০২ ডিসেম্বর ২০২০ ০৯:৪৪ অপরাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
০২ ডিসেম্বর ২০২০   |  ই-পেপার   |   English
বাবলার ‘অনমনীয়তায়’ ধামাচাপা দেওয়া যায়নি ছাত্রাবাসের ধর্ষণ ঘটনা
বাবলার ‘অনমনীয়তায়’ ধামাচাপা দেওয়া যায়নি ছাত্রাবাসের ধর্ষণ ঘটনা

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক :

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ ১০:২৫ এএম

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে তরুণীকে ধর্ষণের পর তা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেছিলো ধর্ষকরা। তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন সরকার দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতাও। পুলিশও প্রথমে এতে সায় দেয়। তবে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার সাহসীকতা আর অনমনীয়তায় ধামাচাপা দেওয়া যায়নি নারকীয় সেই ঘটনা।

জানা যায়, শুক্রবার রাতে ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর প্রাইভেটকার আটকে রেখে স্বামীসহ তাকে ছেড়ে দেয় ধর্ষকরা। তাদের টাকা-পয়সা এবং স্বর্ণলাংকারও ছিনিয়ে নেয় ধর্ষকরা। এরপর কাঁদতে কাঁদতে ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে আসেন ওই তরুণী ও তার স্বামী।

টিলাগড় পয়েন্টে তাদের কাঁদতে দেখে এগিয়ে আসেন ওই এলাকার বাসিন্দা সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিহিত গুহ চৌধুরী বাবলা। যিনি বাবলা চৌধুরী নামেই পরিচিত। বাবলা চৌধুরীর কাছে ছাত্রবাসের নারকীয় ঘটনার বর্ণণা দেন ওই তরুণ-তরুণী। এরপর বাবলা ফোন দেন শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে। তবে পুলিশ আসার আগেই ওই তরুণ-তরুণীকে নিয়ে ছাত্রাবাসের দিকে রওয়ানা দেন বাবলা।  

সে রাতের ঘটনা প্রসঙ্গে বাবলা চৌধুরী বলেন, ছাত্রাবাসে গিয়ে আমি সাইফুর-রবিউলসহ কয়েকজনকে দেখতে পাই। আমাকে দেখেই তারা ওই দম্পতির গাড়ি চাবি ও মোবাইল ফোন আমার হাতে তুলে দেয়। তারা এগুলো ফেলে গেছে বলে সাইফুর আমাকে জানায়। চাবি আর মোবাইল নিয়ে আমি পুনরায় ছাত্রাবাসের গেইটে এসে পুলিশের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি।


বাবলা চৌধুরী বলেন, ছাত্রাবাসের গেইটে এসে দেখতে পাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন নেতা ও যুবলীগের একজন নেতাসহ কয়েকজন গেইটে দাঁড়িয়ে আছেন। এরপর কিছুক্ষণ পর পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে।

বাবলা বলেন, ছাত্রাবাসে প্রবেশের জন্য পুলিশ কলেজ প্রশাসনের অনুমতির অপেক্ষায় ছিলো। এতে অনেকটা সময় ক্ষেপন হয়ে যায়। এসময় জড়ো হওয়া সরকারদলীয় নেতারা প্রথমে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেন। এরপর তারা আপোষের চেষ্টা চালান। আপোষের চেষ্টায় শাহপরান থানার ওসিও তাদের সহায়তা করেছিলেন। তবে আমি এরকম আপোষের প্রস্তাব মানিনি। এছাড়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যও এ রকম প্রস্তাবে রাজি হননি। তবে এসব কথাবার্তায় অনেক সময়ক্ষেপন হওয়ার সুযোগে অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

বাবলা চৌধুরী বলেন, ছাত্রাবাসে প্রবেশের আগেই ওই তরুণীর স্বামীর মোবাইলে একটি কল আসে। এসময় আমি তার হাত থেকে ফোনটি নিয়ে কথা বলি। কল করেছিলো সাইফুর। ফোনে ওই দম্পত্তিকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য শাসাচ্ছিল সাইফুর। আমি তখন আমার পরিচয় দিয়ে বলি- 'আমি আসছি, দেখি তোরা কী করতে পারস'।

ধর্ষণের ঘটনা আপোষে সহায়তার অভিযোগ প্রসঙ্গে রাতে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্তি উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তিময় সরকার বলেন, এরকম কিছু আমি শুনিনি।

সরকার দলীয় কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ প্রসঙ্গে জ্যোর্তিময় সরকার বলেন, এখন আমরা মামলার এজাহারভূক্ত সব আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। পরে তদন্তে যদি আর কারো নাম আসে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

সেই রাতের ঘটনার পর বাবলা চৌধুরীর সাথে সাক্ষাতের কথা নিশ্চিত করে নির্যাতিন তরুণীর স্বামী একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি (বাবলা চৌধুরী) বলছিলেন, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে  ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দুজন।

এ ঘটনায় তরুণীর স্বামীর দায়ের করা মামলায় আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুমকে (২৫)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

এঘটনায় এজাহারভূক্ত চারজনসহ এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাইফুর, অর্জুন ও রবিউলকে সোমবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

এ/ইউ/এস