০২ ডিসেম্বর ২০২০ ০৯:১৪ অপরাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
০২ ডিসেম্বর ২০২০   |  ই-পেপার   |   English
অগ্নিকাণ্ড থেকে ধর্ষণকাণ্ড
মুখোমুখি আজাদ-রণজিৎ
মুখোমুখি আজাদ-রণজিৎ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক :

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ ১২:২০ পিএম

২০১২ সালের ৮ জুলাই সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর থেকে টিলাগড়ে কোনো ঘটনা ঘটলেই নাম আসে তাঁদের। টিলাগড়কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের বিভিন্ন বলয় প্রতিপালন করতেই ঘটছে একের পর এক অঘটন। ছাত্রাবাসে অগ্নিকাণ্ড থেকে সর্বশেষ গণধর্ষণ ঘটনার পর আবারও আলোচনায় আজাদুর রহমান-রণজিৎ সরকার। তাঁদের দুজনের নামে রয়েছে দুটি বলয়। প্রভাব-প্রতিপত্তি-বলয় বলবৎ রাখতে আর ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে একের পর এসব অপকর্ম ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিলেটের টিলাগড়ের বাসিন্দা আজাদুর রহমান আজাদ সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের টানা পাঁচবারের কাউন্সিলর। ১৯৯২ সালে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, পরে মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সর্বশেষ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলেন। প্রস্তাবিত কমিটিতে তাঁর নাম রয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে।

রণজিৎ সরকার টিলাগড়ের গোপালটিলার বাসিন্দা। সিলেট জেলা বারের আইনজীবী। সিলেট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ থেকে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়। মহানগর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সম্মেলন হওয়ার আগে জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলেন। প্রস্তাবিত কমিটিতে তাঁকে সাংগঠনিক পদে রাখা হয়েছে।

ওখানে অন্তত ১০–১২টি রেপ হয়েছে: আজাদুর রহমান

*সবাই বলছেন, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আগুন দেওয়ার বিচার হলে আলোচিত এই ঘটনা না-ও ঘটতে পারত। আপনি কী বলেন?

আজাদ : আমিও বলছি, আমি একমত। আমি মনে করি, আগুনের ঘটনার বিচার হলে এ ঘটনা ঘটত না।

*বিচার হলো না কেন?

আজাদ: কলেজ কর্তৃপক্ষের ঘাপলা ছিল। শুরুতে তারা যে তদন্ত কমিটি করে, সেটি সাত দিন পর প্রকাশ করবে বলে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেটি দুই বছর পরও প্রকাশিত হয়নি। ঘটনার পরই ছাত্রাবাস থেকে মামলা করেই দায়সারা। পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই—কোনো সংস্থা সহায়তা পায়নি। আবার তদন্ত করার ক্ষেত্রেও কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। এ জন্য পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করতে পারেনি।

*পরবর্তী সময়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে অগ্নিসংযোগকারী ও ঘটনার উসকানিদাতা চিহ্নিত হয়। ৩২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। সেই বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আপনার কী মত?

আজাদ: এ নিয়ে আমার নয়, আমাদের ভিন্নমত আছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন আছে। শুনেছি, পরিবহনশ্রমিকদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কলেজ ছাত্রাবাসের ঘটনা, পরিবহনশ্রমিকেরা কী বলবে।

*এটা তো ছাত্র কিংবা শ্রমিকের বিষয় নয়, যাঁরা প্রত্যক্ষ করেছেন, তাঁরাই সাক্ষ্য দেবেন। সেই অনুযায়ী হয়েছে। ভিন্নমতটা কোথায়?

আজাদ: আমার ভিন্নমত নয়, আমাদের রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত। ছাত্রাবাস শিবিরের দখলে ছিল। ওরা বিতাড়িত হয়েছে। তৃতীয় কেউ তো ঘটনা ঘটাতে পারে।

*তাহলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আলোকে যাঁরা অভিযুক্ত হয়েছেন, সেটি মানতে রাজি নন?

আজাদ: আমরা পুনঃ তদন্ত চাই, অপরাধের বিচার চাই। নইলে গণধর্ষণের মতো আরও ভয়ংকর কিছু ঘটবে।

*ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে আপনি কী জানেন, বলুন—

আজাদ: সবাই যেমন করে শুনেছে, আমিও তেমনই শুনেছি। ওই এলাকায় এ ঘটনাই প্রথম নয়। আরও অন্তত ১০-১২টি রেপ হয়েছে। একটার পর একটা করতে গিয়ে ধরা পড়েছে একটি। আমি চাই, এই একটি ঘটনার সূত্র ধরে আরও ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হোক। ছাত্রাবাসের ঘটনার মতো এটাও যেন হারিয়ে না যায়। কিন্তু শুনেছি, ভিকটিমদের নানাভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে।

*তাই নাকি, সেটা কীভাবে?

আজাদ: শুনেছি, ভিকটিমের ইতিবৃত্ত খোঁজা হচ্ছে। কারা ধরিয়ে দিল, এদেরকেও নানা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা সাহস করে বিচারপ্রার্থী হয়েছেন বলেই তো এত বড় ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। আসলে ছাত্রাবাস ও আশপাশ ভয়ংকর জায়গা হয়ে গেছে। এমসি কলেজের আশপাশ একটি দর্শনীয় এলাকা। তরুণ-তরুণীরা বেশি যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেহেতু আছে, সেখানে বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড যেতেই পারে। তাঁদের টিলা এলাকায় মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে নানা বিড়ম্বনায় ফেলা হয়। এমনও শুনেছি, টাকা না পেলে এটিএম বুথের কার্ড নিয়ে জিম্মি করে টাকা পর্যন্ত তুলে নিয়ে যায়। এসব করতে করতে রেপের দিকে গড়ায় ঘটনা।

*আপনি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা। ভয়ংকর জায়গা হলে তো দায় আপনারও আছে। কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

আজাদ: অবশ্যই আমরা এলাকাবাসী বসছি, ঘটনাস্থলে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানাব।

*টিলাগড় একটি শিক্ষা-অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এমসি কলেজ ছাড়াও সরকারি কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগের দুই নেতার কারণে এ এলাকা এ রকম ভয়ংকর অবস্থা বিরাজ করছে টিলাগড়ে। দুই নেতার একজন আপনি—এ ব্যাপারে কী বলেন?

আজাদ: অভিযোগ তো করা যায়, কিন্তু প্রমাণ তো করা যায় না। শিক্ষা-অঞ্চলে যে এসব অপকর্ম এখন হচ্ছে, এটা কিন্তু নতুন নয়। বহু পুরোনো। তবে আগে রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে একটা সীমারেখা ছিল। আমি যখন ছাত্র ছিলাম, দেখতাম কলেজের ভেতর কোনো উত্তেজনা বা সংঘর্ষ হলে বাইরে থেকে কেউ যেত না। আবার ক্যাম্পাসের ঘটনার জের ধরে বাইরে কিছুই ঘটত না। এখন উল্টোটা। কলেজের ভেতর বহিরাগত থাকবে, কলেজের ঘটনার জের ধরে ঘরে, দোকানে হামলা করবে। কলেজে বহিরাগত দাপট খাটিয়ে টিলাগড় পয়েন্টে হোটেল-রেস্তোরাঁয় পেট ভরে খাবে, কিন্তু বিল দেবে না। স্টাইল করে চুল কাটবে, টাকা দেবে না। টাকা চাইলে লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে বলবে রাজনৈতিক। আর সাংবাদিকেরা কোনো বাছবিচার করেন না। পরদিন আপনি না করেন, আপনার পত্রিকায় বলা হবে, আজাদ গ্রুপ করেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল যে ঘটিয়েছে, তাদের জীবনে দেখিনি আমি। অযথা অভিযোগ, দোষারোপ বন্ধ করতে হবে।


*তাহলে আপনার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ, সব মিথ্যা? ঘুরেফিরে কেন আপনার নাম আসে?

আজাদ: আমি রাজনীতি করি। লংটাইম ওয়ার্ড কাউন্সিলর। আমার প্রতিপক্ষ আছে, অভিযোগ তো থাকবেই। আমার রাজনৈতিক ঘটনাকে রাজনৈতিক আর অপরাধকে অপরাধ হিসেবে দেখুন। অভিযোগ থাকলে প্রমাণ করুন। আমি মূল দল করি। আগে ছাত্রলীগ করেছি। আলাদা বলয় থাকতেই পারে। সে কারণে আমার বলয়, আমার নাম ছাত্রলীগে বা ছাত্ররাজনীতিতে থাকবেই। কথা হলো অপকর্ম। আমার পক্ষকে আমি কঠোরভাবে বলে দিয়েছি, বহিরাগত হলে কলেজে যাওয়া যাবে না। দুইটা মার্ডার হওয়ার পর আমার নাম নিয়ে কেউ এমসি কলেজ, সরকারি কলেজ ও ছাত্রাবাসে যায়নি।

*টিলাগড়ের পরিস্থিতি নিয়ে আপনার কোনো আহ্বান আছে?

আজাদ: দেখুন, এত কিছুর পরও কিন্তু টিলাগড় এলাকায় শিক্ষার্থী থাকছেন। কারণ তাঁরা বাধ্য হচ্ছেন। এখানে যত মেসবাড়ি আছে, সারা সিলেট শহরে তা নেই। নারীদের জন্য আলাদা মেসবাড়ি ১৯৭৪ সাল থেকে আছে। এসব মেসবাড়ির নিরাপত্তা দরকার। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকাবাসীকে নিয়ে আমরাও সোচ্চার, সামাজিকভাবে কর্মসূচি দেব, যাতে এলাকায় শান্তির পরিবেশ বজায় থাকে।

আমার আত্মীয় মার্ডার হলেও বলা হয় রণজিৎ গ্রুপ: রণজিৎ সরকার

*ছাত্রাবাস দখল, গণধর্ষণে অভিযুক্ত যে ছয়জন, সবার রাজনৈতিক অভিভাবক আপনি, এ ব্যাপারে কী বলেন?

রণজিৎ : প্রথমে বলছি যে আমি ছাত্রলীগ ছেড়েছি প্রায় ২০ বছর। এরপর থেকে সরাসরি মূল দলে আছি। পেশা আইনজীবী। ছাত্রলীগে আমার কোনো গ্রুপট্রুপ নেই। এখন কেউ যদি বলে, আমার সঙ্গে ছবি তোলে, অভিভাবক বা দাদা বলে, আমার কী করার থাকতে পারে?

*তাহলে আপনার অনুসারীরা অপকর্ম করেছে, এটা স্বীকার করে নিচ্ছেন?

রণজিৎ : স্বীকার বা অস্বীকার করার বিষয় না। আমি এ ঘটনা কোনোভাবে মেনে নিতে পারছি না। এটা হায়েনাদের কাজ। জড়িত ব্যক্তিরা যে পরিচয়ে থাকুক না কেন, বিচার হোক। কঠোর শাস্তি হোক।

*ছাত্রাবাসে যে ঘটনা ঘটেছে, সবাই বলছেন ২০১২ সালে অগ্নিসংযোগের ঘটনার বিচার হলে এ ঘটনা ঘটত না। আপনার কী মত?

রণজিৎ : আমারও কোনো ভিন্নমত নেই। আমিও তাই মনে করি।

*বিচার তাহলে হচ্ছে না কেন, একজন আইনজীবী হিসেবে বলুন-

রণজিৎ : এটা তো বিচারাধীন বিষয়। কেন হচ্ছে না, এ নিয়ে কিছু বলা যাবে না। চার্জশিট করে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ঠিক না বেঠিক, সেটা আদালতের বিষয়।

*অগ্নিসংযোগকারী অভিযুক্তদের তালিকায় থাকা আসামিরা তো সব আপনার গ্রুপ বা অনুসারী। অভিযোগ আছে, আপনি রাজনৈতিক ও আইনজীবী হওয়ায় সেই ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছেন?

রণজিৎ : এসব ভুয়া কথা। বিচারাধীন মামলা কোন অবস্থায় আছে, এসব জানা নেই। এখন মনেও করতে পারছি না কারা কারা অভিযুক্ত।

*অগ্নিকাণ্ডের পর ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে দেশে ও বিদেশে তোলপাড় হচ্ছে। অভিযুক্ত সবাই তো আপনার অনুসারী। এ হিসেবে আপনিও তো জড়িত।

রণজিৎ : আমি জড়িত কী করে বলবেন? আমার বাসা গোপালটিলায়। সেখান থেকে পায়ে হাঁটার দূরত্ব এমসি কলেজ ক্যাম্পাস আর ছাত্রাবাস। কোনো কিছু ঘটলেই দোষা হয় আমার। আমার যদি টাকা থাকত, তাহলে শহরের অন্য জায়গায় একটা বাসা কিনে চলে যেতাম। তখন নাহয় অভিযোগ, দোষারোপ থেকে রেহাই পেতাম।

*তাহলে গোপালটিলায় আপনার বাসা বলেই কি আপনার নামে ছাত্রলীগে বলয় আর অনুসারী তৈরি হচ্ছে? বাসা সরালেই অবসান হতো?

রণজিৎ : সত্যি, আমি আর পারছি না। দল ক্ষমতায়, অথচ কলেজে, টিলাগড়ে খুনখারাবি হলেই আমার দোষা হয়। আমার আত্মীয় মার্ডার হলেও বলা হয় রণজিৎ গ্রুপ। বাসাবাড়ি নিয়ে এলাকা ছেড়ে যাওয়া ছাড়া আর তো কোনো উপায় দেখছি না।

*আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ সব তাহলে গোপালটিলায় থাকার কারণে?

রণজিৎ : এখন তো তা–ই মনে হচ্ছে। বাসিন্দা হওয়ার কারণেই অপরাধ। ২০ বছর হয় ক্যাম্পাসে যাচ্ছি না। এরপরও বলা হয় আমি যাই। গ্রুপ পালছি। আসলে কলেজের বাইরে কিছু নয়। যা হয় কলেজকেন্দ্রিক। আমার তো মনে হয় কোনো চক্র এসব একের পর এক করছে। দায় চাপাচ্ছে আমার ঘাড়ে।

*সেই চক্রে কারা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা?

রণজিৎ : আট-দশ বছর আগে যা হয়েছে, সেগুলোতে জামায়াত-বিএনপি জড়িত থাকতে পারে। এখন তো মনে হয় ঘরের ভেতর থেকে হচ্ছে।

*একটু খোলাসা করুন, ঘরের ভেতর এরা কারা? কেন করছে?

রণজিৎ সরকার: সামনে জেলার নতুন কমিটি আসবে। শুনেছি, প্রস্তাবিত কমিটিতে আমার নাম আগের পদ থেকে আরও ওপরে থাকতে পারে। এ নিয়ে দলের ভেতর থেকে কোনো চক্র ছাত্রলীগের নামে একটি অপকর্মে আমার নাম জড়াতে তৎপর। আমাকে কোণঠাসা করলে তো লাভ জামায়াত-বিএনপির।

*তাহলে আপনার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগে গ্রুপ সৃষ্টি করে রাখা, নানা অপকর্ম করা—এসব অভিযোগ মিথ্যা?

রণজিৎ : অভিযোগ একটাও সত্য নয়। এসব অপপ্রচার। করোনার সময় ছাগল উন্নয়ন কেন্দ্রে কে বা কারা গেছে, গিয়ে কী করেছ, আমি সেখানে ছিলামও না। কিন্তু মামলা হয়েছে আমার নামে। এরপর কত–না অপপ্রচার।

সেই ঘটনা তো ‘পাঁঠাকাণ্ড’ হিসেবে ছড়িয়েছে। আপনি মামলার আসামিও। এরপরও অস্বীকার করছেন কেন? জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তো বলছেন না। কেন?

রণজিৎ : এই তো আপনাকে বলছি, আমি সেখানে ছিলাম না, মামলায় জড়ানো হয়েছে। এরপরও আসছে আমার নাম। কোনো ইনসাফ কোথাও দেখছি না।

টিলাগড় এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বসবাস। সেখানকার বাসিন্দা হিসেবে টিলাগড় এলাকার অপকর্ম রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

রণজিৎ : আমি তো এলাকার পলিটিকসও করি না। সকালে কোর্টে যাই। মূল দলের কর্মসূচিতে অংশ নিই। তাই এ ব্যাপারে এলাকাবাসীকে নিয়ে কী পদক্ষেপ নেব? এখন কোনো পদক্ষেপ নিতে গেলেই তো আমাকে ফাঁদে ফেলে ঘটানো হবে কোনো অঘটন। তখন সরাসরি অভিযুক্ত করা হবে।

তাহলে এলাকাবাসী হিসেবে আপনার কোনো দায় নেই?

রণজিৎ সরকার: দায় তো আছে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, আমি মহাষড়যন্ত্রের মধ্যে আছি। আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি নিয়েই এই ষড়যন্ত্র। এ জন্য দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সহযোগতি চাই। আর আবার বলছি, এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে আমার নাম নিয়ে কেউ করতে পারে। এসব অভিযোগেরও তদন্ত চাই। ইনসাফ চাই। সূত্র : প্রথম আলো

 

এ/ইউ/এস