০৮ মার্চ ২০২১ ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
০৮ মার্চ ২০২১   |  ই-পেপার   |   English
সিলেটে তেল সংকটের সমাধান না হলে রোববার থেকে ধর্মঘট
সিলেটে তেল নিয়ে তেলেসমাতি, আন্দোলনে শ্রমিকরা
সিলেটে তেল নিয়ে তেলেসমাতি, আন্দোলনে শ্রমিকরা

জৈন্তা বার্তা রিপোর্ট

ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২১ ১১:৩৫ পিএম



সিলেটের গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন চালু করার দাবিতে এবার পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির পাশাপাশি আন্দোলনে নেমেছে সিলেট বিভাগীয় ট্যাঙ্ক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারের যমুনা ডিপোর সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন।

শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরণে সহযোগীতা পাচ্ছি না। আমাদের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ একাধিকবার জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠক করলেও কোন সুরাহা হয়নি। রেলপথের উদাসিনতার কারণেই সিলেটে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। তারা আরও বলেন, একটি মহলের ইন্ধনে আমাদের সিলেটের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। সিলেটে যে পরিমাণ তেল উৎপাদন করা হত তা সিলেটে বিভাগের চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যান্যস্থানে বিক্রি করা হত। কিন্তু ৫ মাস থেকে সিলেটে তেল উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক নেতা  বলেন, গত কিছুদিন আগে ৬ দফা দবি নিয়ে আমাদের একটি আল্টিমেটাম ছিল।পরে জেলা প্রশাসক আমাদের জানিয়েছিলেন বিষয়টি তিনি দেখবেন। কিন্তু বিগত এক সাপ্তাহ ধরে দেখা যাচ্ছে আমাদের কোনো তেল আসছে না। শনিবার বন্ধের অল্প কিছু তেল এসেছিল। যেখানে ৬ লক্ষ লিটার তেলের প্রয়োজন সেখানে আসছে মাত্র দেড় থেকে দুই লক্ষ লিটার তেল। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে । তিনি আরও বলেন, আগামী শনিবারের মধ্যে যদি আমাদের দাবি না মানা হয় এবং সমস্যা সমাধান না হয় তাহলে পর দিন রোববার থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন‍্য ধর্মঘট চলবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, আমাদের সমস্যার কথা একাধিকবার জেলা প্রশাসনকে জানালেও তারা আমাদের কথা রাখেননি। এমনকি তাদের আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট স্থগিত করেছি। আমাদের কাছ থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয় সময় নিয়েছিলেন সমস্যা সমাধান করার। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। সমস্যা রয়ে গেছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে আমাদের বক্তব্য জানিয়ে দিয়েছি যে, আগামী রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে সিলেট বিভাগের তেলের যে সংকট রয়েছে তা সমাধান না হলে এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন শুরু না করলে লাগাতার ধর্মঘট চলবে। তিনি আরও বলেন, সিলেটে ডিজেল সরবরাহ ওয়াগননির্ভর হওয়ায় প্রায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।  এছাড়া সিলেটের গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ডের খনি থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকায় সংকট কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। সিলেটে প্রতিদিন ১০ লাখ লিটারেরও বেশি জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ লিটার তেল আসছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিস্বার্থের কারণে সিলেটের গ্যাস ফিল্ডের খনি থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। পূর্বে সাপ্তাহে ৩ রেক তেল আসলেও এখন আসে ১ রেক তেল। যা সিলেটের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সিলেটের চাহিদা সাড়ে ৫লাখ লিটার তেল সিলেট বিভাগে। এরমধ্যে বর্তমানে সিলেট বিভাগের ১১৪টি পাম্পে বিতরণ করা হয় প্রায় ১লাখ লিটার তেল। সিলেটের গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন বন্ধ করে রেখেছে একটি চক্র। তেল বিক্রি না করায় এই  গ্যাস ফিল্ড থেকে সরকারের প্রায় আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকার তেল নষ্ট হচ্ছে।

সিলেট বিভাগীয় ট্যাঙ্ক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল জলিল জানান, রেলপথে সিলেটে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল আসছে না। চট্টগ্রাম থেকে তেল আসার কারণে সিলেটে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। যে পরিমাণ সিলেটে তেল আসে সেই তেল চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। একটি মহলের ইন্ধনে সিলেটের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আমাদের দাবি গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন করা শুরু করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল না আসায় আমাদের শ্রমিকরাও কষ্টে দিন যাপন করছেন। যদি আমাদের দাবি মানা না হয় তাহলে কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।

ই/ডি