১৪ এপ্রিল ২০২১ ১২:১১ অপরাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
১৪ এপ্রিল ২০২১   |  ই-পেপার   |   English
ঘটনাস্থলে মেয়র ছিলেন নিরুত্তর
কবি বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু
কবি বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু

জৈন্তা বার্তা রিপোর্ট

এপ্রিল ০১, ২০২১ ০৮:০৩ পিএম



শিক্ষক ও কবি বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান। হাইকোর্টের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের পক্ষে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।

বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টরা দুর্ঘটনাস্থল আম্বরখানার হুরায়রা ম্যানশন সংলগ্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্তকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিহতের ভাই ও আশপাশের ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলেন এবং সেদিনের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন।  তদন্তকালে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন একটি ড্রেনে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন কবি আবদুল বাসিত মোহাম্মদ (৬৫)। এই দুর্ঘটনায় তাঁর পেটে রড ঢুকে যায়। দুদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুকে হত্যাকাÐ উল্লেখ করে দোষিদের শাস্তি ও নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান সচেতন সমাজ। উন্নয়নের নামে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বিপজ্জনক অবস্থায় দীর্ঘদিন ফেলে রাখার প্রবণতা বন্ধেরও আহ্বান জানান তারা।

শুরুতেই এই ঘটনায় সিটি কর্পোরেশনের অবহলোকে দায়ি করেন সিলেটের বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ। তবে, ঘটনার দিন থেকে মৃত্যু পূর্ব পর্যন্ত কবি আবদুল বাসিত মোহাম্মদকে দেখতে যাননি সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তাছাড়া, সিসিকের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী গোলাম সোবহান দীপন। এর প্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্ত করে গত ১১ জানুয়ারি দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে আদেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ।

এদিকে ঘটনার তদন্তকালীন তদন্তস্থলে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত থাকলেও তিনি সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। এসময় সাংবাদিকরা শিক্ষক কবি বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যু ও সিটি কর্পোরেশনের দায় নিয়ে প্রশ্ন করলে সিলেটের মেয়র সাংবাদিকদের এই তদন্তকালে উপস্থিতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য,সে সময় সিলেট নগরের কোথাও অক্ষত ছিলোনা। অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক, সবখানেই চলছিলো খোঁড়াখুঁড়ি। আর এসময় নির্মান খন্দক থেকে নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে কোন ব্যবস্থা ছিলোনা সিটিকর্পোরেশনের। যা একটি ফৌজদারী অপরাধ। এ প্রসঙ্গে ফৌজদারী ও ক্ষতিপুরণ আইন বিশেষজ্ঞ এডভোকেট মামুনুর রশিদ জনান, কবি বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যু একটি অবহেলা জনিত মৃত্যু এবং এর জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিটি মেয়র সমান অপরাধী। তিনি দাবি করেন, এ জন্য কবি বাসিত মোহাম্মদের পরিবার ক্ষতিপুরণ ও অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা করতে পারেন।



News Desk