জুন / ২৬ / ২০২২ ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

মে / ১৭ / ২০২২
০২:২২ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৭:২৮ পূর্বাহ্ন

বৃহত্তর জৈন্তার বিস্তীর্ন এলাকা বন্যার পানিতে সয়লাব



49

Shares

সারি, গোয়াইন, ধলাই, সুরমা ও কুশিয়ার ডাইক ভেঙ্গে বৃহত্তর জৈন্তার প্রায় সকল অঞ্চল হয়েছে বন্যাকবলিত । টানা বর্ষণ আবার তার  সাথে 'মরার উপর খাঁড়ার ঘা' যোগ হয়েছে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল।  ফলশ্রুতিতে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল ছেয়ে গেছে প্লাবনে।  

বৃহত্তর জৈন্তার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার বাইরেও সিলেট সদর, জকিগঞ্জ উপজেলাতেও বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের এই ৬ উপজেলার নিম্নাঞ্চল ছেয়ে গেছে প্লাবনে। 

গতকাল রবিবার বৃষ্টিপাত কম হলেও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। ফলে নতুন করে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় গৃহপালিত পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি উপজেলার সাথে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

কোথাও ডাইক ভেঙ্গে নদীর পানি ঢুকছে, কোথাও আবার তীর উপচে ঢুকছে পানি লোকালয়ে। এদিকে জেলার সবগুলো নদীর পানিও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পাউবো কর্মকর্তারা জানান, সিলেট অঞ্চলের গেল কয়েকদিনের বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে উজান থেকে নেমে আসা ঢল। ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসাম প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গতকাল রবিবার বৃষ্টিপাত না হলেও উজানের ঢলের কারণে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট এবং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। এ উপজেলায় ফসলি জমিও তলিয়ে গেছে।

কানাইঘাট উপজেলায় সুরমা নদীর প্রবল ঢলে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের কুওরঘড়ি ডাইকে ভাঙ্গন দেখা দেয়। উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম, বড়চতুল, লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব, সাতবাঁক, কানাইঘাট সদর, দিঘীরপাড় পূর্ব ও দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা ও রাস্তা-ঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কানাইঘাট বাজারের সকল গলিতেই কোমর পানি থেকে হাঁটু পানি পর্যন্ত ভিজে লোক চলাচল প্রত্যক্ষ করা গেছে।

কানাইঘাট-চতুল-দরবস্ত সড়ক, কানাইঘাট-গাছবাড়ী গাজী বোরহান উদ্দিন সড়ক, কানাইঘাট-সুরইঘাট সড়ক ও কানাইঘাট-শাহবাগ-জকিগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সিলেট শহরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলার সারী-গোয়াইনঘাট সড়কের লাফনাউট, আলীরগাঁও কলেজ, আলীরগ্রাম, বেকরা ব্রিকফিল্ডসহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠেছে। গোয়াইনঘাট-রাধানগর সড়ক, গোয়াইনঘাট-সোনারহাট সড়কের বিভিন্ন স্থান তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান জানান, গোয়াইনঘাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন করে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।  তিনি বলেন, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। ত্রাণের সঙ্গে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পানি পানে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলারও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। 

জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল, মানিকপুর ও কাজলসার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সুরমা কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙ্গে ও উপচে পড়া পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা থাকায় তলিয়ে গেছে পৌরসভার জকিগঞ্জের প্রধান ডাকঘর, প্রাণী সম্পদ অফিস, স্থলশুল্ক স্টেশন, জকিগঞ্জ ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট। জকিগঞ্জে অন্তত ১৫টি স্থানে ডাইক ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, সিলেটে সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নের (বর্তমানে সিটি করপোরেশনের ৩৯নং ওয়ার্ড) পীরপুর এলাকায় সুরমা নদীর ডাইক ভেঙ্গে শুক্রবার থেকে পানি প্রবেশ শুরু করে। এছাড়া সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

সুরমার পানি ঢুকে সোমবার সকালে নগরের উপশহর, সোবহানিঘাট, কালীঘাট, ছড়ারপাড়, শেখঘাট, তালতলা, মাছিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়। এসব এলাকার বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনায়ও পানি ঢুকে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন মানুষজন। 

সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, সিলেটে ১৮ মে পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলা প্রচুর বৃষ্টি হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এই নদ-নদী গুলো সহ অন্য নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বন্যার পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করতে পারে। সিলেট, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতির দিকে আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। এরই মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় সহায়তা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে আরো পাঠানো হবে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

মে / ১৭ / ২০২২
০২:২২ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৭:২৮ পূর্বাহ্ন

সিলেট