মে / ১৮ / ২০২২ ০২:৫৪ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :

সেপ্টেম্বর / ০৭ / ২০২০
১১:১৯ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৮ / ২০২২
০২:৫৪ অপরাহ্ন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা হচ্ছে বিপদগামী



306

Shares

বিশ্ব মানচিত্রের প্রতিটা দেশে একসাথে করোনা ভাইরাসের হিংস্র আক্রমণ, ভয়াল থাবা আর তাণ্ডবে প্রকম্পিত হয় বিশ্ব। বিশ্বের প্রতিটা দেশ থেকে শুরু করে শহরে বন্দরে গ্রামে গঞ্জে হাট-বাজারে অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক। পৃথিবীর বুকে এত দ্রুত বিস্তার বা পরিচিতি লাভ করা করোনা ভাইরাসের মত আর কিছু নেই। যাহার ফলে ধারাবাহিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাংক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে থাকে, গত এপ্রিল মাস থেকে শুরু করে বিশ্বের সবকটি দেশের মত বাংলাদেশেও ধারাবাহিকভাবে স্কুল কলেজ মসজিদ মাদ্রাসা বন্ধের আওতায় আসে।

মাত্র ছ'মাস পূর্বেও আমাদের এই পৃথিবী ছিল ব্যস্ত ও প্রাণচঞ্চল। প্রতিদিনের সকাল শুরু হতো ব্যস্ততা দিয়ে। এমন জীবনে অভ্যস্ত আমরা তখন পর্যন্ত ভাবতেও পারিনি সামনের দিনগুলোতে কী হতে যাচ্ছে! কোভিড-১৯ এর আক্রমণে শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ এ দুর্যোগে পুরো পৃথিবী জুড়ে কোটি কোটি মানুষ গৃহবন্দী জীবনযাপন করছে। সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে অফিস-আদালত, শিল্প, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সকল ধরনের খাতসমূহ।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে পুরো দুনিয়া জুড়ে যে স্থবিরতা নেমে এসেছে তা থেকে রেহাই পায়নি শিক্ষাব্যবস্থাও। উন্নত দেশগুলোতে অনলাইন মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কেবলমাত্র শ্রেণীকক্ষভিত্তিক পাঠদান ব্যবস্থায় অধিকতর নির্ভরশীল হওয়ায় এই স্থবিরতা জেঁকে বসেছে প্রকটরূপে। গ্রামের যে শিশুটি গড়ে ওঠে নয়নাভিরাম প্রকৃতির কোলে সবুজের সাগরে তার প্রতিভা চিন্তা, চেতনা আর প্রতিভা সবকিছুই শহরের ইট-পাথর, যন্ত্র গর্জনের মধ্যে বেড়ে উঠা শিশুর চেয়ে আলাদা। সেটাই স্বাভাবিক, আর এই দুই ধরনের শিশুকে একই পাল্লায় পরিমাপ করা ভুল। গ্রামের শিশুরা বেশিরভাগ পাঠ্যপুস্তক এর উপর অধিক নির্ভরশীল। গ্রামের শিশুরা যে প্রতিকূলতার বাধা পেরিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করে শহরের শিশুরা তা নয়। গ্রামের বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে নেই পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা, শিক্ষা বান্ধব পরিবেশে শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি, দক্ষ শিক্ষকের অভাব, বেশিরভাগ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের অভিজ্ঞতার অভাব, বাজেট স্বল্পতা, অভিভাবক অসচেতনতা, থাকেনা আধুনিক শিক্ষা উপকরণ। যার ফলে শিক্ষার গুণগতমান,শিক্ষার উৎকর্ষতা অর্জনে সামগ্রিকভাবে বাধাগ্রস্থ হয় শিক্ষার্থীরা। বিশ্বে এই প্রথম লম্বা সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ পাওয়ায় পাঠশালার শিক্ষার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান কিন্টারগার্ডেনের শিক্ষকদের জীবনে নেমে এসেছে নীরব দুর্ভিক্ষ।

করোনার এই সংকটকালীন সময়ে  শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে মার্চ ১৮, ২০২০ থেকে  প্রাথমিক স্থর থেকে ক্রমান্বয়ে  বিশ্ববিদ্যালয় স্থর  পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে ছুটি বাড়ানো হয়েছ।

এদিকে যে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে এত আয়োজন তারা কী করছে?  দলবেঁধে পিকনিক করছে, পাড়া, মহল্লায়, অলিতে, গলিতে আড্ডা দিচ্ছে, খেলাধুলা করছে, আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছে! পাড়া-মহল্লার ছেলেদের সাথে মিশে ধূমপায়ী হচ্ছে। বেড়াচ্ছে বাজে ছেলেদের সাথে মিশে রাতের আড্ডা। গরিব কৃষক বাবা ক্ষেতের মাঠে ধুকে ধুকে মরছে আর তার সম্ভাবনাময়ী ছেলে যাকে নিয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সে লম্বা সময় ছুটি পাওয়ায় টিকটক ভিডিও করার জন্য ক্যামেরা খুজছে। এক অভিভাবক মা বলেন, বাজার খরচের,তালিকা করার জন্য কলম চেয়ে ঘরে কলম পাওয়া গেল না এমন হচ্ছে বর্তমান শিক্ষার্থীদের অবস্থা। তিনি বলেন স্কুল খোলার পর অনেক ছাত্র ছাত্রীর বিদ্যালয়ের অনেক পাঠ্যপুস্তক ও খুঁজে পাওয়া যাবে না। পাড়ার খারাপ ছেলেদের সাথে মিশে লাফালাফি ঠাট্টা তামাশা হাসাহাসি কথার ধরন দেখলে বুঝাই যায়না সে একজন স্কুল শিক্ষার্থী।

চলাফেরার স্টাইল দেখলে মনে হবে সে কত ব্যস্ত সময় পার করছে।বেড়েছে উগ্রতা, এ নিয়ে অভিভাবকদের উদাসীনতা আর অসচেতনতার শেষ নেই। অনেক অবিভাবকদের বলতে শোনা যায় একটু সময় পেয়েছে ঘুরে ফিরে খাউক। সময় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। এত লাগামছাড়া হলে কখন, সে সময় হবে তা একটু ভাববার বিষয়।

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :

সেপ্টেম্বর / ০৭ / ২০২০
১১:১৯ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৮ / ২০২২
০২:৫৪ অপরাহ্ন

পাঠকের কথা