০৮ মার্চ ২০২১ ০২:০৯ পূর্বাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
০৮ মার্চ ২০২১   |  ই-পেপার   |   English
সিলেটে প্রবেশন সুবিধায়
লঘু অপরাধে জেল নয় সামাজিকভাবে সংশােধনীর সুযােগ
লঘু অপরাধে জেল নয় সামাজিকভাবে সংশােধনীর সুযােগ

জৈন্তা বার্তা রিপোর্ট

ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২১ ১০:২৯ এএম



জীবনে প্রথম লঘু অপরাধে কারো জেল নয়, সংশোধন করে সমাজে পুনঃএকত্রিকরণের ব্যবস্থাএকটি অপ্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক সংশােধনী কার্যক্রম। সাম্প্রতিককালে এ সুবিধা সিলেটেও চালু হয়েছে। সমাজচ্যুত না করে সমাজের মূল স্রোতধারায় তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে রয়েছে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সিলেটে ছােটখাটো বিভিন্ন অপরাধে ১৫১টি মামলায় ১৫১ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামির প্রবেশন মঞ্জুর করেছেন আদালত।ইতােমধ্যে ৫২ জনের প্রবেশনে থেকে সাজা শেষ হয়েছে। এখনও ৯৯ জন প্রবেশনে থেকে সাজা ভােগ করছেন। যাদের মধ্যে ১০ জন নারী ও ৩ জন শিশু। শুধু শিশুদের নয়, প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষেরও জীবনে প্রথম ও লঘু অপরাধে মুক্তির ব্যবস্থা রয়েছে এ কর্মসূচিতে। 

সাম্প্রতিককালে এ সুবিধা জোরদার করেছে সরকার। তবে প্রচারের অভাবে সরকারের এ উদ্যোগ মানুষের কাছে ততোটা পৌঁছেনি, যতোটা পৌঁছেছে অপরাধের তথ্য। সিলেটে প্রবেশন সুবিধায় সামাজিকভাবে সংশােধনীর সুযােগ পাচ্ছেন লঘু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রবেশন একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক সংশােধনী কার্যক্রম। এই কার্যক্রমে অপরাধীকে তার প্রাপ্য শাস্তি স্থগিত রেখে, কারাবদ্ধ না রেখে বা কোনাে প্রতিষ্ঠানে আবদ্ধ না করে সমাজে খাপ খাইয়ে চলার সুযােগ প্রদান করা হয়। প্রবেশন ব্যবস্থায় প্রথম ও লঘু অপরাধে আইনের সঙ্গে সংঘর্ষে বা সংস্পর্শে আসা শিশু-কিশােরেরা বা অন্য কোনাে প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যাক্তিকে প্রথম ও লঘু অপরাধের দায়ে কারাগারে বা অন্য কোনাে প্রতিষ্ঠানে না রেখে আদালতের নির্দেশে প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে এবং শর্ত সাপেক্ষে তার পরিবার ও সামাজিক পরিবেশে রেখে কৃত অপরাধের সংশােধন ও তাকে সামাজিকভাবে একিভূত করণের সুযােগ দেওয়া হয়।

প্রবেশন সুবিধাপ্রাপ্তদের নিয়মিত প্রবেশন কর্মকর্তার কাছে হাজিরা দিতে হয়। অনেকগুলাে শর্তের মধ্যে আরেকটি শর্ত প্রতিমাসের যেকোনাে সােমবার আদালত প্রাঙ্গণে মাদক বিরােধী অভিযানে যােগদান। এছাড়া মাদক গ্রহণ ও যেকোনাে ধরনের সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকাসহ, সন্তানদের লেখাপড়া করানাে ও মা-বাবার সেবা করাও শাস্তির একটি অংশ। এসব শর্তকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনাে সুযােগ নেই, কারণ এটা শাস্তির আওতাধীন। তাছাড়া স্বাভাবিক জীবনে গিয়ে কে কোন পেশায় থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন সেটাও প্রবেশন কর্মকর্তাকে জানাতে হবে বলে সমাজসেবা অধিদপ্তর সিলেট সূত্রে জানা গেছে। সবকিছুই প্রবেশন কর্মকর্তার নজরদারির মধ্যে থাকবে।

সােমবার সিলেটের আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশনে থাকা সাজাপ্রাপ্তরা এসেছিলেন মাদকবিরােধী অভিযানে যােগ দিতে। এই অভিযান তাদের সাজারই একটি অংশ। |

সিলেটের প্রবেশন কর্মকর্তা তৈমুর হােসেন চৌধুরী জানান, প্রবেশন মানে ‘পরীক্ষাকাল'। অপরাধীদের সংশােধনের একটা সুযােগ দিয়ে কারাগার বা কোনাে প্রতিষ্ঠানে আবদ্ধ না রেখে তাকে সমাজে চলার সুযােগ। | দেওয়া। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করে তাদের প্রবেশন মঞ্জুর করেন আদালত। এ সময় তাদের বাড়ির পরিবেশ-বান্ধব গাছ লাগানাে ও মুক্তিযুদ্ধের গল্প অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা দেখতে বলা হয়। সেগুলাে দেখে তারা প্রবেশন কর্মকর্তার কাছে এসে বলবেন তারা কী বুঝলেন সিনেমা দেখে। আইন অনেক পুরনাে হলেও চর্চার বিষয়ে জানতে চাইলে তৈমুর হােসেন বলেন, ২০১৪ সালে প্রথম সিলেটে প্রবেশন মঞ্জুর করেন আদালত। সিলেটে এর আগে আবেদন করা হলেও, আদালত সেগুলাে আমলে নেননি। তবে সিলেটের আগে সুনামগঞ্জে ২০০০ সালে প্রথম প্রবেশন মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।

ই/ডি