০২ ডিসেম্বর ২০২০ ০৯:১৬ অপরাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
০২ ডিসেম্বর ২০২০   |  ই-পেপার   |   English
জৈন্তাপুরে অস্তিত্ব সংকটে ছাত্রলীগ
জৈন্তাপুরে অস্তিত্ব সংকটে ছাত্রলীগ

প্রণব দাস

অগাস্ট ২৯, ২০২০ ১১:৩৪ পিএম
প্রণব দাস

প্রায় চার বছর ধরে নেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জৈন্তাপুর উপজেলা শাখার কমিটি। কমিটি না থাকায় দিনদিন অস্তিত্ব হারাচ্ছে নেতৃত্বশূন্য জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় সংগঠনের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন কর্মীরা। কমিটির অপেক্ষায় থাকা সিনিয়র নেতারা অনেকে বিয়েসাদী করে যোগ দিচ্ছেন যুবলীগে-সেচ্ছাসেবকলীগে। কেউ কেউ দেশ ছেড়ে বেছে নিয়েছেন প্রবাস জীবন। অনেকেই যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন পেশায়।

কতটুকু অস্তিত্ব সংকটে জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ তার প্রমাণ মিলেছে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবস উপলক্ষে আয়োজিত মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো নিজ নিজ ব্যানারে র‍্যালী এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করলেও সেখানে ছিলোনা ছাত্রলীগ। কমিটি না থাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে মুজিব বর্ষের কেক কাটা অনুষ্ঠানেও বিচ্ছিন্নভাবে ছিলো ছাত্রলীগ।

দলীয় কর্মসূচি পালনেও জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ নীরব। জাতীয় দিবসের প্রোগ্রামগুলোতেও দেখা মিলে না আট-দশ জন ছাত্রলীগ কর্মী। কমিটি না থাকায় ঝিমিয়ে পড়া জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ করোনা কালীন সময়ে অসহায়দের পাশে এক ব্যানারের নীচে দাঁড়াতে পারেনি।

দীর্ঘদিন রাজনীতি করে পদ না পাওয়ার ক্ষোভে ছাত্রলীগ ছেড়ে যুবলীগ-সেচ্ছাসেবকলীগে যাচ্ছেন অনেকে।

সর্বশেষ সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ। কিন্তু তারপর থেকে কমিটি না থাকায় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কাছে অনেকটা অবমূল্যায়ন হচ্ছে নেতৃত্বশূন্য ছাত্রলীগ। আওয়ামি লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠা গ্রুপের কারণে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে ঐক্যতা ও সঠিক নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। কমিটি না থাকায় সকলেই এখন নেতা, চলছেন যে যার মতো। ব্যাকেট বন্দী ছাত্রলীগ কেউ কারো কথা মানছে না।

একদিকে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এ সংগঠনটি জৈন্তাপুরে জৌলুশ হারাচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে বাড়ছে কোন্দল।

দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় ছাত্রলীগ থেকে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসছে না। এতে করে রাজপথ কাঁপানো কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন, আর শূন্য মাঠের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ছাত্রলীগে ঘটছে অনুপ্রবেশ। বর্তমানে দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় ছাত্রদল-শিবিরের ক্যাডাররাও ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করছে। এতে করে একদিকে যেমন সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ছাত্রলীগের ত্যাগী কর্মীরা যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছে না। কারণ সুবিধাভোগীরা এসেই বিভিন্ন স্থান জুড়ে বসেছে। সুবিধা নেওয়ার সময় অনুপ্রবেশকারীরা প্রাধান্য পায়, অথচ যারা রাজপথে থেকে দলের জন্য কাজ করেছে তারা সবসময় বঞ্চিত হয়।

নিঃসন্দেহে ছাত্রলীগই আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তি। তবে জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের এই বেহাল দশা কার স্বার্থে?

আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল একসময় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান একসময় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ৮০'দশকের বিপ্লবী ছাত্রনেতা। দলের দুর্দিনে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ পরীক্ষিত ছাত্রনেতা দিয়ে তৈরি। এখন বর্তমান ত্যাগী ছাত্রনেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন দেয়া হোক। সিলেট জেলা ছাত্রলীগ ও অভ্যন্তরীণ সকল ইউনিটে মুজিব আদর্শের ত্যাগী কর্মীদের দিয়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে ছাত্রলীগ গতিশীলতা পাবে এই আশা রাখি। জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের মেধাবী ও ত্যাগী নেতৃবৃন্দের যথাযথ মূল্যায়ন হোক।

লেখক: প্রণব দাস, জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ কর্মী।

ই/ডি