মে / ১৮ / ২০২২ ০৪:৪৪ অপরাহ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

জানুয়ারী / ০৯ / ২০২২
০১:২৮ পূর্বাহ্ন

আপডেট : মে / ১৮ / ২০২২
০৪:৪৪ অপরাহ্ন

১৮ বছর ধরে কারারক্ষীর চাকরি করছেন একই নামের অন্যজন



163

Shares

১৮ বছর আগে সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন জহিরুল ইসলাম এশু (৩৮) নামের এক ব্যক্তি। তিনি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভার জয়পাশা গ্রামের বাসিন্দা। জালিয়াতির মাধ্যমে তারই নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে কারারক্ষীর ওই পদে চাকরি করে আসছেন কুমিল্লার জহিরুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে কর্মরত রয়েছেন তিনি। তবে কুলাউড়ার জহিরুল ইসলাম এশু এর কিছুই জানতেন না। কয়েকদিন আগে পৌর কাউন্সিলরের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত তদন্তকালে বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এদিকে চাকরি ফিরে পাবার জন্য গত ৩রা জানুয়ারি সিলেটের কারা উপ-মহাপরিদর্শক বরাবরে একটি লিখিত আবেদন দেন জহিরুল ইসলাম এশু। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করা হলে তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সিলেটের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. কামাল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য দুই সদস্যরা হলেন, খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের জেলার এজি মাহমুদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন। জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম এশু কুলাউড়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের জয়পাশা এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তিনি পার্শ্ববর্তী জয়চণ্ডী ইউনিয়নের কামারকান্দি এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি সরকারি চাকরি না পেয়ে কুলাউড়া বাজারে একটি ক্ষুদ্র কাপড়ের দোকান দিয়ে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ২০০৩ সালে জহিরুল ইসলাম এশু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে কারারক্ষী পদে চাকরির জন্য সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে শারীরিক ফিটনেস দেন এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে নিয়োগের বিষয়ে কুলাউড়া থানা থেকে অধিকতর তদন্ত করা হয়। তবে চাকরির যোগদানপত্র তার কাছে পৌঁছায়নি। যোগদানপত্র না পাওয়ায় তিনি চাকরির আশা ছেড়ে দেন। কুলাউড়া বাজারে  শুরু করেন কাপড়ের ব্যবসা। গত বছরের ৮ই ডিসেম্বর কারারক্ষী ক্রমিক নম্বর ২২০১৪নং মূলে জহিরুল ইসলাম এশু চাকরি করেন মর্মে কুলাউড়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম খান খসরুর কাছে সিলেটের কারা উপ-মহাপরিদর্শক কার্যালয় থেকে একটি চিঠি আসে। কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম খান খসরু চিঠিটি পেয়ে একটি প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে জহিরুল ইসলাম এশুকে জানান। প্রত্যয়নপত্রটি পেয়ে জহিরুল ইসলাম এশু কারারক্ষী পদে চাকরি করেন না এবং তার নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে কে বা কারা চাকরি করছেন এই বিষয়টি কাউন্সিলরকে জানান। পাশাপাশি তিনি গত ২৬শে ডিসেম্বর কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। ভুয়া জহিরুল ইসলামকে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম এশু গত ২২শে ডিসেম্বর সিলেটের ডিআইজি’র সঙ্গে দেখা করে চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য মৌখিক আবেদন করেন। এদিকে বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে কর্মরত জহিরুল ইসলাম পরিচয়ধারী ওই ব্যক্তি বলেন, আমার বাড়ি কুমিল্লায়। কুলাউড়ার ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সিলেটের ডিআইজি প্রিজনকে আমার সকল কাগজাদি জমা দিয়েছি। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম এশু বলেন, আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় সিলেট কারাগার থেকে আমার ঠিকানায় অধিকতর তদন্ত করা হয়। ভেবেছিলাম আমি চাকরি পাবো। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আমার যোগদানপত্র না আসায় আমি চাকরিতে যোগদান করতে পারিনি। যখন আমার কাছে পৌরসভা থেকে চিঠি আসে তখন আমি এ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারি। এখন আমি আমার সেই চাকরিটা ফিরে পেতে চাই।
এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের জেলার এজি মাহমুদ বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। জহিরুল ইসলাম নামে যে ব্যক্তি চাকরি করছেন তার প্রকৃত নাম ও ঠিকানা সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। যদি একই নামে দু’জন হয় তাহলে তদন্ত করে প্রকৃত ব্যক্তি যাতে চাকরি পায় আমরা সেটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় রাখবো।

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

জানুয়ারী / ০৯ / ২০২২
০১:২৮ পূর্বাহ্ন

আপডেট : মে / ১৮ / ২০২২
০৪:৪৪ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজার