১৪ এপ্রিল ২০২১ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
১৪ এপ্রিল ২০২১   |  ই-পেপার   |   English
বঙ্গবন্ধু এবং যুদ্ধোত্তর পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কর্মসূচি
বঙ্গবন্ধু এবং যুদ্ধোত্তর পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কর্মসূচি

হাসান মোরশেদ

মার্চ ০৬, ২০২১ ১১:৫৬ পিএম



১২ জানুয়ারী ১৯৭২ যখনবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসাবে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিলেন তার মাত্র ২৬ দিন আগে নতুন রাষ্ট্রের জন্ম। তারও নয় মাস আগে শুরু হওয়া পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গনহত্যা এবং গনহত্যার প্রতিরোধে বাঙালীদের মুক্তিযুদ্ধ- এক কোটি মানুষের শরনার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া, দেশের ভেতরে আরো দুই কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুতি, ৩০ লক্ষ মানুষের খুন, কম পক্ষে দু লক্ষ নারীর ধর্ষন, রাস্তাঘাট- ব্রীজ কালভার্ট- বাড়িঘর সহ সকল স্থাপনা ধ্বংসের ক্ষত তখন নতুন রাষ্ট্রের পরতে পরতে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, চরম দরিদ্র এক অর্থনীতি নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। একটু পেছনে ফিরলে দেখা যায় ১৯৬৮ সালের বন্যার ফলে ১৯৬৯ সাল এবং ১৯৭০ সালের প্রথম দিকে কৃষিতে অপূরনীয় ক্ষতি সাধিত হয়। অথচ কৃষির উপরেই এদেশের মানুষের অস্তিত্ব নির্ভরশীল। আবার ১৯৭০ সালের নভেম্বর ঘূর্নিঝড়ে শুধু ২ লাখ প্রান ছিনিয়েই নেয়নি, ১১০ কোটি টাকার ও বেশী সম্পদ এবং অসংখ্য গবাদী পশু এতে বিনষ্ট হয়।
এরপর আসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পোড়ামাটি নীতি। লক্ষ লক্ষ সক্ষম মানুষই শুধু তারা হত্যা করেনি পাশাপাশি রেলপথ, সেতু, সড়ক, টেলিযোগাযোগ, মিল ও ফ্যাক্টরী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন- উৎপাদন ও বন্টন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়, ফলে দেশের গোটা অর্থনীতিই ভেঙে পরে। পাকিস্তান সরকার এমনকি জাহাজ ও উড়োজাহাজগুলো ও ধ্বংস করে দিয়ে যায়, যা নব্য স্বাধীন দেশের কিছুটা হলে ও কাজে লাগতো। ১৯৭০- ৭১ সালে মাথা পিছু আয় আগের বছরের তুলনায় এবং ১৯৭২- ৭৩ সালের মূল্যে প্রায় ২২% কমে যায়। একটা ছোট্ট উদাহরন দেওয়া যায়। যুদ্ধের আগে বাংলাদেশে ট্রাক ছিলো আট হাজার। যুদ্ধের পরে তার মধ্যে ব্যবহারযোগ্য ছিলো মাত্র এক হাজার। তিন শতাধিক ছোটবড় রেল সেতু ধ্বংস হয়ে পড়েছিলো। প্রায় তিনশো সড়ক সেতু ও বিধ্বস্ত ছিলো। চট্টগ্রাম বন্দরে ঢোকার মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো ২৯টি বিধ্বস্ত জাহাজের ধ্বংসাবশেষ। এ ছাড়া সমুদ্র বন্দরের চ্যানেলে মাইন বসিয়ে বন্দরকে অকেজো করে দিয়ে যায় পলায়নপর পাকিস্তানী সেনারা।
যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানী শিল্পপতিরা বাংলাদেশ থেকে ৭৮৫ কোটি টাকা পাচার করে নিয়ে যায় এবং আত্মসমর্পণের আগে পাকিস্তানী সেনারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সকল রিজার্ভ টাকা- পয়সা, স্বর্ণ- রৌপ্য পুড়িয়ে ফেলে। এর আগে দেশের বিভিন্ন গোডাউন থেকে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টন খাদ্যশস্য পশ্চিম পাকিস্তানে সরিয়ে নেয় তারা। ফলে সাড়ে সাতকোটি মানুষের দেশকে আক্ষরিক অর্থেই শূন্য হাতে যাত্রা শুরু করতে হয়।
যে অর্থনৈতিক বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে বাংলাদেশের শুরু, সমগ্র বিশ্ব চেষ্টা করলে ও তাড়াতাড়ি এর উত্তরন সম্ভব ছিলোনা। যেমন সারা পৃথিবী থেকে পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রী এলেও তা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়া প্রায় অসম্ভব ছিলো। কারন এর জন্য যে ন্যুনতম অবকাঠামো প্রয়োজন সেটা ও অবশেষ ছিলোনা যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে।
বস্তুতঃ এদেশের জীবনপ্রবাহ ও এবং সহায় সম্পদের উপর এই নয়মাসে কী নিদারুন ধ্বংসলীলা বয়ে গেছে, বৈষয়িক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে তার অতি সামান্য কেবল আঁচ করা সম্ভব। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ রিলিফ সংস্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমুহের উদ্যোগে ক্ষয়ক্ষতির যে প্রাথমিক তথ্য উদঘাটন করা হয় তা দেখে বিস্ময়ে বিমুঢ় হতে হয়। পরীক্ষামুলক প্রাথমিক হিসেবে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কালে আয়ের ক্ষেত্রে মোট ক্ষতির পরিমান দাঁড়ায় ১২১০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বস্তুগত মুলধন খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ১২৪৯ কোটি টাকা।
১৯৭২ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের প্রথম বাজেট পেশ করা হয়। অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এই বাজেটকে ‘পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের বাজেট’ বলে ঘোষনা করেন। অবশ্য সরকার জানুয়ারী মাস থেকেই পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছিলো।
পুনর্বাসনের সুবিশাল দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিলো যুদ্ধকালীন সময়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহনকারী প্রায় এক কোটি লোকের পুনর্বাসন এবং ৪৩ লক্ষ বাসগৃহ নির্মান। এ সমস্ত বাসগৃহ যুদ্ধকালীন সময়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বা বিধ্বস্ত করা হয়। এ ছাড়া যুদ্ধের কারনে গৃহহীন দুঃস্থ মানুষদের পুনর্বাসন, তাদের জমি খাদ্য ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা ও ছিলো সরকারের একটি গুরু দায়িত্ব। প্রধানতঃ প্রশাসনিক নির্দেশে এবং নিম্নতম পর্যায় পর্যন্ত রাজনৈতিক সংগঠন সৃষ্টি করে এই সমস্যা মোকাবেলার ব্যবস্থা নেয়া হয়।
এসময় বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সাহায্য ও অর্থানুকুল্যে একটি ব্যাপক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচী হাতে নেন এবং বেশ কয়েকটি দেশ থেকে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা সরকারকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে।
তিনি রেডক্রস সোসাইটিকে জাতীয় পর্যায় থেকে নিম্নতম স্তর অবধি পুনর্গঠিত করেন এবং রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের নিয়ন্ত্রনে সরকারের নিজস্ব সংগঠন ও সৃষ্ট করেন। একদিকে এই কাজটি ছিলো যথেষ্ট জটিল এবং কঠিন, অন্যদিকে এই কর্মসূচী বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে জনশক্তি নিয়োগ সহ গৃহীত পদক্ষেপসমুহ পরবর্তী আর্থ- সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের উপর এক সুদুরপ্রবাহী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
মুক্তিযুদ্ধ কালে প্রশাসনের নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা- কর্মচারীদের অনেকেই পাকিস্তানীদের দ্বারা নিহত হয়েছিলেন, এ ছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটা বড় অংশ তখনো পাকিস্তানে বন্দী। এদিকে স্থানীয় সরকারের অনেকেই যেমন ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ চেয়ারম্যানগন ছিলো শান্তিকমিটির সদস্য। সংগত কারনেই পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন এর মতো গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্বে তাদেরকে জড়িত করা সরকারের জন্য সম্ভব ছিলোনা।
এরকম পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ত্রান কমিটি নামে নতুন এক ধরনের প্রতিষ্ঠানের গোড়া পত্তন ঘটান।
ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচী বাস্তবায়ন সংগঠিত ও পরিচালনার লক্ষ্যে তৎকালীন ত্রানবিষয়ক মন্ত্রী কামারুজ্জামান ১৯৭২ সালের ৯ই জানুয়ারী গ্রাম থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত ত্রান কমিটি গঠনের রূপরেখা প্রণয়ন করেন। প্রশাসনিক একটি আদেশের ভিত্তিতে সরকার ভারত প্রত্যাগত উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন ও দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানকারী জনগোষ্ঠীকে সাহায্যের জন্য জীবনযাত্রার সর্বস্তরের জনগনের সহায়তা কামনা করেন। সারা বিশ্বের সর্ব বৃহৎ এই ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মসূচী পরিচালনার জন্য দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের সক্রিয় সহযোগীতা অত্যাবশ্যকীয় বলে বিবেচনা করা হয়। এভাবে সরকারী আদেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সরকারী ও বেসরকারী খাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বয়ে প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা, মহকুমা ও জেলা পর্যায়ে একটি করে কমিটি গঠনের জন্য সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারী করেন।
গ্রামের আয়তন এবং লোকসংখ্যার ভিত্তিতে ৫ থেকে ১০ সদস্যের ত্রান ও পুনর্বাসন কমিটি গঠন করা হয়। এগুলো জনগনের কাছে পরিচিত হয় ত্রান কমিটি হিসেবে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় কর্মীদের মধ্য থেকে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা এই ত্রান কমিটির সদস্যদের নিয়োগ করেন। একই পদ্ধতিতে এবং প্রায় একই পন্থা অনুসরন করে ইউনিয়ন, থানা এবং মহকুমা পর্যায়ে অনুরূপ কমিটি গঠন করার জন্য নির্দেশ জারী করা হয়। জেলা পর্যায়ের কমিটিতে ছিলেন ৫ জন জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য। এই কমিটির অন্যান্য সদস্যবর্গ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যবর্গ কর্তৃক মনোনয়ন লাভ করতেন। মহকুমা ত্রান কমিটির চেয়ারম্যানও ছিলেন এই জেলা কমিটির একজন সদস্য। সরকারী লোকজনের মধ্য হতে পাঁচজন নন- অফিসিয়াল সদস্যকে ও এই কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা জেলা কমিটির চেয়ারম্যান ও নিয়োগ করতেন।
বঙ্গবন্ধুর আন্তর্জাতিক আবেদনের সাফল্য হিসেবে এসময় বাংলাদেশ অনুদান এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার মুল্যের সাহায্য লাভ করে যদিও সামগ্রিক প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিলো অপ্রতুল। সরকার এই কমিটি গুলোর মাধ্যমে সারাদেশে ত্রানসামগ্রী বিতরন করে।
পাকিস্তান আমলে জনগন ও জনগনের প্রতিনিধি রাজনীতিবিদদের উপর সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রের ছড়ি ঘুরানোর প্রবণতা ছিলো। স্বাধীন দেশের শুরু থেকেই শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব তথা জনগনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। শেকড় পর্যায় থেকে ত্রান কমিটি গঠন করে জাতীয় পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে জনগনকে সম্পৃক্ত করার এই আদর্শিক উদ্যোগ অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় কিছু নেতা কর্মীর অসততা এবং বিরোধী পক্ষের অতিরঞ্জিত প্রচারনার কারনে কিছুটা সমালোচিত হলে ও এরকম বিশাল একটি কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়।
১৯৭৩ সালে দেওয়া সরকারী প্রতিবেদনে জানা যায়, টেস্ট রিলিফের ১৭ কোটি টাকায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ লোক এবং ২৫.৭৫ লক্ষ একর জমি উপকৃত হয়েছে। এ ছাড়া সাহায্য ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের ৭১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গৃহ, স্বাস্থ, শিক্ষা, এবং সড়ক যোগাযোগ ক্ষেত্রে বিবিধ সমস্যা প্রভূত পরিমানে সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে।
এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার আর্থিক দুর্দশাগ্রস্ত দেশবাসীর জন্য ১ কোটি ৪১ লক্ষ ৮১ হাজার ৮৮৫ মণ খাদ্য - শস্য ছাড়াও বিপুল পরিমান গুঁড়া দুধ, শিশু খাদ্য, তাঁবু, ত্রিপল ও শাড়ি বিনামুল্যে বিতরন করেন। তাছাড়া যুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত ৯ লক্ষ ঘর পুনঃ নির্মান করা হয় এবং ভূমিহীন, দুঃস্থ ও ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৯ হাজার প্লট ছিলো বিতরনের প্রক্রিয়াধীন।
একই ভাবে জাতীয় পুনর্বাসন বোর্ড পাকিস্তানী সেনা ও রাজাকারদের হাতে নির্যাতিত হাজার হাজার নারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। এ জন্য চারটি বৃত্তিমুলক ট্রেনিং কেন্দ্র এবং সাতটি সেলাই ও হস্তশিল্প শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কর্মসূচী প্রণোয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়। এ ছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে- মেয়েদের রিলিফ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কেন্দ্রীয় মহিলা সংস্থার মতো স্বেচ্ছাসেবামুলক প্রতিষ্ঠানসমুহকে মাসিক মঞ্জুরী বরাদ্দ করেন। সহায়- সম্বলহারা মহিলা ও শিশুদের পরিচর্যা এবং নিরাপত্তার জন্য মহকুমা পর্যায়ে ৬২ টি কেন্দ্র ও স্থাপন করা হয়।
পুনর্বাসন ব্যবস্থাপণায় মোটামুটি সাফল্যের পর বঙ্গবন্ধু সরকার পুনর্গঠন কর্মসূচী শুরু করে। বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে বস্তুগত সম্পদের ক্ষতিপূরন করাই এই কর্মসূচীর মৌল উদ্দেশ্য ছিলো। এই কর্মসূচী বাস্তবায়নকালে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তিভূমি প্রতিষ্ঠার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়। মুক্তিযুদ্ধকালে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহন, কৃষি এবং বিদ্যুৎ ও শিল্পব্যবস্থা যথাশীঘ্র স্বাভাবিক করে তোলার কাজ স্বাভাবিক সামগ্রিক পুনর্গঠন পরিকল্পুনার মধ্যে অগ্রাধিকার পায়।
এ ক্ষেত্রে মাত্র একবছরের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রতিটি খাতেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়।
পরিবহন ও যোগাযোগ : মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৩ মাইল মিটার গজ ও ১৬ মাইল ব্রডগজ রেলপথের মধ্যে ৪৩ মাইল মিটার গজ ও ১৬ মাইল ব্রডগজ রেলপথ ব্যবহার যোগ্য কতে তোলা হয়। ২৯৫ টি রেলওয়ে ব্রীজের মধ্যে ৮২টি স্থায়ীভাবে এবং ১৯৮ টি অস্থায়ীভাবে পুনর্নিমান করা হয়। ভারত সরকারের সহায়তায় স্বল্পতম সময়ে হার্ডিঞ্জ ব্রীজকে পুনরায় চালু করা একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
রেলওয়ে সেতুর মতো সড়ক সেতুর পুনর্নিমানে ও এক বছরের মতো যথেষ্ট অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়। দুশো চুয়াত্তুরটি বিধ্বস্ত সড়ক সেতুর মধ্যে পঞ্চান্নটি স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয় এবং ৯৬ টিকে সাময়িকভাবে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়। এর পাশাপাশি সাতটি স্থানে ফেরী সার্ভিস ও ষোলটি স্থানে ডাইভারশন সড়ক নির্মান করা হয় এবং বলা বাহুল্য সড়ক পুননির্মান কাজ চলতে থাকে।
সমুদ্র বন্দরের মাল পত্র উঠানোর কাজ ও প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসে এক বছরের মধ্যে। ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রাম ও চালনা বন্দরে যেখানে পণ্য হ্যান্ডলিং এর পরিমান ছিলো ১ লক্ষ ৩১ হাজার টন, সে ক্ষেত্রে একই বছর তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪ লক্ষ ৮৯ হাজার টনে। উল্লেখ করা যেতে যুদ্ধ পুরবর্তী স্বাভাবিক সময়ে পণ্য হান্ডেলিং এর সর্ব্বোচ মাসিক পরিমান ছিলো ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টন। পাকিস্তানীরা বন্দরের প্রবেশ মুখে জাহাজ ডুবিয়ে এবং বিস্ফোরক মাইন বিছিয়ে রেখে বন্দরকে ব্যবহার অযোগ্য করে রেখে গিয়েছিলো। শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ অনুরোধে সোভিয়েত বিশেষজ্ঞ দল এসে দ্রুত মাইন অপসারন ও ডুবন্ত জাহাজ সরিয়ে বন্দর ব্যবহার যোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জলপথের পরিবহনের ক্ষেত্রে ও একই রকম পুনর্গঠন কার্যক্রম চলতে থাকে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌ- পরিবহনের স্বাভাবিকত্ব ফিরিয়ে আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আভ্যন্তরীণ নৌ- পরিবহন সংস্থা এবং আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন অধিকাংশ নৌ বহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়- এগুলো স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার পর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ জন্য ক্ষতিগ্রস্ত নৌ- যান সমুহ মেরামত ছাড়া ও বিদেশ থেকে বার্জ, নৌকা, টাগবোট প্রভৃতি জরুরী ভিত্তিতে আনয়ন এবং অবতরন স্থল ও ওয়ার্কশপ তৈরী করা হয়।
বিদ্যুৎ : মুক্তিযুদ্ধে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা খুব ভয়ংকর রকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহুস্থানে উৎপাদন, বিতরন ও সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়ে যায়। অর্থমূল্যে উৎপাদনের মোট ক্ষতি ছিলো তিনকোটি টাকার উপর। বিতরন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমান ছিলো ১৮ কোটি টাকার উপর। ট্রান্সমিশন ও বিতরন লাইন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনঃ প্রতিষ্ঠার কাজে বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এরফলে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে সাফল্য অর্জিত হয় তা উল্লেখযোগ্য। সরকারের প্রথম বছরের মধ্যেই ৬১টি লাইন মেরামত করা ছাড়াও ২৪টি লুপ লাইন নির্মান করা হয় এবং ১৬টি ক্ষতিগ্রস্ত লাইনকে কর্মক্ষম করে তোলা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ উলন লাইনকে ৩৩ কেভির স্থলে ১৩২ কেভিতে উন্নীত করা হয়। মেরামত কাজ ছাড়া ও ইশ্বরদি উলন ও খিলগাঁও সাব স্টেশন সমুহের নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া সিদ্ধ্বিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন, ভেড়ামারা পাওয়ার স্টেশন, রূপগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন, দিনাজপুর ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই এবং মেহেরপুর ইলেক্ট্রিক সাপ্লাইয়ের মেরামত কাজ় ও চলতে থাকে এ সময়ের মধ্যে। পাশাপাশি গ্রিড লাইন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের পুনরুদ্ধার কাজ ও চলতে থাকে পূর্ণ উদ্যমে।
কৃষি : তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেরআভ্যন্তরীন উৎপাদনের শতক্রয়া ৬৫ ভাগ এককভাবে কৃষিখাত থেকে আসতো। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এক কোটি মানুষের ভারতে শরনার্থী হিসাবে আশ্রয় গ্রহন এবং প্রান বাঁচাতে দেশের ভেতর আরো দুই কোটি মানুষের স্থানচ্যুতির পরিনাম হিসাবে কৃষিখাত মারাত্বক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষিখাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয় তার পরিমান প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৩৭৯ কোটি ৫ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া ও এ ক্ষেত্রে বস্তুগত যে ক্ষতি হয় তার পরিমান ৮৪ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা।
খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের প্রচেষ্টার হিসেবে এ ক্ষেত্রে সরকার কৃষিজাত দ্রব্যের উৎপাদনের পরিমান ১৯৭১ সালের মার্চ পূর্ব পর্যায়ে উন্নীত করার এবং চাষাবাদের ক্ষেত্রে নতুন যান্ত্রিক পদ্ধতি প্রবর্তনের লক্ষ্য স্থির করেন।
এ জন্য সম্পূর্ন বৈদেশিক মুদ্রায় বইরাদ্দ ক্রয়া হয় ৬২ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা।
কীটপতঙ্গ নিরোধক ঔষধপত্র এবং অধিকতর পরিমানে সার ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। সরকার দেশের ভেতরে ইউরিয়া সার, টিএসপি ও পটাশ সার উৎপাদনের উপর জোর দেয়। কীটনাশক ঔষধ ও উন্নতমানের বীজ সরবরাহের ব্যবস্থা ও গৃহীত হয়। এই কর্মসূচীর অধীনে সরকার ইরি- ২০ জাতীয় ধানের ছয় লক্ষ মণ বীজ এবং ইরি- ৮ জাতীয় ধানের দুই লক্ষ মণ বীজ সরবরাহের উদ্যোগ ও নেয় এই সময়ের মধ্যে।
এ ছাড়া শীতকালীন সশ্য উৎপাদনের সুবিধার্থে পরিকল্পনা কমিশনের সাথে আলোচনাক্রমে কৃষি মন্ত্রনালয় লো- লিফট পাম্প এবং গভীর নলকুপ ব্যবস্থার উন্নতি বিধানের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়।
শিল্প : আনরডের জরিপ অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ধ্বংসলীলায় শিল্পক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ৪০ কোটি ২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা অর্থ্যাৎ ৫ কোটি ২২ লক্ষ ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমান ( তালিকা ১৩, পৃষ্ঠা ৪৬, ভলিউম ১, আনরড ইনফরমেশন পেপার নং ১৭)। কাঁচামাল, বস্তুগত অবকাঠামো এবং যন্ত্রপাতি এই ধ্বংসলীলার শিকার হয়। সরকারী খাতের অন্তর্গত পাটশিল্প, শিপ ইয়ার্ড এবং ডিজেল প্ল্যান্ট প্রভৃতির পুনর্গঠন ও পুনর্নিরমান অত্যন্ত জরুরী হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া বেসরকারী খাতের হাজার হাজার কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্প ধ্বংস হয়ে যায় যুদ্ধের ধ্বংসলীলায়। এই ক্ষয়ক্ষতি পূরনের জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাঁচামাল ও খুচরা যন্ত্রপাতি যোগাদানের লক্ষ্য নির্ধারন করা হয়। ১৯৭২- ৭৩ সালের শিল্প উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয় ৫৭৩ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা।
শিক্ষা    
মুক্তিযুদ্ধ কালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ধ্বংস লীলার অন্যতম টার্গেট ছিলো স্কুল- কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় সহ যাবতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমুহ। অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও শিক্ষা উপকরন বিনষ্ট হয় বিপুল পরিমানে। এক হিসেবে জানা যায়, যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২১ হাজার ৮ শত ৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
শিক্ষা ব্যবস্থা দ্রুততম পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার একেবারে শুরুতেই ২৯ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন।
এর বাইরে যুদ্ধকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ববিদ্যালয় সমুহের প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য আলাদা বরাদ্দ করা হয়।
গৃহ নির্মাণ : অন্যান্য সকল ক্ষেত্রের মতো যুদ্ধের সময় সরকারী এবং বেসরকারী আবাস ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। ঢাকা ইম্প্রুভমেন্ট ট্রাস্ট, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বিল্ডিং ডাইরেক্টরেট এর বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায়। পুনর্গঠন ব্যায়ের হিসাবে এ ক্ষেত্রে সরকারী খাতের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান দশ কোটি টাকার ও বেশী। কিন্তু বেসরকারী খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেক বেশী- ৮২৫ কোটি টাকার মতো। পাবলিক ইউটিলিটি সার্ভিসের পানি সরবরাহ এবং পয়ঃপ্রনালী ও মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গৃহ সমস্যার সমাধানে এ ক্ষেত্রের পুনর্গঠন কাজকে দশটি সেক্টরে ভাগ করা হয়- এবং প্রত্যেক সেক্টরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়।
গৃহ নির্মান কাজ ত্বরান্বিত ও সুষ্ঠু করা জন্য যে দশটি সেক্টরে অর্থ বরাদ্দ করা হয় সেগুলো হলোঃ- বিল্ডিং ডাইরেক্টরিয়েট, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা ইম্প্রুভমেন্ট ট্রাস্ট, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পূর্ত বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, পর্যটন সংস্থা এবং বাংলাদেশ রাইফেলসের সার্ভে বিভাগ।
পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কর্মকান্ডে প্রথম এক বছরে যে সাফল্য অর্জিত হয় ঢাকাস্থ জাতিসংঘ রিলিফ অপারেশন দল তাদের রিপোর্ট তা উল্লেখ করেন। “ বাংলাদেশ ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্গঠন সংক্রান্ত জরীপ” [ তথ্যপত্র নং ১৭, আনরড] রিপোর্টে বলা হয়েছে - বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সমুহের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এই দেশ “ দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়নি, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়নি এবং গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত সরকারী কর্মপ্রচেষ্টার অপরিহার্য্য পরিনতি হিসাবে বাংলাদেশ একটি সুশৃংখল জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে চলছে”
মুক্তিযুদ্ধ শেষ হবার এক বছরের মাথায় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ ঢাকার আমেরিকান দূতাবাস থেকে প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের কাছে পাঠানো একটি ‘বিশেষ প্রতিবেদন’- এ জানানো হয়ঃ ‘ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রায় সবকিছুই আয়ত্তে আনতে সক্ষম হয়েছেন। পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি ঘটেছে। তিনি যেভাবে প্রশাসনকে সাজিয়ে তুলেছেন, তাতে বুঝবার উপায় নেই যে মাত্র এক বছর আগে এই দেশের কোন অস্তিত্ব ছিলোনা। ইতিমধ্যে বড় বড় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বরখাস্ত করা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে কমতি থাকলে ও এক কথা বলাই যায়, এই নতুন সরকারের প্রশাসন যন্ত্র সচল হয়ে উঠছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে। তবে ভাবনার বিষয় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি এখনো নাজুক অবস্থায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রশিক্ষন প্রাপ্ত গেরিলা বাহিনীর মধ্যে দেশের ভেতর থেকে যুদ্ধ করেছে এরকম প্রায় ৩০ হাজার জনের হাত থেকে এখনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি’

বস্তুতঃ মুক্তি সংগ্রামে রাজনৈতিক ও সামর্কি সফলতা আসার পর পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি দেশের জনগনের আচার আচরনেওগগনচুম্বী আশা আকাংখার সৃষ্টি হয়।
খুব স্বাভাবিকভাবেই বঙ্গবন্ধু এবং একমাত্র বঙ্গবন্ধুই ছিলেন সেই আশা আকাংখার কেন্দ্রবিন্দু। দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন সোনার বাংলার বাস্তবায়ন হয়ে উঠে তাঁর নতুন দায়িত্ব, মুক্তি সংগ্রামের মহানায়কের জন্য আরেক নতুন সংগ্রাম। বাংলার দীর্ঘ ইতিহাসে তাঁর আগে পরে আর কোন নেতা কিংবা শাসককে এতো ভয়ংকর দুরবস্থা সামলে এতো বিশাল স্বপ্ন বাস্তবায়নের অতি মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হয়নি। ফলে রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে তাঁর সাফল্য বা ব্যর্থতা স্থুলভাবে বিবেচনা করা অন্যায্য। মুক্তিসংগ্রামের মহানায়ক হিসাবে যেমন তিনি অনন্য ছিলেন তেমনি যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনেও তিনি অনন্য, তুলনারহিত।

হাসান মোরশেদ : লেখক ও গবেষক।