০৩ মার্চ ২০২১ ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
০৩ মার্চ ২০২১   |  ই-পেপার   |   English
প্রসঙ্গ : ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন ছাত্রসংগ্রাম
প্রসঙ্গ : ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন ছাত্রসংগ্রাম

প্রণব দাস

ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২১ ০৬:৩৪ পিএম



বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের সুত্রপাত ১৯৪৭-এর ১৪ই আগস্টে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই। রাজনৈতিকভাবে সদ্য বিভক্ত একটি সাংস্কৃতিক জাতির অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষার প্রথম সাংস্কৃতিক যুদ্ধ। সেই আন্দোলনের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৫২ এর একুেশ ফেব্রুয়ারি।  '৪৮ থেকে '৫১ এই চার বছরকে বলা হয় '৫২ এর ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতিপর্ব। ভাষা আন্দোলন-ভাষা সংগ্রামে সর্বস্তরের মানুষ সম্পৃক্ত থাকলেও মুখ্যতঃ এ আন্দোলন- সংগ্রাম ছিল ছাত্রদের।

১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে ঢাকায় "তমদ্দুন মজলিশ" নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫ই সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে যার নাম ছিল "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" এই পুস্তিকায় বাংলা ভাষাকে পূর্ব বাংলার ভাব বিনিময়, অফিস ও আদালতের একমাত্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পক্ষে জোরালো মতামত তুলে ধরা হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির সময়ে পূর্ব বাংলার মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দেওয়ার কথা বললেও এ অঞ্চলের মানুষকে শোষণ করার জন্য পাকিস্তানি শাসকচক্রের নীল নকশার রোড ম্যাপ অনুযায়ী কার্যক্রম চলতেই থাকে। পাকিস্তানি শাসকদের স্বরূপ উন্মোচিত হতে থাকলে পূর্ব বাংলার তখনকার যুবসমাজ নিজেদের অধিকার রক্ষার চিন্তায় ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তান কর্মী সম্মেলন ডাকেন। ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা মিউনিসিপালিটির ভাইস-চেয়ারম্যান  খান সাহেব আবুল হাসনাতের বাড়িতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সদ্য জন্ম নেওয়া 'পূর্ব পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুবলীগ ' এক প্রস্তাবে বলে, 'বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার বাহন ও আইন-আদালতের ভাষা করা হউক। অক্টোবর মাসে ফজলুল হক হলে রশিদ বিল্ডিং এর একটি কামরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়াকে প্রধান সমন্বয়ক করে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। করাচীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষা সভায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে '৪৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবানে প্রথম বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী যোগদান করেন। সভাশেষে মিছিলে সরকারি গুণ্ডাবাহিনীর আক্রমণের প্রতিবাদে ১২ ডিসেম্বর হল ইউনিয়ন ও তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা ও মিছিল হয়।

মুসলিম লীগের একটি অংশ পূর্ব বাংলার প্রতি সরকারের বিমাতাসুলভ মনোভাবের জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। কিন্তু তারা মুসলিম লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার জন্য একটি শক্তিশালী সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সেই কঠোর কঠিন দায়িত্ব পালনে এগিয়ে এলেন সেদিনের তরুণ সাহসী নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতিতে সম্ভাব্য হামলার প্রতিরোধ এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের সভাকক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয় "পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। " পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের ১০ দফা দাবির মধ্যে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার ও সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ এবং বাধ্যতামূলক সামরিক শিক্ষার দাবি ছিল অন্যতম। '৪৮ এর ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করলে লিয়াকত আলী খান তাকে ধিক্কার দিলেন। তাঁকে "রাষ্ট্রদ্রোহী", " ইসলাম বিরোধী", "পাকিস্তানের দুশমন", " ভারতের দালাল" প্রভৃতি আখ্যায় আখ্যায়িত  করা হয়। 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে একমাত্র উর্দু' লিয়াকত আলী খানের এ ঘোষণার প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ ও তমদ্দুন মজলিশ ২৬শে ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট করে।

২৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ ও তমদ্দুন মজলিশের যৌথ সিদ্ধান্তে ১১ মার্চ সারাদেশে ধর্মঘট  ডাকা হলো এবং প্রতিবছর ঐদিন ভাষা প্রতিবাদ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। ঐ ঘোষণার পর তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকার তৎপর হয়ে উঠে। ২ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ ও তমদ্দুন মজলিশের যৌথ আহবানে সর্বদলীয় সভা ডেকে ২য় রাষ্ট্রভাষা (বাংলা) সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হলো। যাতে ছিল- পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিশ,  গণআজাদী লীগ, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ,  গণতান্ত্রিক যুবলীগ।  ১১ মার্চ সারা পূর্ব বাংলায় ছাত্রসমাজ হরতাল পালন করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,  শামসুল হক ও অলি আহাদকে ঐদিন সেক্রেটারিয়েটের সামনে পিকেটিংরত অবস্থায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এর প্রতিবাদে  ১৩ মার্চ প্রদেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘট এবং ১৪ মার্চ হরতাল পালিত হয়। সরকার ভীত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের জিওসি এবং পরবর্তীকালে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আইয়ুব খানকে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাতে ছাত্র আন্দোলন ঘৃতাহুতি হলো। ছাত্রদের আন্দোলনের তীব্রতা দেখে ১৫ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন আপোষ-মীমাংসার প্রস্তাব দেন। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে মুখ্যমন্ত্রী নাজিমুদ্দিনের সাথে একটি ৮দফা চুক্তি সাক্ষরিত হয় এই চুক্তির শর্ত মোতাবেক শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাগণ মুক্তি পান।

১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষ্যে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এক সাধারণ ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সদ্য কারামুক্ত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।  সভাশেষে শেখ মুজিব এসেম্বলি ঘেরাও করার জন্য মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান এবং আইন পরিষদের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।  এ সময় বিক্ষোভকারী ছাত্র-জনতার উপর পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জ শুরু হয়। এই হামলার প্রতিবাদে ১৭ মার্চ ঢাবির বটতলায় পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের আহবানে নাঈমুদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ঐদিন দেশব্যাপী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং ধর্মঘট অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। আশ্চর্যের বিষয় খাজা নাজিমুদ্দিন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাথে এমন সময় ৮দফা চুক্তিতে সাক্ষর করলেন যখন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল জিন্নাহ সাহেবের ঢাকায় আগমনের প্রাক্কালে যাতে ঢাকার রাজনীতি শান্ত থাকে।

জেনারেল জিন্নাহ ১৯ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় এবং ২৪ মার্চ কার্জন হলের সমাবর্তন উৎসবে ঘোষণা করলেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। ' অমনি শেখ মুজিবসহ অন্যান্য তরুণ নেতাদের কেউ কেউ সেই জনসভার মধ্যে প্রতিবাদের ধ্বনি তুললেন। সঙ্গে সঙ্গে কায়েদে আজমের বক্তৃতার সুরও পালটে গিয়েছিল সেদিন।

১৯৪৯-১৯৫১ এই সময়ে ভাষা আন্দোলন স্থিমিত হয়ে পড়ে। কারণ, তখন সরকার ৮ দফা চুক্তির কিছুকিছু দাবি লোক দেখানোর জন্য হলেও বাস্তবায়ন করছিল। কিন্তু '৪৯ সালেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দানের অপরাধে দুইবার গ্রেফতার হন। ওদিকে দিনাজপুরে ভাষা আন্দোলনের একই অপরাধে ছাত্রলীগ নেতা দাবিরুল ইসলাম, নুরুল হুদা, কাদের বক্স, এম.আর. আখতার মুকুল গ্রেফতার হন।

১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকা সফরে এলেন এবং ঘোষণা দিলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি ধূলিকণাকে তিনি ইসলাম দিয়ে ভিজিয়ে দিবেন আর উর্দু দিয়ে মুড়িয়ে দিবেন। তার এ প্রলাপ জিন্নারই পুনরাবৃত্তি মাত্র। ৩১ জানুয়ারি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে গঠিত হলো ৪০ সদস্যের সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। নাজিমুদ্দিনের রাষ্ট্র সম্পর্কে অর্বাচীন উক্তির প্রতিবাদে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহন করল। ৪ এবং ১১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে প্রতিবাদ সভা ও হরতাল ঘোষণা করল। প্রতিবাদ মুখর এবং হরতালও সম্পূর্ণরূপে সফল হলো। বঙ্গবন্ধু জেলে বন্দী অবস্থায়ও নিশ্চুপ ছিলেন না। ১৬ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিব ও মহিউদ্দিন আহমদ 'রাষ্ট্রভাষা' ও 'বন্দী মুক্তির' দাবিতে কারাগারের অভ্যন্তরে আমরণ অনশন ও ধর্মঘট শুরু করেন। শেখ মুজিব শামসুল হক চৌধুরী, আব্দুস সামাদ আজাদ, ডাক্তার গোলাম মাওলার মাধ্যমে ২১শে ফেব্রুয়ারি হরতাল ডেকে ব্যবস্থাপক পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচী গ্রহণের পরামর্শ দেন। ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি হয়। ২১ তারিখ সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ গিজগিজ তবুও ছাত্ররা আন্দোলনের দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে সংঘবদ্ধ হয়ে মিছিল করতে প্রস্তুত হলো।

শ্লোগানে গগনবিদারী আওয়াজ তুলল 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, নাজিমুদ্দিন গদি ছাড়।' তখন প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন ছাত্রদের মিছিল ও ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ছাড়াও অধিবেশনের দিকে এগিয়ে আসছে শুনে তৎক্ষনাৎ মিছিলের ওপর গুলি চালাবার নির্দেশ দেন। বেলা অপরাহ্ন একটা হবে আন্দাজ গুলিতে মেডিকেলের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র আবুল বরকত। মিছিল অধিবেশন মুখো হতে না পেরে হাইকোর্ট কার্জন হল অভিমুখে যাত্রা শুরু করল। সেখানে গুলি করা হলে নিহত হলেন রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বার, সালা উদ্দীন ও নাম না জানা কিশোর। ২২শে ফেব্রুয়ারি পুরাতন হাইকোর্ট ও কার্জন হলের মধ্যবর্তী রাস্তায়, নবাবপুর রোডে, বংশাল আর রথখোলা মোড়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন- শফিউর রহমান, রিকশাচালক আউয়াল এবং নাম না জানা আরও দু'জন। ২২শে ফেব্রুয়ারি দিবাগিত রাত থেকে শুরু করে ২৪শে ফেব্রুয়ারি ভোর রাত পর্যন্ত শহীদদের স্মরণে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করেন মেডিকেলের ছাত্ররা। ২৪শে ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেন শহীদ শফিউর রহমানের পিতা মৌলভী মাহবুবুর রহমান। ২৪শে ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি অপরাহ্ন পর্যন্ত এই শহীদ মিনার হয়ে উঠেছিল বাঙালির তীর্থক্ষেত্র, ফুলে ফুলে এটিকে ঢেকে দেয়া হয়েছিল; একজন মা তার মেয়েদের হাত ধরে এসেছিলেন শহীদ মিনারে, ফুল ছিল না তাদের কাছে, মা মেয়ের গলার হার খুলে দিলেন মিনারের পাদদেশে।

একুশের মাধ্যমে যে স্বাধীনতার বীজটি রোপিত হয়েছিল, ৭১ অবধি সেটি অঙ্কুরিত হয়ে ক্রমে বিশাল বটবৃক্ষের আকার ধারণ করে। একুশ এখন বাঙালির বীজমন্ত্র,  আত্মোপলব্ধির আলো জ্বালিয়ে দুঃখ সময়ে অন্ধকারে একুশ আমাদের পথ দেখায়। তাইতো, কবি রফিক আজাদ লিখেছেন, "ভয় পাই না মা, একুশ তো আছে।"

ডি/আর/ডি