০৩ মার্চ ২০২১ ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
০৩ মার্চ ২০২১   |  ই-পেপার   |   English
জেনে নিন উপকারিতা,
শুধু স্বাদে অনন্য নয়,শরীর ও ভালো রাখে গুড়
শুধু স্বাদে অনন্য নয়,শরীর ও ভালো রাখে গুড়

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

জানুয়ারী ২১, ২০২১ ১১:০৭ এএম
ফাইল ফটো



গুড়ে ক্যালশিয়ামের পাশাপাশি ফসফরাসও থাকে। এ ছাড়াও, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও সামান্য পরিমাণে হলেও কপার বিদ্যমান আছে ।

শীতের মৌসুমে খাদ্যে মিষ্টি যোগ করতে সবার আগে মনে পড়ে গুড়ের কথা। তা সে খেঁজুরের,গুড়ই হোক বা পাটালি। কিন্তু গুড় যে শুধু সুস্বাদু তা-ই নয়, বরং এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে স্বাস্থ্যকর নানান উপাদান, যা আমাদের সুস্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

চিনির তুলনায় গুড় সহজপাচ্য । বাদামী চিনির তুলনায় ৫ গুণ ও সাদা চিনির তুলনায় ৫০ গুণ বেশি মিনারেলস থাকে গুড়ে। মধুর সমান এর পুষ্টিগুণ। 

গুড় খেলে কী কী উপকার লাভ হতে পারে —

সন্তান প্রসবের পর গুড় খেলে প্রসূতি নানান রোগের হাত থেকে মুক্তি পান। শরীরে মিনারেলের অভাবকে দূর করে গুড়। প্রসবের ৪০ দিনের মধ্যে শরীরের সমস্ত জমাট বাঁধা রক্তকে স্বাভাবিক করে তোলে। গুড় আয়রনের প্রধান উৎস। তাই অ্যানিমিয়ার রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী। বিশেষতঃ মহিলাদের জন্য এটি অধিক উপযোগী।

গুড় শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে ও পরিপাক ক্রিয়া ঠিক রাখে। রোজ এক গ্লাস পানি বা দুধের সঙ্গে গুড় খেলে পেট ঠান্ডা থাকে। এর ফলে গ্যাস হয় না। যাঁরা গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা রোজ দুপুরের খাবারের পরে বা রাতের খাবারের পর গুড় খেলে সুফল পেতে পারেন।

গুড় রক্তকে টক্সিন মুক্ত করে, যার ফলে ত্বকের নানান সমস্যা যেমন, পিম্পল ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এমনকি মুখের দাগ-ছোপও দূরিভুত হয়। গ্লুকোজের পরিবর্তে গুড় খেলে জন্ডিস রোগীরা উপকার পেতে পারেন। 

গুড়ের সঙ্গে আদা খেলে শীতকালে গাটের ব্যথা থেকে স্বস্তি পাওয়া যায়। ভাতের সঙ্গে গুড় খেলে বসে যাওয়া গলা খুলে যায় ও স্বাভাবিক কন্ঠস্বর ফিরে আসে। আবার ঘিয়ের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খেলে কানের ব্যথা সেরে ওঠে।

গুড় গরম প্রকৃতির হওয়ায় শীতকালে শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। আবার সর্দি, কাশি থেকে স্বস্তি পাওয়া যায়। সর্দির সময় কাঁচা গুড় খেতে না-চাইলে চা অথবা অন্যান্য খাদ্যের সঙ্গে এটি মিশিয়ে খেতে পারেন। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে গুড়। এতে অ্যান্টি এলার্জিক উপাদান থাকে, তাই হাঁপানি রোগীদের জন্য বিশেষ করে শীতকালে এটি মস্ত উপকারী। ৫ গ্রাম গুড় ও সরিষার তেল এক সঙ্গে মিশিয়ে খেলে শ্বাস রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ক্লান্তি ও শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করলে গুড় এনার্জির সঞ্চার করে। গুড় সহজপাচ্য হওয়ায় রক্তে শর্করার পরিমাণও বৃদ্ধি পায় না। তাই সারাদিন কাজ করার পর ক্লান্তি অনুভব করলে গুড় খেতে পারেন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও গুড় সাহায্য করে। বিশেষত, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে রোজ গুড় খাওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে সকালে খালি পেটে পানির সঙ্গে গুড় মিশিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করে দেখতে পারেন ।

এস/সি/ইউ