মে / ১৮ / ২০২২ ০৪:০৬ অপরাহ্ন

সৈয়দ হেলাল

সেপ্টেম্বর / ১০ / ২০২০
০৭:১৪ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৮ / ২০২২
০৪:০৬ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাটে রুস্তুমপুর বাসীর দুঃখের নাম "আনফরের ভাঙ্গা"



176

Shares

গোয়াইনঘাট উপজেলার ১ নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের পর্যটন খ্যাত বিছনাকান্দির স্থানীয় হাদারপার বাজার ও কুপার বাজারের মধ্যবর্তী স্থানের বিশাল ভাংগার নাম হচ্ছে আনফরের ভাঙ্গা। চীনের হোয়াংহো নদীকে বলা হতো চীনের দুঃখ আর রুস্তমপুরের আনফরের ভাঙ্গাকে বলা হয় রুস্তুমপুর বাসীর দুঃখ।সেই  হোয়াংহো নদী চীনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনলেও আনফরের ভাংগার কোন পরিবর্তন হচ্ছে না।রুস্তমপুর বাসীর দুঃখ-দুর্দশা হতাশা ভোগান্তির লাঘব হচ্ছে না।

গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের আনফরের ভাংগায় সেতু না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ১০ গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। স্বাধীনতাত্তোর অনেক সরকারের পরিবর্তন হয়েছে শুনিয়েছেন আশার বাণী সরকারের পরিবর্তন হয় ঠিকই কিন্তু আনফরের ভাঙ্গার কোন পরিবর্তন হয় না। আনফরের ভাঙ্গায় একটি ব্রিজ রুস্তমপুর এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী।

খুবই জনগুরুত্বপুর্ন এ ব্রীজটি যে শুধু রুস্তমপুরের জন্য প্রয়োজন তা নয় এটি বিছনাকান্দি  পর্যটন, পাথর কোয়ারি সহ ভারত - বাংলাদেশ স্থল পথের অন্যতম একটা মাধ্যম হতে পারে। নিসন্দেহে জাতীয় উন্নয়নে বড় ভুমিকা রাখার মত একটি ব্রীজ। যা মন্ত্রী মহোদয় খুবই ভাল করে জানেন এবং তিনি এই ব্রীজটির জন্য আন্তরিক রয়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব কাজ করার ব্যাবস্থা নিবেন, এলাকাবাসী  আশাবাদী।

 পর্যটন খ্যাত বিছনাকান্দির যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই রাস্তা। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা আসেন, কিন্তু ভাঙ্গায় ব্রীজ না থাকার দরুন পর্যটকদের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, পেতে হয় ভোগান্তি স্বস্তিতে যেতে পারেন না পর্যটন স্পটে। এলাকাবাসী দাবি ভাংগায় ব্রীজ নির্মাণ হলে পর্যটকের সমাগম আরো বাড়বে, বাড়বে নিম্নআয়ের মানুষের কর্মসংস্থান দূর হবে বেকারত্ব পর্যটকরা উৎফুল্ল মনে স্বাচ্ছন্দে যেতে পারবে পর্যটন স্পটে। দৈনন্দিন জীবনের নিম্নআয়ের মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পাবে আর্থিক স্বচ্ছলতা।

 এলাকাবাসীকে প্রতিনিয়ত দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তাদের মৌলিক চাহিদা মিটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে, কৃষি কাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদ করা, ফসলি জমির সার ওষুধ পরিবহনে অসুবিধা, জমির ফসল ক্রয়-বিক্রয়ে অসুবিধা, শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠ গ্রহণে অসুবিধা, এ ছাড়া অসুস্থ লোকজনকে দ্রুত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে পারাপারের সময় প্রতিবছর জানমাল ও অনেক প্রাণহানিও ঘটে।

যুগ যুগ ধরে কোনো প্রয়োজনে ভাংগার দক্ষিণ পাশে আসতে হলে তাদের নদীতে ভিজে পার হয়ে আসতে হয়। নদীতে কোনো বাঁশের সাঁকো বা নৌকা না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে তাদেরকে হাঁটুপানি পার হয়ে আসতে হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে তাদের ভিজিয়ে পার হতে হয়। বিশেষ করে আশেপাশের গ্রামের শিক্ষার্থীদের স্কুল, কলেজগুলোতে আসতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

গ্রামের মানুষের অধিকাংশই ফসলি জমি রয়েছে নদীর পূর্ব পাশে। সেতু না থাকায় ওই ফসলি জমিগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদ করতে পারে না, তারা আদিযুগের লাঙলে চাষ করে জমিতে ফসল ফলাতে হচ্ছে। আবার উৎপাদিত ফসল ঠিকমতো ঘরে তুলতেও হিমশিম খেতে হয়। এ ছাড়া গ্রামের লোকজন তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করতে না পেরে ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধপত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে না পেরে মানুষ খুব কষ্টে দিনযাপন করছে।

সংসদীয় আসন ৪-এর এম পি ইমরান আহমদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্লেখিত ভাঙ্গায় ব্রীজ নির্মাণে এলাকা বাসীকে আসস্হ ও সদয় সম্মতি  প্রকাশ করেন। বর্তমানে তিনি দেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হওয়ায় এলাকা বাসীর মনের আশা আরও দ্বিগুণ হয়েছে। উনার মাধ্যমে সিলেট ৪ আসনের গোয়াইনঘাট,জৈন্তা ও কোম্পানিগঞ্জে অনেক বড় বড় উন্নয়ন মূলক  কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এলাকা বাসী আশাবাদী এই ভাঙ্গায় ব্রিজ নির্মাণ করে হাজার হাজার জনগণের ভোগান্তি লাগবে সদয় হবেন।

সৈয়দ হেলাল

সেপ্টেম্বর / ১০ / ২০২০
০৭:১৪ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৮ / ২০২২
০৪:০৬ অপরাহ্ন

পাঠকের কথা