জুন / ২৬ / ২০২২ ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার

মে / ১৬ / ২০২২
০৯:২৯ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

দোয়ারাবাজারে বন্যা পরিস্থিতি নাজুক



66

Shares

প্রায় এক সপ্তাহের টানা বর্ষণের পর সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। এতে দোয়ারাবাজার উপজেলার কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে।

বেড়েছে পাহাড়ি ঢল।  নদ-নদী ও খালে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে।  পানিবন্দি জনপদে ফসলি জমি এবং বীজতল‍া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে।  রাস্তাঘাটসহ গ্রামীণ অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বৃষ্টি আবারও শুরু হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।  এদিকে পানিবন্দি লক্ষ লক্ষ মানুষের অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, বৃষ্টি কমলেও দোয়ারাবাজার উপজেলা সদর ও সুরমা ইউপিতে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।  নরসিংপুর ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের  পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে।   তবে সেখানেও ফসল, বীজতলা পানির নিচে আছে।  

পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নরসিংপুর ইউপির চেলানদীতে পানি আরও বেড়েছে। এতে নদীভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়েছে। দোয়ারা সদর ও সুরমা ইউনিয়নে ও পাহড়ি ঢলে  পানি বাড়ায় কয়েকটি গ্রাম এবং সড়কে পানি বেড়েছে। বসতঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে।  

সুরমা ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামের কৃষক সানোয়ার হোসেন জানান, টানা বর্ষন আর পাহাড়ি ঢলে শরীফপুর গ্রামে সোমবার সকাল থেকে পুনরায় পানি বাড়তে শুরু করেছে।  ফসলি জমি ও বীজ তলা পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘর ও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আসবাবপত্রের  ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে এই এলাকার মানুষ।

নরসিংপুর ইউপির শ্যামার গ্রামের কৃষক আমির উদ্দিন জানান, পাহাড়ি ঢলে এই এলাকার একটি স্কুল, মাদ্রাসা ও ব্যুরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। রাস্তা ভেঙ্গে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

দোয়ারা সদর ইউপির বাসিন্দা ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন জানান, পাহাড়ি ঢলে সদর ইউনিয়নের বড়বন্দ ও রায়নগর গ্রামের কৃষিজমিসহ অধিকাংশ বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। এতে হতাশায় মানবেতর দিন পার করছে এই এলাকার মানুষ। 

অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সেনাসদস্য  সুরমা ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল জানান, টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে শরীফপুর গ্রামে ক্ষতির সংখা বেশি দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ বাড়িঘর, স্কুল, মসজিদ, রাস্তা ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। সকাল থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও পানি কমতে দেখাযায়নি। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছে শরীফপুর গ্রামের মানুষ। 

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাংশু কুমার সিংহ বলেন, পাহাড়ি ঢলে বন্যার কারনে কোথায় কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমরা তথ্য সংগ্রহ করতেছি। সরকার থেকে অনুদান এলে  সহযোগিতা করা হবে।

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার

মে / ১৬ / ২০২২
০৯:২৯ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জ