মে / ০৭ / ২০২১ ১০:১১ পূর্বাহ্ন

মোহাম্মদ আফজল

মে / ০১ / ২০২১
০৮:৪২ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ০৭ / ২০২১
১০:১১ পূর্বাহ্ন

৩৭ রান তুলতেই নেই বাংলাদেশের শেষ ৭ উইকেট


29

Shares

পাল্লেকেলের উইকেটে খোলস পাল্টে এখন পুরোটাই বোলিং পিচ রুপ নিয়েছে। প্রথম টেস্টে উইকেটের যে আচরণ করেছিল সেটা দ্বিতীয় টেস্টে থাকবে না এটা শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দিমুথ করুনারতেœর কথায় কিছুটা আভাস পাওয়া গিয়েছিল। সে কথা মাথায় রেখে লঙ্কান এই অধিনায়ক তিন পেসার পরিবর্তে তিন স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজান। অধিনায়কের সেই ছকের ফলও পেয়েছেন হাতে না হাতে, তৃতীয় দিনে সফরকারী বাংলাদেশকে অল আউট করেছেন মাত্র ২৫১ রানে। বাংলাদেশকে এতো কম রানে বেধে ফেলার মূল ভূমিকায় ছিলেন লঙ্কান স্পিনার প্রাভিন জয়াবিক্রমার। ৯২ রানে প্রাভিন জয়াবিক্রমার শিকার ৬ উইকেট। 

পাল্লেকেলের উইকেটের আচরণ ভিন্নতা আসবে সেটা আগে থেকেই আন্দাজ করা গিয়েছিল, তবে তৃতীয় দিনে এমন ভয়ংকর রুপ নিবে তা হয়তো ভাবতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। 

লঙ্কানদের ৪৯৩ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে দারুণ সূচনা করে বাংলাদেশ। শুরুর সেই ছন্দ এক সেশনের বেশি ধরে রাখতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। শেষ সাত ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন মাত্র ৩৭ রান যোগ করে। 

উদ্বোধনীয় জুটিতে তামিম ইকবাল এবং সাইফ হাসান মিলে গড়েন ৯৮ রানের জুটি। ব্যক্তিগত ২৫ রানে সাইফ হাসান আউট হলে ভাঙ্গে তাদের এই জুটি। সাইফ হাসানকে ফিরিয়ে প্রথম উইকেট শিকার করেন জয়াবিক্রমা। পরের ওভারে আগের ম্যাচে সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হোসেনকে সাজঘরে পাঠান মেন্ডিস, রানের খাতা খুলার আগেই আউট হন নাজমুল। 

পরপর দুই উইকেট হারিয়ে একটু ব্যাকফুটে বাংলাদেশ, কিন্তু এর ফাঁকে ফিফটি করেন তামিম ইকবাল। চারে ব্যাট করতে নামা অধিনায়ক মমিনুল হক নিয়ে তৃতীয় উইকেটে গড়েন ৫২ রানের জুটি। আবারও সেঞ্চুরির দারপ্রান্তে গিয়ে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন তামিম ইকবাল, সেই নার্ভাস নাইনটিজের স্বীকার তামিম ইকবাল। সেঞ্চুরি থেকে ৮ রান দূরে থাকতে আউট হন ৯২ রানে। তাকেও ফিরান জয়াবিক্রমা। 

তামিম আউট হলে ক্রিজে আসেন মুশফিকুর রহিম, অপরপ্রান্তে থাকা অধিনায়ক মমিনুল হককে নিয়ে গড়েন ৬৩ রানের জুটি। সেই সাথে বাংলাদেশ পাড় করে দলীয় ২০০ রান। দলীয় ২১৪ রানে মুশফিককে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন জয়াবিক্রমা, মুশফিক ফিরেন ব্যক্তিগত ৪০ রানের মাথায়। মুশফিক আউট হলে নামে ব্যাটিং বিপর্যয়, ২১৪ রানে ৩ উইকেট থেকে ২৫১ রানেই অল আউট বাংলাদেশ। ৩৭ রান তুলতেই নাই শেষ সাত উইকেট। 

চা বিরতির পরেই নামে এমন বিপর্যয়, শুরুটা অধিনায়ক মমিনুল হককে দিয়ে। যেই মেন্ডিসের বলে ১ এবং ১১ রানে জীবন পাওয়া বাংলাদেশের অধিনায়ক আউটও হয়েছেন সেই মেন্ডিসের বলে। মেন্ডিসের ফুল টস বল দৃষ্টিকটুভাবে ইয়র্কার বানিয়ে এলবিডব্লিউ হন তিনি ৪৯ রানে। 

পরের ওভারেই লিটনকে দারুণ ডেলিভারিতে ফেরান জয়াবিক্রমা। কিছুটা প্রতিরোধ গড়া মেহেদী হাসান মিরাজকে ফিরিয়ে তিনি পূরণ করেন পাঁচ উইকেটের মাইলফলক। পরে তাসকিনকে ফিরিয়ে ধরেন ষষ্ঠ শিকার। 

দ্বিতীয় নতুন বলে সুরাঙ্গা লাকমল নেন শেষ দুই উইকেট। শেষ আউট হওয়া ব্যাটসম্যান তাইজুল হিট উইকেট হন অদ্ভুতভাবে। ডিফেন্স করার চেষ্টায় ভারসাম্য হারিয়ে খুলে যায় তার একটি বুট, পা গিয়ে লাগে স্টাম্পে। 

বিশাল লিডের পর শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কা দ্রুত হারায় দুই উইকেট। মিরাজের বলে সিøপে ক্যাচ দেন লাহিরু থিরিমান্নে। তাইজুলকে তেঁড়েফুড়ে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হন ওশাদা ফার্নান্দো। 

শ্রীলঙ্কার তাতে খুব দুর্ভাবনার কিছু নেই। বরং ম্যাচ বাঁচানোর পথ খুঁজতে হবে বাংলাদেশকেই। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর : (তৃতীয় দিন শেষে)

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস : ১৫৯.২ ওভারে ৪৯৩/৭ (ডি.) (আগের দিন ৪৬৯/৬) (ডিকভেলা ৭৭*, মেন্ডিস ৩৩, আবু জায়েদ ২২-৪-৬৯-০, তাসকিন ৩৪.২-৭-১২৭-৪, মিরাজ ৩৬-৭-১১৮-১, শরিফুল ২৯-৬-৯১-১, তাইজুল ৩৮-৭-৮৩-১)। 

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৮৩ ওভারে ২৫১ (তামিম ৯২, সাইফ ২৫, শান্ত ০, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৪০, লিটন ৮, মিরাজ ১৬, তাইজুল ৯, তাসকিন ০, শরিফুল ০, আবু জায়েদ ; লাকমল ১০-০-৩০-২, বিশ্ব ৭-১-১৯-০, ম্যাথিউস ২-০-৭-০, মেন্ডিস ৩১-৭-৮৬-২, জয়াবিক্রমা ৩২-৭-৯২-৬, ধনাঞ্জয়া ১ -০-৬-০)। 

শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস : ৭ ওভারে ১৭/২ (থিরিমান্নে ২, করুনারতেœ ১৩*, ওশাদা ১, ম্যাথিউস ১*; মিরাজ ৪-২-৭-১, শরিফুল ১-০-৮-০, তাইজুল ২-১-২-১)। 


খেলা