মে / ১৮ / ২০২২ ০৪:৫০ অপরাহ্ন

মুহাম্মদ মনজুর আল বাছেত

জুন / ২৬ / ২০২০
০৬:২২ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৮ / ২০২২
০৪:৫০ অপরাহ্ন

ওপা‌রে ভা‌লো থাক‌বেন কামরান ভাই



288

Shares

প‌রিচয় হয়েছিল অনেকদিন আগে। আমি তখন কলেজে পড়ি। আমরা কয়েকজন বন্ধু সিদ্ধান্ত নিলাম সামা‌জিক দায়বদ্ধতা থে‌কে কিছু একটা করবো। আমরা সবাই ছাত্র মানুষ। একসময় মনের ভিতরের স্বপ্ন ছি‌লো। প্রয়াত বন্ধু সি.এম  মারুফ ও অরুপ শ্যাম বাপ্পির সা‌থে আলাপচা‌রিতায় আমা‌দের স্ব‌প্নের বাস্তবায়ন শুরু হ‌লো।

সময়ের প্রয়োজনে জন্ম নিলো ধমনী না‌মের এক সংগঠ‌নের। স্বেচ্ছায় রক্তদান মূলক সংগঠন। সভাপতি ছিলাম আ‌মি। সিদ্ধান্ত হলো উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে। একটি নামের তালিকা করা হলো। সেই তালিকায় তৎকালীন পৌরপিতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সাহেবের নাম ছিলো এক নম্বরে।

তরিৎকর্মা বন্ধু  বাপ্পি সময় নিলো কামরান ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ এর ব্যবস্থা করার। আমরা ছোট একটি টীম নিয়ে গেলাম উনার অফিসে। সেখানে গিয়ে বুঝলাম এবং দেখলাম আমাদের জন্য তিনি অপেক্ষায় আছেন। উনার পিএস আমাদের দেখে বললো স্যার বলেছেন আপনারা আসার সাথে সাথে উনার কামরায় পাঠনোর জন্য এবং আমরা বের না হওয়া পর্যন্ত অন্য কেউ যেনো না আসে। আমরা রুমে ঢুকতেই চেয়ার ছেড়ে উঠে  আমাদের স্বাগত জানালেন। নিজে বসলেন আমাদেরও বসতে বললেন। কুশলাদি বিনিময়ের পরে আমাদের কথা শুনার আগ্রহ প্রকাশ করলেন। কথা শুরু করলো বাপ্পি ও মারুফ। কার্যকরি কমিটির কথা বলা হলো। সভাপতি  হিসেবে আমাকে পরিচয় করানো হলো। আমি ধমনীর  সিদ্ধান্ত মোতাবেক কামরান ভাই কে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা  হিসাবে সম্মতি দেয়ার জন্য অনুরোধ করলে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।বলেন তোমরা এই বয়সে রক্তদান মূলক সংগঠন ধমনী  করেছ আর আমাকে তোমাদের সাথে সম্পৃক্ত করে এই মহান কার্যক্রমে কাজ করার সুযোগ দেয়ায় আমি আনন্দিত।

মানু‌ষের জীবন বাঁচা‌তে র‌ক্তের কি প্র‌য়োজন, সেটা সবাই জা‌নেন। আমরা যে সময় সংগঠন‌টি ক‌রি তখন রক্তদা‌নের ক্ষে‌ত্রে মানু‌ষের উৎসাহ, স‌চেতনতা তেমন ‌ছিল না। কিন্তু কামরান ভাই রক্তদা‌নে আমা‌দের উ‌দ্যোগ‌টি‌কে ঐসময় যে আন্ত‌রিকতার সা‌থে নি‌লেন, এটা ভুলার নয়। জনগ‌নের জন্য ভা‌লো কিছু করার যে তা‌গিদ সেটা ছাত্রাবস্থা‌তেই  বু‌ঝতে পে‌রে‌ছিলাম। সেই থেকে বদর উ‌দ্দিন আহমদ কামরান ভাইর সা‌থে আমার সাথে ঘনিষ্ঠতা। এরপরে স্বেচ্ছায় রক্তদান মূলক সংগঠন ধমনী'র যে কোন কার্যক্রমে উনার উপস্থিতি ছিলো সবসময়।

কামরান ভাই‌য়ের পরিপাটি ড্রেস, গোফ, হাসি মাখা মূখে সবসময় উনার আন্ত‌রিকতার ছাপ পাওয়া যেত।। অতি সাধারণের মধ্যে অসাধারণ প্রিয় কামরান ভাই সবসময়ই একই রকম। 

২০০৪ সা‌লে ২ বার গ্রেনেড হামলার শিকার হলেন। সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও  হা‌রান ঘ‌নিষ্ট বন্ধু ইব্রা‌হিম‌ ভাই‌কে। তি‌নি গুরুতর  আহত হন হামলায়। তারপরও সাহসী ও দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ কামরান ভাই দমে যাননি।  গ্রে‌নে‌ডের ভয় দে‌খি‌য়ে তা‌কে জনতার জন্য রাজনী‌তি থে‌কে সরা‌নো যায়‌নি।

রোটারি ক্লাবের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমরা কামরান ভাই‌কে অ‌তি‌থি হি‌সে‌বে পেয়ে‌ছি অসংখ্যবার। তি‌নি রাজনী‌তির বাই‌রে যে‌কোন অনুষ্ঠা‌নে যে‌কোন বিষ‌য়ে বক্তৃতাও দিতেন চমৎকার। পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াত  ছিলো অন্যরকম সুন্দর। 

মাঝে মধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হোক খেলা কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনার জন‌সভা, গান গেয়ে বাজিমাত করতেন। আনন্দে এবং  আনন্দে ভাসিয়ে দিতেন সবাইকে।

২০০০ সা‌লের ১৪ এ‌প্রিল ভোরের কাগজ পাঠক ফোরামের পহেলা বৈশাখ এর অনুষ্ঠান আ‌য়োজন ক‌রে‌ছিলাম লাক্কাতুরা গল্ফ ক্লা‌বে। 'চড়ুইভাতি" অনুষ্ঠা‌নেও শত ব্যস্ততার মা‌ঝেও তি‌নি আমা‌দের সা‌থে যোগ ‌দি‌য়ে‌ছি‌লেন। এ‌সেই স্বাগতঃ বক্তব্য দিয়ে বললেন আমি আজ গান গেয়ে বিদায় নেবো আপনাদের এই আয়োজন থেকো এবং তাই করলেন। আমরা অভিভূত। উনার গানের কন্ঠও  চমৎকার। 

ডঃ হুমায়ূন আহমেদ এর ভক্ত সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আর গান গেয়ে বাজিমাত করতেন সবসময়। না নিজস্ব ভংগিতে গাই‌তেন

" একটা ছিলো সোনার কন্যা........

 মেঘ বরন কেশ.....  

ভাটী অঞ্চ‌লে ছিলো সেই কন্যার দেশ

দু চোখে তার আহা কি জে মায়া.......

অথবা সুবীর নন্দীর ভক্ত প্রিয় কামরান ভাই  আর গেয়ে উঠবেন না....

"বন্ধু হতে চেয়ে আ‌মি শত্রু ব‌লে গন্য হলাম। 

আর কখনো গেয়ে উঠবেন না শাহ আব্দুল করিম এর  "ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূর পংখী নাউ"!!

পরকালে ভালো থাকবেন প্রিয় বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ভাই।

 

 

লেখক: মুহাম্মদ মনজুর আল বাছেত, রোটা‌রিয়ান।

 

 

 

মুহাম্মদ মনজুর আল বাছেত

জুন / ২৬ / ২০২০
০৬:২২ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৮ / ২০২২
০৪:৫০ অপরাহ্ন

পাঠকের কথা