২২ জানুয়ারী ২০২১ ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
২২ জানুয়ারী ২০২১   |  ই-পেপার   |   English
মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার,
বড়লেখায় সুদৃশ্য পাকা ঘর পাচ্ছে ৫০ আশ্রয়হীন পরিবার
বড়লেখায় সুদৃশ্য পাকা ঘর পাচ্ছে ৫০ আশ্রয়হীন পরিবার

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

জানুয়ারী ০৬, ২০২১ ০৯:২৬ এএম
উত্তর শাহবাজপুর ভবানীপুর গ্রামে আশ্রয়হীন দের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরের ছবি

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে সুদৃশ্য পাকা ঘর পাচ্ছে আরো ৫০ টি আশ্রয়হীন পরিবার। আগামী ১০ জানুয়ারী হস্তান্তরের লক্ষ্যে ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ দ্রুততার সহিত চালিয়ে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান বিভাগ।

গত ২৭ ডিসেম্বর বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপি ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এসব পাকা ঘরের নির্মাণ কাজের গুনগত মান প্রত্যক্ষ করে তারা অতিশয় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বড়লেখায় সরকারের ৪টি প্রকল্পে ইতিপূর্বে ২৬২ টি অসচ্ছল ও দুস্থ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকাঘর তৈরী করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এসব পাকা ঘরে বসবাসকারীদের মধ্যে রয়েছেন ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, দিনমজুর, রিকশা চালক, স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা ও ঝিয়ের কাজ করা মহিলা। যারা অতীতে কখনও কল্পনা করেননি পাকা ঘরে ইহজীবনে বসবাস করবেন।

এই কিস্তিতে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ ৫টি ইউনিয়নের ৫০টি ভুমিহীন ও গৃহহীন দিনমজুর, গৃহকর্মী, প্রতিবন্ধী পরিবারকে পাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়। আগামী ১০ জানুয়ারী সুন্দর পরিপাটি এই ঘরগুলো আশ্রয়হীনদের মাঝে হস্তান্তরের লক্ষ্যে নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির ভবানীপুর গ্রামে পাশাপাশি ৮টি পাকা ঘরের নির্মাণ কাজ প্রায় শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে । একটি ঘরের উপকারভোগী ছায়াদ আলী জানান, পরের বাড়িতে থেকে দিনমজুরী করে বউ-বাচ্চা নিয়ে দিনাতিপাত করি। নিজের কোন ভূমি নেই, ঘরও নেই। হঠাৎ একদিন ইউএনও স্যার গাড়ি থামিয়ে জায়গা-জমি ও ঘর নেই জেনে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিয়ে অফিসে যেতে বলেন। বিশ্বাস হয়নি সরকার আমাকে পাকা ঘর তৈরী করে দিবে। এত সুন্দর পাকা ঘরে বউ-বাচ্চা নিয়ে ঘুমাবো জীবনে স্বপ্ন ও দেখিনি। দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির দোয়ালিয়া গ্রামের বৃদ্ধ জমির উদ্দিন জানান, দিনমজুরী করে স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ ভাসমান অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছি। ইউএনও স্যার বাড়িঘর নেই জেনে আমাকে ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে পাকা ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। এই বৃদ্ধ বয়সে নিজের একটি ঘর হবে, আর সেই ঘরের ভিতরেই মরতে পারবো কল্পনাও করিনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান জানান, ইউএনও স্যারের সার্বক্ষনিক তদারকিতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের প্রত্যেকটি পাকা ঘরের নির্মাণ কাজ মানসম্পন্ন হয়েছে। 

ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৫০টি আশ্রয়হীন পরিবার প্রতি ২ শতাংশ খাস ভুমি বন্দোবস্ত প্রদান পূর্বক পাকা গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে তাদেরকে পুনর্বাসনের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ইতিমধ্যে অধিকাংশ ঘরের নির্মাণ কাজ সু-সম্পন্ন হয়েছে। 

আগামী ১০ জানুয়ারী ঘরগুলো আশ্রয়হীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে।

এস/সি/ইউ