জুন / ২৬ / ২০২২ ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন

আব্দুল হাই আল-হাদী

মে / ১৬ / ২০২২
০৭:৪৪ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৯:০৮ পূর্বাহ্ন

আর কত ক্ষতি হলে ‘দুর্গত এলাকা ঘোষণা’ করা হবে!



174

Shares

অবস্থা মোটেও ভাল নয়, বরং আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে । অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলের কারণে পানি ক্রমশ: বেড়েই চলছে। বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ। কাজ-কর্ম বন্ধ, আঘাত এসেছে মানুষের রুটি-রুজির ওপর। অচল হয়ে গেছে জীবনের চিরচেনা কোলাহল। নদী-নালা, খাল-বিল উপচে পানি এখন রাস্তা-ঘাট, খোলা মাঠ, গোচারণ ভূমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সবখানে। বন্ধ হয়ে গেছে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা । অস্তিত্বের সাথে লড়ছেন তারা। বড্ড বিপদে আছেন দুর্গত এলাকার লক্ষ লক্ষ অধিবাসী। 

মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরও খাদ্য সংকট তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে। কিন্তু অবস্থা যতটুকু খারাপ, যেভাবে আলোচিত হওয়ার কথা-তা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। নীতি-নির্ধারকরা কেমন যেন উদাসীন! এটা সম্ভবত: দুর্যোগের তীব্রতা সেভাবে আলোচনায় না আসার কারণেই। সেই বৈশাখ মাসের একেবারে প্রথম দিকে এক দফা পাহাড়ি ঢল ’পাকা ধানে মই দিয়ে গেল’। চোখের সে জল শুকাতে না শুকাতেই আবার আসলো পাহাড়ি ঢল, আরো বেশি শক্তি নিয়ে। বৃষ্টি যেন  ঝেঁকে বসেছে অনন্তকালের জন্য। সাথে বজ্রপাত আর নিয়মিত ঘুর্ণিঝড়। ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে, বজ্রপাতে অনেকগুলো প্রাণহানি ঘটেছে। খাদ্য আর খাবার সংকটে মানুষের কষ্টের কোন কমতি নেই। উৎপাত বাড়ছে সাপের। বীজতলা ডুবে গেছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বলছিলাম, উত্তর-পূর্ব সিলেটের পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিজনিত অকাল বন্যার কথা। প্রায় দশ দিনে এখানকার জনজীবন লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। কিন্তু এ বিপুল সংখ্যক দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ কিংবা উদ্ধার প্রক্রিয়া যেভাবে হওয়ার কথা- সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বরাদ্দকৃত সামান্য চাল ছাড়া সরকারী বড় কোন ক্রাণ তৎপরতা দৃশ্যমান নয়।

জনপ্রতিনিধিরা বন্যাক্রান্তদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন কিন্তু দেওয়ার মতো কোন সরকারী ত্রাণ তাদের হাতে নেই। তাই সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানিগঞ্জকে অবিলম্বে ’দুর্গত এলাকা ঘোষণা’ জরুরী হয়ে পড়েছে।

’দুর্গত এলাকা ঘোষণা’ করতে হলে একটি প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হয় যেটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ এর ২২ এর (২) উপধারায় বর্ণিত আছে। সেখানে বলা আছে, ’(২) কোন অঞ্চলে সংঘটিত মারাত্মক ধরণের কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণসহ উক্ত দুর্যোগের অধিকতর ক্ষয়ক্ষতি ও বিপর্যয় রোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি ও আবশ্যক হইলে স্থানীয় পর্যায়ের কোন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, গ্রুপ বা সংস্থা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের নিকট সুপারিশ পেশ করিতে পারিবে।’ অর্থাৎ উপজেলা বা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে সুপারিশ করতে হবে। বন্যা দুর্গত উপজেলাগুলোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি কিংবা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে তাই অবিলম্বে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করার জন্য আহবান জানাচ্ছি। এতে দুর্গত মানুষের উপকার হবে, ত্রাণ মিলবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই তাই উত্তর-পূর্ব সিলেটের বন্যা উপদ্রত এলাকা ’দুর্গত এলাকা ঘোষণা’র জোর দাবি জানাই।

আব্দুল হাই আল-হাদী, লেখক ও পরিবেশকর্মী।  

আব্দুল হাই আল-হাদী

মে / ১৬ / ২০২২
০৭:৪৪ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ২৬ / ২০২২
০৯:০৮ পূর্বাহ্ন

মফস্বল