১৪ এপ্রিল ২০২১ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
১৪ এপ্রিল ২০২১   |  ই-পেপার   |   English
ফের লকডাউনে বিপাকে নবীগঞ্জের খেটে খাওয়া মানুষ
ফের লকডাউনে বিপাকে নবীগঞ্জের খেটে খাওয়া মানুষ

ইকবাল হোসেন তালুকদার, নবীগঞ্জ

এপ্রিল ০৫, ২০২১ ১১:৩৭ পিএম



প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। থেমে নেই মৃত্যুর মিছিলও।গেলো বছর করোনায় দীর্ঘদিন লকডাউনের কারণে আর্থিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষেরা। লকডাউনকালীন বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে অনেকটাই জীবনযুদ্ধ করছিলেন এই উপজেলার নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ। এমন বাস্তবতায় দেশে পূর্বের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে তৃতীয় দফায় বেড়েছে করোনা সংক্রমণ।
করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে এক সপ্তাহের লকডাউনের দিয়েছে সরকার। ফের লকডাউন দেওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে যেনো অনেকটা মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে।
কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন এই উপজেলার নিম্ন ও নিম্নবিত্তশ্রেণীর মানুষেরা। এ সময়ের মধ্যে ফার্মেসি আর নিত্যপণ্যর দোকান চাড়া সব কিছু বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মানুষকে ঘরে রাখতে চলছে নানা কার্যক্রম। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জেও চলছে এই লকডাউন। ফলে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়া অন্যদিকে খাবারে চিন্তা সব মিলিয়ে ভালো নেই উপজেলার শ্রমজীবী মানুষেরা। করোনাভাইরাসের সকল সতর্কতা জেনেও যারা পেটের দায়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। তাও পাচ্ছেন না কাজের সন্ধান। আর যারা রিকশা কিংবা অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান তারাও পাচ্ছেন না যাত্রী। এতে ঘর থেকে বের হলেও রোজগার হচ্ছে না প্রয়োজনীয় অর্থ। এ নিয়ে বিপাকে আছেন বেশিরভাগ মানুষ। ফের লকডাউনের খেটে খাওয়া মানুষের কপালে দেখা দেয় চিন্তার ভাঁজ।
সিএনজি অটোরিকশা চালক বাকুল সরকার বলেন,গাড়ির আয়ই আমার সংসার চালানোর একমাত্র মাধ্যম। লকডাউনে আমাদের না খেয়ে মরার মতো অবস্থা তৈরি হয়। এমনিতেই গতবছরের ক্ষত সেরে উঠতে পারছিনা। এখন আবার লকডাউন হলে না খেয়েই মরতে হবে।
কয়েক জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন ব্যবসা করে যা আয় হতো তা দিয়ে সংসার চলতো। কিন্তু বর্তমানে মানুষের সমাগম বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের নির্দেশে দোকান বন্ধ। এখন আমরা গরীব মানুষ কোথায় যাব। এভাবে কিছুদিন গেলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।
অটোরিকশা চালক সাগর দাশ বলেন, বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষ নেই। রুজি করব কী ভাবে। কিন্তু রোজগার না করলে তো সংসার চলে না। সব মিলেয়ে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। এছাড়া গেলো বছর নবীগঞ্জে লকডাউন চলাকালে সরকারের পাশাপাশি প্রবাসী, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ খাদ্যসামগ্রী, আর্থিক অনুদান বিতরণ করেছিলেন। তবে এবছর সেসব সাহায্য পাওয়াটাও অনিশ্চিত বলছেন অনেকেই।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন জানান, যদিও গত বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতেষ্ট পরিমাণে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এই বছর হঠাৎ করোনা ২০% থেকে ৩০% বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষকে ঘরে নেওয়ার জন্য ৭ দিনের লকডাউন দেয়া হয়েছে। ক্রাণ দেয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোন সিন্ধান্ত আসে নাই।

News Desk