মে / ১৮ / ২০২২ ০২:৫০ অপরাহ্ন

তোফায়েল আহমেদ

জুলাই / ১৯ / ২০২০
০৮:৩২ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৮ / ২০২২
০২:৫০ অপরাহ্ন

যদি মন কাঁদে



370

Shares

‘যদি মন কাঁদে
তুমি চলে এসো, চলে এসো
এক বরষায়.....’
১৯৮৫ সালে 'এলেবেলে' বইটি পাঠ করার মধ্য দিয়েই আমার হুমায়ুন জগতে বিচরণ শুরু। অত:পর ‘নন্দিত নরকে’ এবং ‘শঙ্খনীল কারাগার’ পাঠ। তারপর আরো কতো বই পাঠ করা হলো প্রিয় লেখকের। একই সাথে অন্য লেখকদের বই পড়াও শুরু হয়ে গেল । বই পড়ার নেশাটি আমাকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ।
রসায়ন শাস্ত্রের অধ্যাপক ড. হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যিকে নাড়া দিয়েছিলেন প্রচন্ডভাবে। পাঠক সৃষ্টি করে পৌঁছে গিয়েছিলেন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। প্রিয় এই লেখক তুলে ধরতেন বিচিত্র সব গল্প  যা কী না আবার আমাদের বাস্তব জীবনের পরিচিত কাহিনী। পাঠক নিজেকে খুঁজে পেলেন হুমায়ূন আহমেদের গল্পে। আবার রসায়নের রহস্যময় এক জটিল বিষয় হল কোয়ান্টাম রসায়ন। প্রিয় লেখক কিন্তু এ বিষয়ে পাঠ্যপুস্তকও রচনা করেছেন- যা সম্মান শ্রেণির ছাত্রদের জন্য অনেক উপযোগি একটি পাঠ্যবই। শুধু লেখক হিসেবেই  নয় - টিভি নাটক, চলচ্চিত্র সব মাধ্যমেই সফল এই কৃতি লেখক। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী অনেক চলচ্চিত্র, নাটক। লিখেছেন মন ছুঁয়ে যাওয়া অনেক গানও। দেশের নানা প্রান্ত থেকে তুলে এনেছেন কতো শিল্পী, অভিনেতা, অভিনেত্রী। একটা সময় আমাদের দেশের গল্প, উপন্যাসের বাজারটা ভীনদেশের প্রকাশনা সংস্থার বইয়ের দখলে ছিল। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের পাঠকপ্রিয়তা ও নতুন পাঠক সৃষ্টিতে উনার বিস্ময়কর ভূমিকায় আমাদের দেশের প্রকাশনা শিল্পও দাঁড়িয়ে যায় বেশ ভালো করেই। প্রকাশনা শিল্পের বিকাশে এবং নতুন পাঠক সমাজ সৃষ্টি হওয়াতে আমাদের সাহিত্য জগতেও প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন অনেক লেখক। সত্যিই, তুখোড় মেধাবী লেখক হুমায়ূন আহমেদ বহুমাত্রিকভাবে আমাদের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগতকে সমৃদ্ধ করে গিয়েছেন। পেয়েছিলেন বাংলা একাডেমী পুরস্কার, স্বাধীনতা পদক ও  জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ।
তিনি ভালোবাসতেন মানুষকে, প্রকৃতিকে। বৃষ্টি আর জোছনা ছিল উনার অনেক আপন। বৃষ্টি আর জোছনার রূপকে মানুষের মনে গেঁথে দিয়েছিলেন প্রিয় এই লেখক। তাইতো এই বর্ষায় বৃষ্টি চেয়ে আছে- কে তাকে আপন করে নিবে, জোছনা খুঁজছে কোথায় তার প্রিয়জন! কেয়া আছে তার সুরভী নিয়ে, সর্বজয়া আছে তার রঙ নিয়ে - কখন আসবেন তিনি ?

না, প্রিয় এই মানুষটি আর ফিরে আসবেন না। সব ভালোবাসাকে সাথে নিয়ে তিনি চলে গেছেন অনন্ত নক্ষত্রবীথিপরে- অনেক অনেক দূরে। আজ আমাদের প্রিয় এই লেখকের মৃত্যুবার্ষিকী। অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রিয় লেখকের স্মৃতির প্রতি।

লেখক: সহযোগি অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগ, এম সি কলেজ, সিলেট।

তোফায়েল আহমেদ

জুলাই / ১৯ / ২০২০
০৮:৩২ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৮ / ২০২২
০২:৫০ অপরাহ্ন

পাঠকের কথা