০৩ মার্চ ২০২১ ০৫:১০ পূর্বাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
০৩ মার্চ ২০২১   |  ই-পেপার   |   English
গোয়াইনঘাটে জলসা উপলক্ষে বাজার
নিম্নমানের খাবার ও পণ্য সামগ্রী বসিয়ে প্রতারণা
নিম্নমানের খাবার ও পণ্য সামগ্রী বসিয়ে প্রতারণা

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট :

ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২১ ১০:১৫ পিএম



সারা দেশের ন্যায় গোয়াইনঘাট উপজেলায়ও শুরু হয়েছে জলছার মৌসুম। আর এই সুযোগে কিছু সংখ্যক চিহ্নিত মুনাফালোভী  ব্যবসায়ী  বিষাক্ত লোভনীয় মুখরোচক খাদ্যদ্রব্য ও নিম্নমানের খেলার জিনিসপত্র তৈরী ও বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। সাধারন ভোক্তা ক্রেতারা  হচ্ছেন প্রতারিত। যেখানেই ওয়াজের মাহফিল সেখানেই অতিরিক্ত মুনাফালোভী নিম্নমানের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এমনকি বাদ পড়ে না পূজামণ্ডপ ছোটখাটো খেলার মাঠ থেকে শুরু করে যে কোন অনুষ্ঠানে তাদের আগাম উপস্থিতি। কোমলমতি শিশু-কিশোরদের চঞ্চলতা আর আবেগকে কাজে লাগিয়ে অভিভাবকরা হন পকেট শূন্য।

বিশেষ করে জলসা বা ওয়াজ মাহফিলের অনুষ্ঠানে সকাল ১০ টা থেকে শুরু হয়ে যায় তাদের কেনাবেচা চলে পরদিন সকাল আটটা পর্যন্ত। স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ আর নিম্নমানের যত খেলনার সামগ্রী বিক্রি হয় চড়া দামে। অভিভাবকরা তাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের চেঁচামেচিতে নিয়ে যেতে হয় জলসার বাজারে। বাচ্চারা যেটা চায় সেটাই কিনে দিতে হয় অভিভাবকদের। নয়তা শুরু হয় কান্নাকাটি, মাটিতে পড়ে লুটোপুটো খাওয়া আর এই দুর্বলতাকে কাজে লাগায় জলছার বাজারের মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। দশ টাকা দামের মালের দাম চাওয়া হয় একশত টাকা আর এক শত টাকা মূল্যের জিনিসের দাম চাওয়া হয় পাঁচশত টাকা থেকে হাজার টাকা। বাচ্চার চাওয়ার কাছে আর মুনাফালোভী ব্যবসায়ী কাছে অনেকটাই জিম্মি হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। দরাদরির মাঝে অনেক সময় ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে অনেক সময় বাকবিতণ্ডাও হয়। পরিচিত বা সচেতন কেউ হলে দাম কষাকষি বেশি হয় না, বিক্রেতা তখন সবিনয়ে বলেন দেন ভাই যত দেবার দিয়ে দেন, আপনার কাছে কি? আর দাম বলবো।

এরপর রইল খোলাবাজারে খোলামেলা পরিবেশে  নিম্নমানের যত মুখরোচক খাবার। যাহা সুস্থ শরীর ও সুস্ব্যাস্হের জন্য হুমকি স্বরূপ। যে খাদ্য কোনোভাবেই মানুষের জন্য খাওয়ার উপযোগী বা খাওয়াটা নিরাপদ নয়। এসব খাদ্যই ভক্ষণ করছেন শত শত আবাল, বৃদ্ধ,বনিতা। যা খেয়ে দেখা দেয় পেটের অসুখ সহ নানা রোগের উপদ্রব। ডাক্তারের জন্য গুণতে হয় আরো শত শত টাকা।
 জলসার বাজারে সবচাইতে ভয়ঙ্কর এবং বিপদজ্জনক যে বিষয়টা উপলব্ধি করার মত, সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে শুরু হয় তরুণী কিশোরীদের আগমন, বাজার করা চলে তাদের গভীর রাত পর্যন্ত। এই সুযোগে অনেক তরুণী কিশোরী যৌন হয়রানির ও শালীনতাহানীর শিকার হন। সমাজ আর লোকলজ্জার ভয়ে তার বেশিরভাগই চাপা পড়ে থাকে।

এসব বিষয় নিয়ে মাহফিলের আয়োজনকারি কয়েক জনের সাথে কথা হলে তারা বলেন আমরা অনেক সময় পোস্টারে লিখে দেই জলসায় বাজার বসবে না তবুও ব্যবসায়ীরা চলে আসে এই নিয়ে আমরাও বিপদে আছি বিব্রতবোধ করি। উপজেলার সচেতন মহলের দাবি, উপজেলার প্রতিটা মাহফিলের বাজার বন্ধ করা হোক। জলসার বাজারকে আইনের আওতায় আনা হোক। কয়েকজন সচেতনলোক আরো বলেন অনেক সময় দেখা যায় জলসার বাজারে যা টাকা গ্রামের চলে যায়,জলসার মাহফিলেও তা ইনকাম হয় না।

বেশিরভাগ জনসাধারণের অভিব্যক্তি হলো জলসার মাহফিল রাত বারোটা পর্যন্ত চালু রাখার এরপর জলসার মাহফিল বন্ধ করাটাই ভালো এলাকার  অনেক মানুষ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত থাকে, সেই বিষয়টা বিবেচনায় রাখা ভালো। তারা আরো বলেন, বেশিরভাগ মাহফিলে দেখা যায় মাহফিল এক জায়গায় আর মাইক আরেক জায়গায়।মাইকের আওয়াজ শুনে বুঝা দায় কোন মাঠে ওয়াজ চলছে।  বর্তমান সময়ে কিছু কিছু মাহফিলে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের আমন্ত্রিত অতিথি রাখার বিষয়টি আলোচনায় আসছে।

ই/ডি