরে আন্দোলনে আছেন। সর্বশেষ বুধবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে তাদের মধ্য থেকে ২৪জন ছাত্র-ছাত্রী উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন ভাঙবেন না বলে জানিয়েছেন। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় শাবি প্রশাসন বক্তব্য প্রদান করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়- ‘শাহালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের প্রতি মনোনিবেশ করেন। শিক্ষার্থীদের সেশনজট থেকে মুক্ত করা এবং নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশসহ প্রায় সাড়ে নয়শো কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের পদক্ষেপ নেন। প্রায় ১৩ বৎসর পর তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করেন। কোভিড-১৮ জনিত মহামারী দেখা দিলে এপ্রিল ২০২০ থেকেই শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস শুরু করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গৃহীত সকল প্রচেষ্টা দেশ বিদেশে প্রসংশিত হয়।

মহামারীকালে শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের ব্যবস্থা করেন। তিনি অনলাইনে ক্লাস চাপিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের প্রত্যেক মাসে ফ্রি ডাটা সরবরাহ করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণা চালিয়ে যাবার নিরন্তর উৎসাহ দিয়ে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অশরীরে ক্লাস চালুর পূর্বে আবাসিক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হল সমূহ পরিষ্কার-পরিছন্ন করাসহ ভৌত কাঠামো সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার শতভাগ টিকা কর্মসূচীর আওতায় আনার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসেই টিকা প্রদান ও টিকা সনদ প্রাপ্তির সুবিধার্থে নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসেই এনআইডি প্রদানের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। উদ্যোগগুলোর মূলে ছিলো ভাইস চ্যান্সেলরের এই ইচ্ছা যে, ছাত্র-ছাত্রীরা যেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নির্বিঘ্নে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারে।

এই অবস্থায় গত ১৩ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে ভাইস চ্যান্সেলর অবহিত হন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের কিছুসংখ্যক ছাত্রী তার সঙ্গে দেখা করতে চান। তিনি জানতে পারেন, ঐ রাতে হলের প্রভোস্ট মহোদয়ের সাথে ছাত্রীদের কথাবার্তায় শিক্ষার্থীগণ সন্তুষ্ট না হওয়ায় সরাসরি উপাচার্যের সাথে কথা বলতে অগ্রহী। পরে এ সময় ধৈর্য সহকারে ছাত্রীদের বক্তব্য শুনে পরদিন তাদের দাবিসমূহ লিখিত আকারে নিয়ে আসার অনুরোধ করেন। পরদিন (১৪ জানুয়ারি) তারিখে ছাত্রীরা লিখিত দাবী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, প্রভোস্ট, প্রক্টরবৃন্দ আলোচনা করেন এবং দাবিসমূহ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ছাত্রীগণ তা মেনে নিয়ে সন্তুষ্টচিত্তে সভাস্থল ত্যাগ করলেও পরবর্তীতে সভাকক্ষের বাইরে উপস্থিত অপেক্ষমান অন্যান্য শিক্ষার্থীগণ সভার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন।

এর পরদিন (১৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ জন শিক্ষককে পরিস্থিতির ব্যাপারে ভাইস চ্যান্সেলর অবহিত করেন। সকল দাবী-দাওয়া কার্যকর করার এবং মেনে নেয়ার বিষয়টি অবহিত হয়ে শিক্ষকরা কর্মসূচী প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীগণ শিক্ষকবৃন্দের এ আহবানকেও প্রত্যাখ্যান করে স্বঘোষিত আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।

১৬ জানুয়ারি ভাইস চ্যান্সেলর উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে করণীয় নির্ধারনের জন্য সকল ডিন (বিভাগীয় প্রধান)-দের সমন্বয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় দায়িত্বরত প্রভোস্টের অব্যাহতি গ্রহণ এবং হলের প্রভোস্ট পদে একজন সিনিয়র অধ্যাপকের সম্মতি গ্রহণে সিদ্ধান্ত করে ছাত্রীদের সকল দাওয়া মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এসব সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবহিত করে কর্মসূচি প্রত্যাহার শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষক সম্মিলিতভাবে আহবান জানালেও চেতনা একাত্তরের যেতে শিক্ষার্থীরা 'মানি না, না' স্লোগান শিক্ষকদের সাথে থাকেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ছাত্র-ছাত্রীদের মূল দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নেওয়ার পরও অদ্যাবধি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের উপর দায় বর্তাবার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সরকার ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের আহবানের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরে যাওয়ার আহবান উপেক্ষা করছেন শিক্ষার্থীরা।’

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের অংশগ্রহণে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি এক অনন্য উচ্চতায় রয়েছে এবং অগ্রগতি অব্যাহত আছে। এ চেতনাকে ধারণ করে উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবেলায় ও দেশের স্বার্থে এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবান শিক্ষা জীবন নির্বিঘ্নে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নিমিত্তে সকল মহলের সর্বাত্মক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করে শাবি প্রশাসন।

এদিকে, পূর্ব নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দের একটি অনুষ্ঠানে ভাইস চ্যান্সেলর অংশ গ্রহণের জন্য তাঁর কার্যালয় থেকে রওয়ানা দিলে শিক্ষার্থীরা আটকিয়ে প্রতিবন্ধকতা করে এবং শিক্ষার্থীরা তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে হয়। সময়ে ভাইস কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ তাঁকে কর্ডন ঘিরে এবং শিক্ষার্থীদের আক্রমণে আহত হয়। কোনক্রমে কর্মচারীগণ প্রাণ রক্ষার্থে ভাইস চ্যান্সেলরসহ আইআইসিটি ভবনে আশ্রয় নেন। ভাইস চ্যান্সেলর ঐ ভবনে আশ্রয় নেওয়ার সাথে সাথে ছাত্র-ছাত্রীরা ভবনে তালা তাঁকে আটকে রাখেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপকবৃন্দ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ছাত্র-ছাত্রীকে শান্ত করার চেষ্টা থাকেন। সকল দাবী-দাওয়া নেওয়া ও কার্যকর করার আশ্বাস প্রদান করলেও শিক্ষার্থীরা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি রাখেন এবং ভাইস চ্যান্সেলরকে মুক্ত করার চেষ্টাকে বাঁধা দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষকে দাবি-দাওয়া মানার আশ্বাস লিখিতভাবে দেওয়ার দাবি তোলেন। এ দাবি নিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের অনুমোদনের জন্য তাঁর কাছে কোষাধ্যক্ষ যাওয়ার জন্য তালাবদ্ধ গেইটের কাছে গেলে হঠাৎ অস্থিরতা তৈরি করেন ছাত্র-ছাত্রীরা। একপর্যায়ে তারা শিক্ষক ও পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ অনেকে আহত হন। পুলিশের ভাষ্যমতে- কর্তব্য পালনার্থে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।’

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

জানুয়ারী / ১৯ / ২০২২
০৭:২০ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৭ / ২০২২
০১:৪১ অপরাহ্ন

সিলেট