মে / ১৮ / ২০২২ ০২:৫২ অপরাহ্ন

মুহিব আজাদ

এপ্রিল / ০৭ / ২০২১
১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

আপডেট : মে / ১৮ / ২০২২
০২:৫২ অপরাহ্ন

একজন আব্দুল আলী স্যার



457

Shares

আমার বয়স যখন বারো বা তেরো তখন আমি প্রথম ক্লাস ষষ্ঠ শ্রেণীতে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হই।
যেদিন থেকে ভর্তি হই সেই দিন থেকেই স্কুল গণ্ডিতে পেয়ে যাই একজন অভিভাবক। তিনি শুধু অভিভাবকই নন, তিনি মানুষ গড়ার একজন কারিগর। শুধু কারিগর বললে ভুল হবে তিনি কারিগরেরও কারিগর- প্রিয় আব্দুল আলী স্যার। উনাকে স্কুলে #এ-এ স্যার বলে সম্বোধন করতাম। ক্লাসের বাইরে স্যারের মধ্যে আর আমার মাঝে একটা সম্পর্ক ছিল, উনাকে চাচা বলে ডাকতাম উনি আমাকে বাতিজা বলে সম্বোধন করতেন।
উনি ইংরেজি গ্রামারের শিক্ষক ছিলেন, আমিও সকল ভালো ছাত্রদের মধ্যে একজন ছিলাম। সেই সুবাদে স্যারের সন্নিকটে আসা ছিল একমাত্র অনুবাধন।
তিনি ইংরেজি টেন্স এর মধ্যে অতীত বর্তমান আর ভবিষ্যৎ নিয়ে চমকপ্রদ আলোচনা করতেন ক্লাসে।
অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা ইংরেজি গ্রামারের সাথে সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে বুঝতে অনেক কষ্ট হতো। কিন্তু আমার বেলায় আমি খুব সহজেই এগুলো আয়ত্বে নিতে পারতাম। সেজন্য স্যারও আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। ভালোবাসতেন হয়তো এই ভেবে যে তিনি মনে করতেন আমি হয়তো ক্লাসে বেশি মনোযোগী। হ্যাঁ, সত্যি আমি ক্লাসে মনোযোগী ছিলাম। দুষ্টুও ছিলাম খুব বেশি।
স্যার যখন অতীত বর্তমান আর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতেন; তখনকার সময়ে ক্লাসে বসেই মনে মনে চিন্তা করতাম মানুষের জীবনে হয়তো একটাও অতীত বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ আছে। তা শুধুমাত্র ইংরেজি গ্রামারের বেলায় নয়।
আমার জীবনে সফলতার পেছনে দুনিয়ার মধ্যে আমার বাবা-মা। এর পরেই আব্দুল আলী স্যারের বিকল্প নেই। স্যার ছিলেন আমার জীবনের একটি অনুপ্রেরনার বাতিঘর।
যেখানেই উজ্জ্বলতার সাথে সোনালী ও নীল রঙের আলোর শিখা দীপ্ত উজ্জ্বলিত হত আমার স্কুলের প্রতিটি মুহ‚র্তে।
স্কুল জীবন থেকে বেরিয়ে এসে কলেজ জীবনে পর্দাপন করার পরেও স্যারের সাথে ছিল চির অটুট ভালোবাসা আর ভক্তিকর শ্রদ্ধাযুক্ত অটুট বন্ধন। যে বন্ধনে আমাকে আমার প্রবাসজীবনেও স্যারের সাথে সংযুক্ত করে দিয়েছিল।
শুধু আমি কেন হয়তো স্যারের এমন কোনো ছাত্র নেই যে স্যারের সুনাম করবে না। তিনি শুধু আমাদের শিক্ষকই নন; আমাদের অনেকের পিতা-মাতারও শিক্ষক।
বুরুঙ্গা ইউনিয়নের সকলের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব, বুরুঙ্গা ইকবাল আহমদ হাইস্কুল এন্ড কলেজের প্রবীণ শিক্ষক, হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষিত করে তোলার কারিগর, গ্রামের ৯৭ বৎসর বয়েসি একমাত্র বয়স্ক মুরব্বি আলহাজ্ব স্যার আব্দুল আলী মাষ্টার। যিনি ছিলেন সালিশি ব্যক্তিত্ব ও ন্যায়পরায়ন যোগ্যতাসম্পন্ন।
আজ সেই মহান ব্যক্তিটি এই ধরাধাম থেকে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তিনি স্বার্থকতার সাথে রেখে গেছেন অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী যারা আজ উনার জন্য দুঃখ ভারাক্রান্ত মনের অজান্তেই কেঁদে উঠেছে।
আমিও তাদের মধ্যে একজন। স্যারের মৃত্যুর খবর যখন পেলাম তখন আর নিজেকে কিছুক্ষণের জন্য কন্ট্রোল করতে পারিনি। নিমিষেই চোখের কোণে পরিপূর্ণ জলের বিন্দুকণা বেরিয়ে এসে দু’গাল বেয়ে যাচ্ছিল।
হয়তো এটাই ছিল একজন শিক্ষকের বড় স্বার্থকতা যার জন্য আজ হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী কাঁদছে। স্যারের চলেই যাওয়াতে বিভগ্ন এই মন বারবার গুমড়িয়ে উঠে।
স্যারের জন্য আশান্বিত এই আবেদনটি আল্লাহর দরবারে, আল্লাহ যেন স্যারের বিদেহী আত্মাকে জান্নাতের একটি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মাকামে কবুল করে নেন।
স্যারের জীবনের জানা-অজানা সকল ভুলত্রæটি ওগুলোকে আল্লাহ্ যেন মাফ করে দেন।
আমিন, ইয়া রাব্বুল আলামিন।
লেখক : যুক্তরাজ্য প্রবাসী।

মুহিব আজাদ

এপ্রিল / ০৭ / ২০২১
১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

আপডেট : মে / ১৮ / ২০২২
০২:৫২ অপরাহ্ন

পাঠকের কথা